আমরা জেগে থাকারা বরং আরেকটি ধর্ষণের খবর প্রস্তুতের জন্য তৈরি থাকি। ছবি: সংগৃহীত

নুসরাত আর নেই, এতক্ষণে সবাই তা জেনে গেছেন। ১১ এপ্রিল বৃহস্পতিবার তার দাফন। এর আগে বাদ আছর সোনাগাজী সাবের পাইলট হাইস্কুল মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর থেকে মাটি চাপা এক ঘুমের দেশে পাড়ি জমাবেন নুসরাত। পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

বিচারহীনতার দেশে নুসরাত শ্লীলতাহানীর বিচার চেয়েছিলো। নারীকে পণ্য ভাবা মাদ্রাসার কর্তা ব্যক্তিরা হয়তো একে ধৃষ্টতা ভেবেছিলো। তাই তারা ছাই করে দিতে চেয়েছিলো নুসরাতকে।

গত ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথম পত্র পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে যান নুসরাত। এরপর কৌশলে তাকে পাশের ভবনের ছাদে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে বোরকা পরা ৪/৫ ব্যক্তি তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে তার শরীরের ৮৫ শতাংশ পুড়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে স্বজনরা প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়।

প্রধানমন্ত্রী নুসরাতের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। কথা হচ্ছিল তাকে বিদেশে চিকিৎসা দেওয়া নিয়েও। কিন্তু নুসরাত এর তোয়াক্কা করেনি। নৃশংস পুরুষ রাজত্বে সে সুস্থ হয়ে কোথায় ফিরবে? আবার তার ওপর যে আক্রমণ হবে না এ রাষ্ট্রে এর নিশ্চয়তা কোথায়। নুসরাত তাই ঘুমের দেশকেই বেছে নিয়েছে। কবরই কী বাংলাদেশের নারীদের জন্য একমাত্র নিরাপদ স্থান? – এ প্রশ্ন এখন খুব সহজাত।

বিচার চাইতে যে মানসিক দৃঢ়তাটুকু দরকার তা আর আমাদের মধ্যে নেই। সব মেনে নেওয়ায় অভ্যস্ত হতে হচ্ছে নিপীড়িতদের। কবরেই তাই হয়তো একমাত্র নিরাপদ নুসরাতরা। পৃথিবীকে ক্ষমা করে ঘুমাও মক্তবের মেয়ে। আমরা জেগে থাকারা বরং আরেকটি ধর্ষণের খবর প্রস্তুতের জন্য তৈরি থাকি।

আজকের পত্রিকা/এমএইচএ/সিফাত