হেনরী স্বপন। ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

দমনমূলক ডিজিটাল আইন বাতিল ও কবি হেনরী স্বপনের মুক্তির দাবিতে ১৫ মে বুধবার বিকেল চারটায় শাহবাগে কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত। সমাবেশের উদ্যোক্তা হিসেবে আছে নিপীড়নের বিরুদ্ধে শাহবাগ।

১৪ মে সকালে বরিশাল কোতয়ালী থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৭, ২৮, ২৯ ও ৩১, ধারায় কবি হেনরী স্বপনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে মামলা করা হয়। এরপরই কবি হেনরীকে গ্রেফতার করে পুলিশ, বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোতয়ালী থানার এএসআই মাসুম বিল্লাহ। পরে তাকে কোর্টে প্রেরণ করা হয়।

আদালতের হাজতখানায় বসে হেনরী স্বপন জানান, মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক ২টায় কোতোয়ালী মডেল থানার উপ পরিদর্শক আল মামুন, হাসান ও রাকিবসহ চারজন পুলিশ কর্মকর্তা সাদা পোশাকে তার বাসায় যান। ওই চার পুলিশ কর্মকর্তা তাকে কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি নুরুল ইসলামের বরাত দিয়ে জানান ‘স্যার আপনাকে যেতে বলেছেন’। এরপরই সাদা পোশাকে থাকা ওই চার পুলিশ মোটরসাইকেলে করে হেনরী স্বপনকে থানায় না নিয়ে সরাসরি নিয়ে যান মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের হাজতখানায়। বিকাল ৫টায় আদালতের নির্দেশে হেনরী স্বপনকে কারাগারে পাঠানো হয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এপ্রিল মাসের ২৩ তারিখ শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ হামলা পরবর্তী একটি স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে নিজ (খ্রীস্টান) সম্প্রদায়ের সঙ্গে হেনরি স্বপনের বিরোধ দেখা দেয়। ওই স্ট্যাটাসটিতে বরিশাল ক্যাথলিক বিশপ লরেন্স সুব্রত হাওলাদারকে উদ্দেশ্য করে হেনরী স্বপন শিরোনাম দিয়েছিলেন ‘রোম যখন পুড়ছে বিশপ সুব্রত তখন বাঁশি বাজাচ্ছে’। পাঠকদের জন্য হেনরী স্বপনের সেদিনের স্ট্যাটাসটি তুলে দেওয়া হলো-

‌‌‌‍”রোম যখন পুড়ছে বিশপ সুব্রত তখন বাঁশি বাজাচ্ছে।
——————————————
রোম যখন পুড়ছিল তখন সম্রাট নিরো নাকি বাঁশি বাজাচ্ছিল। শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর গির্জায় আত্মঘাতী হামলায় শত শত মানুষ নিহতের অকস্মিকতায় যখন শোকস্তব্দ বিশ্ববাসী, তখন বরিশাল কাথলিক ডাইওসিসের বিশপ লরেন্স সুব্রত হাওলাদার চার্চ চত্বরে করছেন সাংস্কৃতিক আনুষ্ঠান।

গতকাল, ২২ এপ্রিল, বরিশাল কাথলিক ডাইওসিসের বিশপ লরেন্স সুব্রত হাওলাদার বিভাগীয় শহর বরিশাল ধর্মপল্লির সকল পুরোহিত, সিস্টার, ব্রাদার এবং সাধারণ খ্রিষ্টভক্তদের নিয়ে ডাইওসিসের হলরুমে নাচ, গান এবং ব্যান্ড শো এর মাধ্যমে মনোজ্ঞ এক সাংস্কৃতিক আনুষ্ঠান করেন। শ্রীলঙ্কার খ্রিস্ট সমাজের এই সঙ্কটময় মুহূর্তে বরিশাল কাথলিক ডাইওসিসের এ রকম আয়োজনকে রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজ এবং জামে কসাই মসজিদের ইমাম ও বরিশালের সকল নেতৃবৃন্দ এটিকে দু:খজনক ঘটনা বলে আখ্যায়িত করেছেন।”

এর আগে ১১ মে শনিবার রাতে অজ্ঞাতনামা কয়েকজন দুর্বৃত্ত কবির বরিশালের বাসভবনে গিয়ে এ প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এ সময় তারা কবিকে বরিশাল ত্যাগেরও হুমকি দিয়েছিল। এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন তিনি। সংবাদ মাধ্যমগুলো তথ্যসূত্রে জানা যায়, শনিবার নগরীর নবগ্রাম রোডের খ্রিস্টান কলোনিতে অবস্থিত বাসার কক্ষে বসে লেখালেখি করছিলেন হেনরী। এ সময় আনুমানিক রাত আড়াইটার দিকে বাসার জানালায় দাড়িয়ে অজ্ঞাত দুই ব্যক্তি তাকে উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ দেয়।

পাশাপাশি স্বগোত্রীয় (খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী) লোকদের বিরুদ্ধে লেখালেখি বন্ধের নির্দেশ দেয় তারা। এর ব্যতিক্রম ঘটলে তাকে হত্যা করা হবে- এমন হুমকির অভিযোগ করেছেন হেনরী। এ সময় কবি চিৎকার শুরু করলে ওই দুই দুর্বৃত্ত সেখান থেকে দ্রুতই পালিয়ে যায়।

হেনরী স্বপন দীর্ঘদিন তার লেখনীর মাধ্যমে সমাজের নানা অসঙ্গতি, অন্যায়-দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার রয়েছেন। যেখানে বাদ পড়েনি স্বসম্প্রদায়, স্নেহভাজন, আস্থাভাজনসহ কেউই। তার এই সাহসিকতায় তিনি সম্প্রতি গোটা দেশব্যাপী বেশ আলোচনায় আসেন।

আজকের পত্রিকা/এমএইচএস