শ্রীমুখ গ্রামের বাসিন্দা দুই নারী ও এক শিশু।

যদি কারও কাছে জানতে চাওয়া হয় এশিয়ার সবচেয়ে বড় গ্রামের নাম কি? চোখ বুঝে যে কেউ বলে দেবে সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং। আর যদি বলা হয়, এশিয়ার সবচেয়ে ছোটগ্রাম কোনটি? এমন প্রশ্নে অনেকেই দ্বিধায় পড়বেন।

কেননা, ইতিপূর্বে এশিয়ার সবচেয়ে ছোট গ্রাম হিসেবে আলোচিত হওয়া কুমিল্লা জেলার লালমাই উপজেলার বেলঘর ইউনিয়নের ‘তিলইন’ গ্রামকে ধরা হতো। এখানের জনসংখ্যা ৪০ জন। যাদের সকলেই হিন্দু ধর্মাবলম্বী বলে জানা যায়। অপরদিকে, বিশ্বনাথের শ্রীমুখ গ্রামের বর্তমান জনসংখ্যা ৫ জন। আর এ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে, সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার নিজস্ব রাস্তাবিহীন ‘শ্রীমুখ’ গ্রামটিই এশিয়ার সবচে’ ছোটগ্রাম!

এ গ্রামে ৩ জন নারী, ১জন পুরুষ ও ১জন শিশুর বসবাস।

গ্রামের একমাত্র পুরুষ সদস্য সৌদি প্রবাসী। ভোটার সংখ্যামাত্র তিন। সমাজ সচেতন অনেকেই মনে করেন, শ্রীমুখ শুধু এশিয়ারই নয়, বিশ্বের সবচেয়ে ছোটগ্রামও হতে পারে। বিশ্বনাথ উপজেলা সদর হতে প্রায় ৯ কিলোমিটার দুরে স্থানীয় খাজাঞ্চী ইউনিয়নের পশ্চিম নোয়াগাঁও ও তেলিকোনা গ্রামের মধ্যবর্তী জায়গায়ই এই গ্রামের অবস্থান।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৬০ শতক জায়গা জুড়ে ‘এক বাড়ি-এক ঘরে এক গ্রাম’ খ্যাত শ্রীমুখ গ্রামে এক সময় হিন্দু পরিবারের বসবাস ছিল। ১৯৬৪ সালের রায়টের সময় ওই হিন্দু পরিবারবাড়িটি স্থানীয় আপ্তাব আলীর পূর্বপুরুষের কাছে বিক্রি করে ভারতে চলে যান। বর্তমানে আপ্তাব আলীর পরিবার এই গ্রামে বসবাস করে আসছেন।

তবে, তিনি দীর্ঘদিনধরে সৌদি আরবে প্রবাস জীবন-যাপন করছেন। আর বাড়িতে বসবাস করছেনতার স্ত্রী-কন্যা ও দুই বোন।
৯ বৃহষ্পতিবার বিকেলে সরেজমিন শ্রীমুখ গ্রামে গেলে দেখা যায়, এর চতুর্দিক ধানী জমি-বাঁশঝাড়, জঙ্গল রিবেষ্টিত। নিজস্ব রাস্তা বিহীন নানা উন্নয়ন বঞ্চিত এই গ্রাম। কথা হয় গ্রামের একমাত্র পুরুষ সদস্য, সৌদি প্রবাসী আপ্তাব আলীর স্ত্রী রাহিমা বেগমের সাথে।

এই জমির আইল দিয়েই যাতায়াত করেন শ্রীমুখ গ্রামের বাসিন্দারা।

জানালেন নানা বঞ্চনা, দুর্ভোগ ও দুর্গতির কথা। বললেন, বাড়ির (গ্রামটির) নিজস্ব কোনো রাস্তা না থাকায় অন্যের জায়গা দিয়েই যাতায়াত করতে হয়। তাদের একমাত্র কন্যা শিশুকে বর্ষা মৌসুমে প্রতিদিন কাদামাটি-পানি পেরিয়েই স্থানীয় কিন্ডার গার্টেনে যেতে হয়। বিশেষ করে, বর্ষা মৌসুমে নৌকা ছাড়া তারা চলাচলই করতে পারেননা।

আর্থিক দুরবস্থার দরুণ ব্যবহার করতে হয় কাঁচাপায়খানা। একমাত্র টিউবওয়েলটি নষ্ট থাকার কারণেপান করতে হয় পুকুরের পানি। এসময় তিনি এ প্রতিবেদকের কাছে দুটি অভিযোগও করেন। জানান, অনেক কষ্টের বিনিময়ে গ্রামে বিদ্যুৎ নিয়ে এলেও মিটার রিডাররা বাড়িতে না গিয়েই মনগড়া বিল তৈরী করেন।

খাজাঞ্চী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তালুকদার মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, শ্রীমুখের পাশ্ববর্তীর জায়গার মালিকেরা যদি (জমি দিয়ে) সহযোগিতা করেন, তাহলে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে তাদের রাস্তার ব্যবস্থা করে দেয়া হবে। আমি মনে করি, সঠিক পর্যবেক্ষণ করা হলে আমার ইউনিয়নের এই শ্রীমুখ গ্রামটি বিশ্বের সবচেয়ে ছোট গ্রাম হতে পারে। যদি তাই হয়, তাহলে ‘শ্রীমুখ’ গিনেজ বুকে নাম লেখাবে।

এক বাড়ি-এক ঘর এক গ্রামের বাসিন্দাদের বাড়ি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিতাভ পরাগ তালুকদার বলেন, শ্রীমুখ গ্রামের কথা আমি শুনেছি। শিগগিরই গ্রামটি পরিদর্শন করব।

এমদাদুর রহমান চৌধুরী জিয়া /এমদাদুর রহামান মিলাদ/সিলেট/বিশ্বনাথ/এমএআরএস