৭ অক্টোবর সোমবার ভোরে  বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একটি হল থেকে আবরার ফাহাদ নামের এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

আবরার ইলেকট্রিকাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনাকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুইজন ছাত্রকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

এদিকে আবরারের মৃত্যুর পর ৫ অক্টোবর দেওয়া তার একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস আলোচনায় আসে। নিজের ওই স্ট্যাটাসে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকালীন দুই দেশের মধ্যে হওয়া বেশ কিছু চুক্তির প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে সমালোচনা করা হয়েছিল। অনেকেই ধারণা করছে, এই স্ট্যাটাসটিই কাল হয়ে দাঁড়ালো আবরারের জীবনে। এর স্ট্যাটাসের মূল্য তাকে জীবন দিয়ে দিতে হলো!

আবরার স্ট্যাটাসটি হুবুহু তুলে দেওয়া হলো- “১.৪৭ এ দেশভাগের পর দেশের পশ্চিমাংশেে কোনো সমুদ্রবন্দর ছিল না। তৎকালীন সরকার ৬ মাসের জন্য কলকাতা বন্দর ব্যবহারের জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ করল। কিন্তু দাদারা নিজেদের রাস্তা নিজেদের মাপার পরামর্শ দিছিলো। বাধ্য হয়ে দুর্ভিক্ষ দমনে উদ্বোধনের আগেই মংলা বন্দর খুলে দেওয়া হয়েছিল। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আজ ইন্ডিয়াকে সে মংলা বন্দর ব্যবহারের জন্য হাত পাততে হচ্ছে।

২.কাবেরি নদীর পানি ছাড়াছাড়ি নিয়ে কানাড়ি আর তামিলদের কামড়াকামড়ি কয়েক বছর আগে শিরোনাম হয়েছিল। যে দেশের এক রাজ্যই অন্যকে পানি দিতে চাই না সেখানে আমরা বিনিময় ছাড়া দিনে দেড়লাখ কিউবিক মিটার পানি দিব।

৩.কয়েক বছর আগে নিজেদের সম্পদ রক্ষার দোহাই দিয়ে উত্তরভারত কয়লা-পাথর রপ্তানি বন্ধ করেছে অথচ আমরা তাদের গ্যাস দিব। যেখানে গ্যাসের অভাবে নিজেদের কারখানা বন্ধ করা লাগে সেখানে নিজের সম্পদ দিয়ে বন্ধুর বাতি জ্বালাব।

হয়তো এ সুখের খোঁজেই কবি লিখেছেন-
‘পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি
এ জীবন মন সকলি দাও,
তার মত সুখ কোথাও কি আছে
আপনার কথা ভুলিয়া যাও’।”

আজকের পত্রিকা/সিফাত