সুবর্ণ আদিত্যের কবিতার বই 'ফারদুন সিরিজ'। প্রচ্ছদ: তৌহিন হাসান

কবি ও সাংবাদিক সুবর্ণ আদিত্য। কিন্তু সাংবাদিক নয় বরং কবি হিসেবে পরিচয় দিতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন তিনি। দীর্ঘদিন কবি জীবন যাপনের মধ্য দিয়ে কবিতায় তিনি তারুণ্যের যে শক্তি ধরে রেখেছেন তা সত্যিই মুগ্ধ করার মতো। সেই মুগ্ধতার অংশ হিসেবে ২০১৮ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় ‘ভিন্ন চোখ’ প্রকাশনী থেকে প্রকাশ পায় তার প্রথম কবিতার বই ‘দুধ পুকুরের সিঁড়ি’। ফারদুন সিরিজ সুবর্ণ আদিত্যের দ্বিতীয় কবিতার বই। ২০১৯ সালে পেন্সিল পাবলিকেশন্স প্রকাশ করেছে। পাওয়া আচ্ছে ৫৭৩ নম্বর স্টলে। ‘ফারদুন সিরিজ’ বইটি থেকে তিনি আজকের পত্রিকার পাঠকদের জন্য ৩টি কবিতা পড়ে নেয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন।

ফুলেদের আয়ু থাকে না

সমস্ত দুপুর খুলে তোমার কোলের বারান্দায় শুয়ে থাকি। মৃত্যুর গরিমায় টালমাটাল ঘ্রাণ ময়দানে ছায়া টেনে তারস্বরে চেঁচায় অবনত বৃক্ষ। ফলের শ্বাস ও ফুলের পতনে হুক খুলে দারস্থ হয় মধ্যরাতের বিস্তারিত গল্প।

লাল লাল কোয়া নিয়ে নরম ডালে ডালিম প্রার্থনা করে শীত। যেভাবে জেগে থাকে নাগলিঙ্গম, প্রতি ভোরে। আমাকে ভালোবেসে নাকফুল পরা মেয়েটা দিন দিন যোগ্য হয়ে ওঠে, ধ্যানে। মগজের মনন থাকে, ফুলেদের আফসোস থাকে; আয়ু থাকে না।

ফারদুন—তোমাকে গোলাপ নামে ডাকা হয়ে উঠবে না?

হাড়ক্ষয় রোগ

হাসপাতালের বেডে…

নরম ইনসুলিন চলছে—আমার রক্তের ভেতর নড়েচড়ে উঠছো ফারদুন

হাড়ক্ষয় রোগ নিয়ে জন্মেছিলাম। এক স্বচ্ছ আকাশ রোদ আমাদের বাড়ি ঘিরে রাখে।

ভেতরবাড়ির উল্লাস, কাঁপনের দরজা খুলে

মা

বাবাকে

ডাকেন

দাদার আর কোনো ছেলেপুলে ছিল না

নাতির সাথে গল্প করবেন ভেবে

আমার আয়ুর বিনিময়ে প্রতিদিন

নিজেকে ইটভাটায় পোড়ান

দাদার অবশিষ্ট হাড়

বুকের পাজরে নিয়ে এখন আমি বাবার সাথে গল্প করি।

সবজিমহল

রক্তাক্ত হয়ে যাই ফারদুন—যদিও তুমি একটা প্রমাণ সাইজের

টসটসে লাল টিপ আর পরীক্ষাগারে বর্ষাই গোলাপ নাম নিয়ে দুলছো

তোমার ভেতর চলতে চলতে বন-থমকে যাওয়া ঝাঁকঝাঁক অসমতল পাখিবন্দী জীবন

দেশ কাঁধে করে আসা বেদনা-প্রসব।

এইরূপ কুয়াশাসমগ্র শীত আর শুষ্ক হয়ে আসে প্রাত্যহিক ঋতু

আরো কিছু খরার আসন্ন সংবাদে আঙুলের ছাপ নিয়ে

প্রতিবার তোমাকে লুকিয়ে ফেলি; হারিয়ে ফেলার ভয় জন্ম নিতে নিতেই তোমাকে চাষ করি

ফারদুন—কতবার বৃষ্টি এলো তারপর নানাবিধ ফুল-ফল

ঔষধি চারা, পাহাড়িয়া ঢল আর রোদের করাতকল ঘাড়ে চেপে টইটই করে

হেঁটে গেল অনাগত বিধাতা, আরো অনেক অরণ্য

বেডরুমে চিৎকার করছে থকথক ঘ্রাণ

কম্পণ, বুক হাতড়ে আসে উলঙ্গ ছাউনি, ঐ যে যাপন! বসবাস করে যাবো জীবন

মেঘ, মৌমাছি আর অন্যান্য সন্ধ্যায় দূরাগত প্রেমিক আনো—

খাড়া নহর। ফলক আর বীজঃ মই দিয়ে যাই, থোকা থোকা কাঁটায় জন্ম নেয় রক্তালু আত্মজ

সেই নিরঙ্গম শ্বাস, প্রাসঙ্গিক গরিমা আর তুলতুলে সমুদ্রে রোপন করি সুচারু পতন

ফারদুন—আমি নিরেট চাষা বলেই তুমিও চমৎকার বীজসুপ্ত সবজিমহল

আজকের পত্রিকা/সিফাত