ক্যান্সারে আক্রান্ত কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোরের চিকিৎসায় পূর্ণ সহায়তা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।রবিবার প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোর বর্তমানে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গত ৯ সেপ্টেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন তিনি। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গত ১৮ সেপ্টেম্বর তার শরীরে ক্যান্সার ধরা পড়ে।

আশরাফুল আলম খোকন জানান, শিল্পীর চিকিৎসার পুরো বিষয়টি তদারকির জন্য ইতোমধ্যে (রবিবার দুপুরে) সিঙ্গাপুরের বাংলাদেশ দূতাবাসকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তার চিকিৎসার বিষয়টি দেখভাল করছেন।

ফেব্রুয়ারি মাসের শেষদিকে চিকিৎসা শেষ করে এন্ড্রু কিশোরের দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে দেশে ফেরা হচ্ছে না তার। চিকিৎসকরা জানান, এন্ড্রু কিশোরকে ছয়টি সাইকেলে ২৪টি কেমোথেরাপি দিতে হবে। ইতোমধ্যে ৪টি সাইকেলে তার ১৬টি কেমো সম্পন্ন হয়েছে। পঞ্চম সাইকেলের প্রথম কেমোথেরাপিও দেয়া হয়েছে। এখনও ৭টি কেমো বাকি।

এন্ড্রু কিশোরের শিষ্য কণ্ঠশিল্পী মোমিন বিশ্বাস জানান, শারীরিক নানা সমস্যার কারণে এন্ড্রু কিশোরের কেমোথেরাপি বন্ধ রাখা হয়েছে। ‘চিকিৎসকরা আমাদের জানিয়েছিলেন, ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে সবগুলো কেমোথেরাপি দেয়া শেষ হবে। এরপরই তিনি দেশে ফিরতে পারবেন। কিন্তু গত এক মাস দাদার শরীরের নানা জটিলতার কারণে কেমো বন্ধ রাখা হয়েছে। শরীরের সমস্যাগুলো দূর না হলে কেমোথেরাপি দেয়া সম্ভব নয়।’

‘তবে এখন নিয়মিত চিকিৎসা চলছে। আশা করেছিলাম ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে দাদাকে দেশে নিয়ে আসতে পারব। সেটা সম্ভব হচ্ছে না। সবাই দাদার জন্য দোয়া করবেন। শিগগিরই যেন তিনি সুস্থ হয়ে দেশে ফিরতে পারেন’- বলেন মোমিন বিশ্বাস।

চিকিৎসা ব্যয় মেটানোর জন্য রাজশাহীর নিজের ফ্ল্যাটও বিক্রি করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এ কণ্ঠশিল্পী। সিঙ্গাপুর হাসপাতাল থেকে এন্ড্রু কিশোরের চিকিৎসার বাজেট দেয়া হয় প্রায় আড়াই কোটি টাকা। এরই মধ্যে শিল্পীর পরিবার খরচ করেছে এক কোটি টাকারও বেশি। প্রয়োজন আরও অনেক টাকা। এ শিল্পীর পাশে দাঁড়িয়েছেন অনেকেই।