মাকসুদা আখতার প্রিয়তি। ছবি : আজকের পত্রিকা

মিস আয়ারল্যান্ড খ্যাত বাংলাদেশি মডেল ও অভিনেত্রী মাকসুদা আখতার প্রিয়তীর ‘প্রিয়তীর আয়না’ নামের আত্মজীবনীমূলক একটি বই আজ এসেছে বই মেলায়। #Metoo আন্দোলনে বাংলাদেশে প্রথম মুখ খুলে আলোচনায় থাকা প্রিয়তির বাংলা ভাষায় এটিই প্রথম বই। এই বই নিয়েই আয়ারল্যাল্যান্ডে তৈরি হচ্ছে একটি চলচ্চিত্র। পুরোপুরি প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নিজের জীবন কাহিনি নিয়ে লেখা বইটি, ১৮ বছরের নিচের কাউকে না কেনার অনুরোধ জানিয়েছেন প্রিয়তী। এসব বিষয় নিয়ে আজকের পত্রিকা’র মুখোমুখি হয়েছেন মাকসুদা আখতার প্রিয়তী।

আজকের পত্রিকা : বইয়ের নাম কেন প্রিয়তীর আয়না?

প্রিয়তী : কারণ এটি আমার জীবনের প্রতিচ্ছবি। আমি যখন বইটি লিখি নিজেকে নতুন করে আবার দেখতে পাই যে আমার পিছনের সময়গুলো কেমন ছিল আর আজকে আমি কোন জায়গায় এসেছি। বইটিতে দেশ ও দেশের বাইরের হাজারো নারী যখন গল্পগুলো পড়বে তখন নিজেদের প্রতিচ্ছবি দেখতে পাবে। এটা শুধু আমার আয়না না সকল সংগ্রামীদের আয়না।
আজকের পত্রিকা : বইটি কেন ১৮+ দের জন্য?
প্রিয়তী : আমি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সময় কাটিয়েছি আয়ারল্যান্ডে। আমি কাজ,নিময়-কানুন যাই বলেন না কেন সব আইরিশ বা ইউরোপিয়ান নিয়ম মেনে অভ্যস্ত। ওদের থেকে আমি শিখেছি ওরা প্রত্যেকটা কাজ এক একটা সময় বা বয়স ভেদে করে। যেমন ওরা যখন একটা সিনেমা তৈরি করে সেটা কত থেকে কত বছর বয়সের মানুষের জন্য সেটা ভাগ করে দেয়। সেই অনুযায়ী আমি আমার বইটা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য লিখেছি সেটা সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে জানানোর প্রয়োজন ছিল বইটি ১৮+ দের জন্য তাই জানিয়েছি। যাতে এরপরে আমাকে কোনো অভিযোগ না নিতে হয়। আমি এর সাথে এটাও অনুরোধ করেছি যদি কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক বইটি কিনতে আগ্রহী হয় যাতে বাবা মায়ের অনুমতি নিয়ে বইটি কেনে। তবে তার মানে এই না যে এটা কোনো যৌন উসকানি মূলক বই।
আজকের পত্রিকা : বইয়ে কী এমন লিখেছেন যা অপ্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য না?
প্রিয়তী : আমাদের সবগুলো ব্যাপারে ভালো দিক আছে আবার খারাপ দিক আছে। আমরা যদি মনে করি প্রত্যেকটি জিনিসের ভালো দিকটা নেবো তাহলে আমরা নিতে পারি। কিন্তু স্বাভাবিকভাবে আমাদের মস্তিষ্ক কেন জানি খারাপ বিষয়গুলো আগে গ্রহণ করতে চায়। এই যেমন আমরা খারাপ কিছুর জন্য পশ্চিমাদের দোষ দেই, কিন্তু সেখানে কিন্তু অনেক ভালো কিছু হচ্ছে। আমার বইতে আমি এমন কিছু লিখেছি সচেতনা বৃদ্ধির জন্য। আমার সঙ্গে যে ভুলগুলো হয়েছে, না জানার কারণে যে অ্যাকসিডেন্ট হয়েছে মানুষ পড়ে যাতে জানতে পারে সেই সাথে সতর্ক হয়ে যায়। এখন সেক্ষেত্রে অপ্রাপ্তবয়স্কদের যাদের উড়তি বয়স একটা ঘোরের মধ্যে থাকে তারা ব্যাপারটা মজা বা নেগেটিভভাবে নিতে পারে। তবে ওরা এখান থেকে শিখতে পারে। যারা নেগেটিভভাবে নেবে তাদের জন্য বলেছি বইটি অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য না। আমি কিন্তু বলছি না ওরা একদম পড়তে পারবে না, যারা মেধাবী তারা শিখতে পারবে এই বই থেকে।

