ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন। ছবি : সংগৃহীত

নানা জল্পনা-কল্পনার পর অবশেষে গ্রেফতার করা হয়েছে সোনাগাজী থানার আলোচিত সাবেক ওসি মোয়াজ্জেমকে। ১৬ জুন রবিবার হাইকোর্টের কদম ফোয়ারার কাছে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর কম জল ঘোলা হয়নি। কিন্তু এত লুকোছুপির পর কীভাবে গ্রেফতার হলো সোনাগাজীর এই ওসি, কী ছিল এর নেপথ্য গল্প?

গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশ সূত্র থেকে জানা যায়, ১৫ জুন শনিবার রাতে ওসি মোয়াজ্জেম তার এক আত্মীয়ের বাসায় ছিলেন। ১৬ জুন রবিবার হাইকোর্টে জামিনের জন্য গেলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

উল্লেখ্য, থানায় অভিযোগ করতে আসা ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির সঙ্গে কথোপকথনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন ওসি মোয়াজ্জেম। এ ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সাইয়েদুল হকের করা এক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করলো পুলিশ।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ওই মামলায় সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনাল গত ২৭ মে পরোয়ানা জারি করেন। ৩১ মে পরোয়ানার চিঠি ফেনীর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে পৌঁছায়। কিন্তু পুলিশ সুপার কাজী মনির-উজ-জামান বারবার বিষয়টি অস্বীকার করতে থাকেন।

অবশেষে ৩ জুন রাতে পরোয়ানা হাতে পাওয়ার কথা স্বীকার করেন তিনি। এর দুই দিন পর বিশেষ বার্তাবাহকের মাধ্যমে পরোয়ানা রংপুর রেঞ্জে পাঠানো হয়। তখন আবার রংপুর রেঞ্জ বলেছে, কাজটি বিধি মোতাবেক হয়নি। তবে পুলিশের এই গড়িমসির সুযোগে মোয়াজ্জেম হোসেন সটকে পড়েন। এর আগে তার মুঠোফোনটি সচল থাকলেও এক পর্যায়ে তা বন্ধ হয়ে যায়।

এ দিকে রমনা জোনের ডিসি মারুফ হোসেন সর্দার এক ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, ওসি মোয়াজ্জেমকে গ্রেফতারের বিষয়টি সোনাগাজী থানাকে জানানো হয়েছে। যেহেতু ওই থানায় গ্রেপ্তারের পরোয়ানা আছে, সে জন্য তাদের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হবে।

আজকের পত্রিকা/সিফাত