মাহমুদ উল্লাহ্‌
বিজনেস করেসপন্ডেন্ট

কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: ইউনূস সোশ্যাল বিজনেস সেন্টার

কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে নোবেল লরিয়েট প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস সম্প্রতি সেখানে অনুষ্ঠিত ‘আস্তানা অর্থনৈতিক ফোরাম’-এ যোগদান করেন। আস্তানা অর্থনৈতিক ফোরাম একটি মর্যাদাশীল বৈশ্বিক ফোরাম যেখানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে সরকারী ও বেসরকারী নেতৃবৃন্দ অংশ নিয়ে থাকেন।

সফরকালে প্রফেসর ইউনূসের সাথে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর একটি সেশনে কাজাখস্তানের জন্য একটি দারিদ্র বিমোচন কৌশল বিষয়ে প্রফেসর ইউনূসের মতামত চান। এরপর কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্সিয়াল বিষয়ক মন্ত্রী ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বাকিতজান সেগিনতায়েভ তাঁর কার্যালয়ে প্রফেসর ইউনূসের সাথে একটি দীর্ঘ বৈঠক করেন যেখানে তাঁরা প্রফেসর ইউনূসের গ্রন্থ ‘A World of Three Zeroes’ -এ উত্থাপিত ইস্যুগুলো নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী সেগিনতায়েভের হাতে ছিল বইটির একটি রাশিয়ান সংস্করণ যা তিনি ইতোমধ্যেই পড়ে শেষ করেছিলেন এবং বইটিতে দেয়া পরামর্শগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তাঁর বিভিন্ন প্রশ্ন নোট আকারে লিখে রেখেছিলেন। তাঁদের মধ্যকার ৯০ মিনিটের এই বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, কাজাখস্তানে ‘গ্রামীণ আমেরিকা’র মডেলে ও ইউনূস সেন্টারের সাথে একটি জয়েন্ট ভেঞ্চার হিসেবে ‘গ্রামীণ কাজাখস্তান’ প্রতিষ্ঠা করা হবে। এটি হবে একটি ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক যা ব্যাংকিং লাইসেন্সের অধীনে বিশেষ করে নারী ও তরুণদেরকে উদ্যোক্তায় পরিণত করতে আর্থিক সেবা প্রদান করবে।

প্রধানমন্ত্রী সেগিনতায়েভ প্রফেসর ইউনূসকে জানান যে, আগামী জুন ২৮-২৯ ব্যাংককে অনুষ্ঠেয় ‘সামাজিক ব্যবসা দিবস’-এ তিনি একটি প্রতিনিধিদল এবং গ্রামীণ কাজাখস্তান প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে বিস্তারিত চূড়ান্ত করতে ঢাকায়ও প্রতিনিধিদল পাঠাবেন। তিনি প্রফেসর ইউনূসকে আরো বলেন যে, তিনি কাজাখস্তানের নেতৃস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সামাজিক ব্যবসার তত্ত্ব ও চর্চার উপর একাডেমিক কোর্স চালু করার জন্য তাদের স্ব-স্ব ক্যাম্পাসে ‘ইউনূস সোশ্যাল বিজনেস সেন্টার’ প্রতিষ্ঠায় উদ্বুদ্ধ করবেন। সম্মেলন চলাকালে কাজাখস্তানের বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের সাথে প্রফেসর ইউনূসের একটি পৃথক সেশন অনুষ্ঠিত হয় যেখানে তাঁর ভাষণ শুনতে বিপুল সংখ্যক ছাত্র সমবেত হয়। সম্মেলন শেষে বহু মানুষ প্রফেসর ইউনূসের গ্রন্থ ‘A World of Three Zeroes’ এর রাশিয়ান সংস্করণের কপিতে, যা কিনা সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে, তাঁর স্বাক্ষরের জন্য তাঁকে ঘিরে ধরে।

১৭ মে প্রফেসর ইউনূস জার্মানীর উইসবাডেনে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ‘ফ্রেন্ডস অব সোশ্যাল বিজনেস’ ফোরামে ভাষণ দেন। এবারের ফোরামের বিষয়বস্তু ছিল ‘দি পাওয়ার অব সলিডারিটি।’ ফোরামে বিভিন্ন সামজিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয় এবং এসব সমস্যার টেকসই সামাজিক ও বৈশ্বিক সমাধানের উপায় উপস্থাপন করা হয়।

সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিষ্ঠাতা পিটার আইগেন, ক্রিয়েটিভ মিডিয়া ডিরেক্টর হ্যান্স রিট্জ, ভক্সওয়াগন অটোমোবাইল কোম্পানীর ডিরেক্টর অব সোশ্যাল ইনোভেশন নারি কাহলে, আফ্রিকা গ্রীণ এর টরস্টেন ভাইবার, ডিজিটাল হেলথ ক্রিয়েটিভ এর মানুকেহর শামসরিজিন, ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টরী এর ডার্ক স্যান্ডার ও অলিভার কুশেল, আরস্ট্রম গেনোকেমশাফট এর ফিলিপ ভাইট, ইউনূস সোশ্যাল বিজনেস হোমপোর্ট এর ক্রিস্টিনা জেগার, ড্যানিয়েল নোয়াক ও ডমিনিক হফম্যান, আরএন্ডভি একাডেমীর আন্দ্রে ডোয়ের্ফলের, সাসটেইনেবল ইকোনমিক ফোরাম এর মাইকেল ব্রম ও ফ্রিট্জ লিয়েট্শ, ভেরেনা রিশেল ও অনেকে। ফোরামের আয়োজনে সহায়তা করে জার্মানীর মর্যাদাশীল রাফাইসেন ব্যাংকের বীমা শাখা আরএন্ডভি।

এছাড়াও প্রফেসর ইউনূস ক্যাসেল ফ্রয়ডেনবার্গ গার্ডেনে একটি জন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেন যেখানে তিনি সামাজিক ব্যবসার মূল বার্তা নেতৃস্থানীয় শ্রোতাদের কাছে তুলে ধরেন। শ্রোতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন ফেডারেল মন্ত্রী হাইডে ম্যারি, জনপ্রিয় ফরাসী পত্রিকা লে মোঁন্ড এর প্রখ্যাত কার্টুনিস্ট প্লানটু এবং উইসবাডেনের বর্তমান ও প্রাক্তন মেয়রগণ। ১৯ মে ২০১৯ প্রফেসর ইউনূস উইসবাডেনে রোটারী ক্লাব রাইন-মেইনের একটি বিশেষ সভায় বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে যোগ দেন যেখানে ক্লাবটি তাঁকে সম্মানসূচক সদস্যপদ প্রদান করে। প্রফেসর ইউনূসের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ক্লাবটি স্থানীয় অর্থনীতি বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে বিশেষভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ক্লাবটি উইসবাডেনের বিশিষ্ট স্থানীয় সংগঠন ‘সোশ্যাল বিজনেস উইমেন’ এর প্রতি সর্বপ্রথম তার সমর্থন ঘোষণা করে। উল্লেখ্য যে, প্রফেসর ইউনূস এই সংগঠনটির পৃষ্ঠপোষক।

আজকের পত্রিকা/এমইউ/এমএইচএস