মাকসুদা আখতার প্রিয়তি। ছবি : আজকের পত্রিকা

আজকের পত্রিকা : কতদিনে লিখেছেন এ বই?
প্রিয়তী : যখন থেকে মিস আয়ারল্যান্ড হলাম, বাংলাদেশের মিডিয়া সাপোট দেওয়া শুরু করল তখন থেকে অনেকেই বলতো তোমার বই লেখা উচিত। তোমার জীবনের সংগ্রামের গল্প, যেভাবে মিস আয়ারল্যান্ড হলাল, যেভাবে নিজের একটা জায়গা করে নিয়েছো এগুলো একটা বইতে লিখে রাখতে পার। তবে তখনও আমি প্রস্তুত ছিলাম না। এর মাঝে মাঝে আমি আবার আমার ফেসবুকে লিখতাম তখনও অনেকেই বলতো তুমি বই লিখো। এর মাঝে দেশ পাবলিকেশন্স এর প্রকাশক অচিন্ত চয়ন আমাকে বলতো আপনার লেখাগুলো আমাকে দেন। তখনও আমি ভাবিনি আমি বই লিখবো। এরপর ২০১৭ সালে আবদুর নূর তুষার ভাই বললেন তোমার ছেলে মেয়েদের মটিভেশের জন্য বইটি লেখা উচিত। তারপর থেকে আমি ব্যপাটা সিরিয়াসভাবে নিই। সেই হিসেবে আমি লেখা শুরু করেছি ২০১৭ থেকে। ২০১৮ সালেই আমার বইটি বইমেলায় প্রকাশ হওয়ার কথা ছিল। কোনো একটা কারণে বইটি তখন প্রকাশ হয়নি। তারপর আমি ভেবেছি হয়তো বইটি আর আমার লেখা হবে না। কারণ বইটি ২০১৮ যখন হারিয়ে যায় আমার সাহস হচ্ছিলো না আবার জীবনের ব্যথাগুলো আবার মনে করে লিখতে। এরপর আমি ৮ মাস সময় নিয়েছি। তারপর আবার কান্নার মধ্যে বই ভিজিয়ে আধা আধা লেখা শেষ করেছি।
আজকের পত্রিকা : বইটি আত্মজীবনীমূলক। কতটুকু লিখেছেন জীবনের?
প্রিয়তী : এই বইটিতে আমি আমার জীবনের একটা অধ্যায় পর্যন্ত লিখেছি। যদি সবার ভালোবাসা থাকে, পাঠকরা যদি আমাকে নিয়ে আরও জানতে চায় বা সেই আগ্রহ থাকে তবে আমি আবার আমার দ্বিতীয় পর্ব লিখবো।
আজকের পত্রিকা : বইটি পাঠক কেন কিনবেন?
প্রিয়তী : যারা সচেতন হতে চান, যারা আমাদের সমাজের যে অন্ধকার জগত আছে যেগুলো আমরা জানি না বা জানতে চাইনা তারা নিজের পরিবারকে সচেতন করতে বইটি কিনবেন। বইটি পাঠকে মটিভেট করবে,আমি মনে করি অনুপ্রেরণা জোগাবে। আমি চাই পাঠক বইটি পড়ুক পড়ে নিজেরাই অনুধাবন করুক।
আজকের পত্রিকা : এ বই আত্মজীবনীমূলক নাকি প্রতিবাদ?
প্রিয়তী : জীবন মানেই যুদ্ধ আর যুদ্ধ মানেই প্রতিবাদ। আমি যদি জীবনের কিছু কিছু অধ্যায়ে প্রতিবাদ না করতাম তাহলে আজ হয়তো এখানে বসে কথা বলতে পারতাম না। সে হিসেবে বইটি শুধু প্রতিবাদ না এটা আমার জীবনের গল্প।
আজকের পত্রিকা : হুমকি পেয়েছেন নাকি বই নিয়ে?
প্রিয়তী : আসলে বইটা নিয়ে অনেকেই ভয় পাচ্ছে। অনেকেই মনে করছে বইটা তাদের জীবনে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে,আবার অনেকেই ভাবছে বইটি ধর্ম বিরোধী বই। আমি পরিষ্কার করে বলে দিতে চাই, আমার বই ধর্ম রিবোধী কোনো কনন্টেন নেই, আর আমি আমার বইতে কারো নাম, কারো পরিচয় উল্লেখ্য করিনি। কারণ এটা আমার বই, বইটা এক তরফা কারো আত্মপক্ষ সমর্থন করার সুযোগ নেই। আর হ্যাঁ হুমকি পেয়েছি, পাচ্ছি।

এক নজরে
বইয়ের নাম : প্রিয়তীর আয়না
প্রকাশক : দেশ পাবলিকেশন্স
বইমেলায় স্টল নং : ৩৮৮-৩৮৯
বইটির মূল্য : ৬৭৫ টাকা

ভিডিও’তে দেখুন প্রিয়তীর বই কেন ১৮+ ?

আজকের পত্রিকা/এমআরএস