আপনি যেখানে কাজ করছেন তা হতে হবে স্বস্তির স্থান। ছবি: সংগৃহীত

আপনি যেখানে কাজ করছেন তা হতে হবে স্বস্তির স্থান, এবং এই পরিবেশ অবশ্যই নিজের তৈরি করে নিতে হবে। তারপরও অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে বিভিন্ন ধরনের চাপ, এবং এর ফলে হতাশা আপনার উপর ভর করতে পারে। সমস্যা হলে তার সমাধানও আছে। হতাশার ফলে আপনার কাজের উপর কোনো প্রকার প্রভাব পড়লে এবং তা অবহেলা করলে সেটা হবে মারাত্মক ভুল। আত্মবিশ্বাস ও ব্যক্তিত্ব দিয়ে এ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রান পাওয়া সম্ভব।

হতাশা এবং রিচার্জ

কাজের ক্ষেত্রে নিজেকে প্রমাণ করা এবং নিজেকে আরো উপরে উঠিয়ে নেওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে যখন কিনা পরিবেশে অতিরিক্ত চাপ থাকে। এ সময় সবচে বেশি যেই জিনিসটা অনুভূত হয় তা হলো ‘হতাশা’ । হতাশ বোধ হলেই নিজেকে প্রচণ্ড ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত এবং অবসাদগ্রস্ত লাগে। অফিসে হতাশা নিয়ে কাজ করা প্রাণোচ্ছলের বিপরীত। এই চাপের মধ্য থেকেও নিজেকে হতাশা থেকে উত্তোলন করা সম্ভব। নিজেকে সন্তুষ্ট রেখে ৯টা-৫টা কাজ করার জন্য যা যা প্রয়োজন, জেনে নিন-

মনস্থির করা

কাঙ্ক্ষিত আউটপুট দিতে গিয়ে নিজের প্রতিভাকেই আমরা ভুলে যাই। ছবি: সংগৃহীত

প্রায়ই দেখা যায় অফিসে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত সময় দিতে হয়। সপ্তাহে ৫০ ঘন্টার বেশি অফিসের কাজ করলে ক্লান্ত হয়ে পড়াটাই স্বাভাবিক। তবে এর থেকে বের হয়ে আসাও যায়। নিজের উপর বিশ্বাস রাখাটা এক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরী। কাঙ্ক্ষিত আউটপুট দিতে গিয়ে নিজের প্রতিভাকেই আমরা ভুলে যাই। মনস্থির করা এবং উদ্বেগমুক্ত হওয়ার সর্বোত্তম উপায় হলো ‘ধ্যান’ করা। এর মানে এই না- সব ফেলে দিয়ে নির্জন কোথাও চলে যেতে হবে। এই ধ্যানের মানে হল নিজের মন ও শরীরকে শিথিলকরণ। জিম অথবা যোগ ব্যায়াম মনের ভার হালকা করতে যথেষ্ট সাহায্য করে।

অগ্রাধিকার বেছে নেয়া

অনেক কাজ হাতে, তাই বলে আতঙ্ক বা উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। বুঝে নিন কোনটা আগে করতে হবে, কোনটা আগে করা জরুরী এবং উচিত। সেই অনুযায়ী নিজের কাজ গুছিয়ে নিন। সব কাজ একবারে হাতে নিয়ে কোনো আউটপুট বের হবে না, বরং সব জগাখিচুড়ি হয়ে যাবে। গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো শেষ করতে পারলে নিজেরই এক ধরনের সন্তুষ্টি পাওয়া যায়।

কালক্ষেপণ না করা

নিজেকে সেরা প্রমান করতে নিয়ে সব কাজ নিজের হাতে নেয়াটা নিছক বোকামি। ছবি: সংগৃহীত

প্রচণ্ড চাপ, স্বল্প সময়সীমা এ নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ে মাথায় হাত দিতে বসে থাকলে চলবে না। মাথায় খাটান। সময় চলে গেলে তা আর আনা সম্ভব না। সময়ের কাজ সময়ে করে ফেললেই চাপটা একটু কম হয়। কাজ জমিয়ে রাখলে, জমেই থাকবে। শেষ আর হবে না। মনে রাখতে হবে, কাজ নির্ধারিত সময়ে সম্পাদন করা আপনারই দায়িত্ব।

কাজ ভাগ করে নেওয়া

নিজেকে সেরা প্রমাণ করতে গিয়ে সব কাজ নিজের হাতে নেওয়াটা নিছক বোকামি। যার যা দায়িত্ব, তাকে তা বুঝিয়ে দেওয়া এবং তা নিয়ন্ত্রণ করাটাও একটা গুরুদায়িত্ব।

আজকের পত্রিকা/রিয়া/সিফাত