এমন অবস্থা নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকার ২৪ নং ওয়ার্ডের দেউলী চৌরাপাড়া কবরস্থানের।

মৃত ব্যক্তির জন্য কবর খুঁড়লে পানিতে তলিয়ে যায়। এই অবস্থায় কবর দিতে হলে লাশের নিচে কলাগাছ ও বালু দিয়ে কবর দিতে হয়। তারপরও লাশের রক্ত ভেসে বেরিয়ে আসে। এভাবেই লাশ দাফন করা হয়।

এক কথায় যেখানেই খবর খোড়া হচ্ছে সেটি তলিয়ে যাচ্ছিল পানিতে। লাশ নিয়ে আসা আত্মীয়-স্বজন আর এলাকার মানুষ তখন এই দৃশ্যে নির্বাক। শেষ পর্যন্ত মৃত আত্মীয়কে কবরস্থ করতে না পেরে লাশ নিয়ে অন্য এলাকার কবরস্থানে যাচ্ছিলেন সোহেল মিয়া।

লাশ নিয়ে রওনা হওয়া সকলের চোখে মুখেই তখন ছিলো চরম ক্ষোভের ছাপ।

এমন অবস্থা নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকার ২৪ নং ওয়ার্ডের দেউলী চৌরাপাড়া কবরস্থানের।

জলাবদ্ধতাসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত এই কবরস্থানটিতে আশপাশের কয়েকটি মহল্লার মুসলিম জনগোষ্ঠীর কবরস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সিটি কর্পোরেশনের ২৪নং ওয়ার্ডসহ আশপাশে ৪/৫টি এলাকার জন্য ব্যবহৃত চৌরাপাড়া কবরস্থানের জলাবদ্ধতা সমস্যা দীর্ঘদিনের। প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এই কবরস্থানে জলাবদ্ধতা সংকট দেখা দিয়েছে। কিন্তু এ সংকট নিরসনে কারো সহায়তা এখনো পায়নি এলাকাবাসী।

স্থানীয় লোকজন জানায়, একটু বৃষ্টি হলেই কিংবা বর্ষা মৌসুমে এই কবরস্থানে হাটু থেকে বুক পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে যায়। যে কারণে কবরস্থান ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এছাড়া অত্র এলাকায় কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেই। পাশাপাশি যাদের কবর দেয়া হয়েছে সেগুলোও পানিতে তলিয়ে থাকার কারণে কবর জিয়ারত করা যাচ্ছে না। অনেক কবর পানির কারণে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে জনপ্রতিনিধিদের কোনো মাথা ব্যথা নেই।

দেউলী বড় সমাজ মসজিদ কমিটির মোতাওয়াল্লী মো. ইমরান হাসান বলেন, আশেপাশের ৩-৪ মসজিদের অধীনে বসবাসকারী লোকজনদের এই কবরস্থানে দাফন করা হয়। তবে জলাবদ্ধতার কারণে কবর দেয়া যায় না। এ নিয়ে নানা সংকট তৈরি হচ্ছে। এই দুরাবস্থা দেখে মেয়র আইভী এই কবরস্থানের সংস্কার ও উন্নয়ন কাজের আশ্বাস দিয়েছেন একাধিকবার।

তিনি বলেন, শুধু তাই নয়, ২৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আফজাল হোসেনও বিভিন্ন সময় এখানে এসে কবরস্থানের সংস্কার ও উন্নয়ন কাজের ঘোষণা দিয়ে তা বাস্তবায়িত করেনি। এতে আমাদের এই কবরস্থানটি নিয়ে কোনো কাজের অগ্রগতি হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী জানান, স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর বিষয়টি ভালো বলতে পারবেন। অপরদিকে স্থানীয় কাউন্সিলর আফজাল হোসেন জানান, সংস্কারের টেন্ডার হয়েছে। তবে কবে নাগাদ কাজ শুরু হবে সেটি বলতে পারেননি তিনি।

আজকের পত্রিকা/এমএআরএস