ছবি: সংগৃহীত

একুশে পদকপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক এবং স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের খ্যাতনামা নারী ঔপন্যাসিক রিজিয়া রহমান আর নেই। ১৬ আগস্ট শুক্রবার বেলা পৌঁনে ১১টার দিকে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি ক্যান্সার ও কিডনি রোগে ভুগছিলেন।

১৯৩৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর ভারতের কোলকাতার ভবানীপুরে রিজিয়া রহমানের জন্ম। তাঁর পৈত্রিক বাড়ি কলকাতার কাশিপুর থানার নওবাদ গ্রামে। দেশভাগের পর পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশে চলে আসেন তিনি। খ্যাতিমান এই নারীর প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় ফরিদপুরে। সেই সময় শখের বশে কবিতা লিখতেন তিনি। ১৯৫০ সালে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় তাঁর লেখা গল্প ‘টারজান’ সত্যযুগ পত্রিকায় ছোটদের পাতায় ছাপা হয়। নিজের লেখনির মাধ্যমে সাহিত্য জগতে প্রায় ছয় দশক ধরে অবদান রেখেছেন রিজিয়া রহমান।

লেখালেখির স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৭৮ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন তিনি। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার এবার তাকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদক প্রদান করে।

রিজিয়া রহমানের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘অগ্নিসাক্ষরা’, ‘ঘর ভাঙা ঘর’, ‘রক্তের অক্ষর’, ‘বং থেকে বাংলা’, ‘অলিখিত উপাখ্যান’, ‘সূর্য-সবুজ-রক্ত’, ‘অরণ্যের কাছে’, ‘উত্তর পুরুষ’, ‘শিলায় শিলায় আগুন’, ‘হে মানব মানবী’, ‘নদী নিরবধি’, ‘পবিত্র নারীরা’, ‘সীতা পাহাড়ে আগুন’, এবং ‘প্রজাপতি নিবন্ধন’।

আজকের পত্রিকা/সিফাত