এমপিওভূক্তিতে এই দুর্নীতি নিয়ে স্কুল সংশ্লিষ্ট কেউই কথা বলতে চাননি। প্রতীকি ছবি

রাজধানীর ফরিদাবাদের বাংলাদেশ ব্যাংক আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের কম্পিউটার (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) শিক্ষক মো. পল্লব হোসেন। তার এমপিওভূক্তির (মান্থলি পে অর্ডার- সরকারি বেতনভাতা) কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে। অথচ এ বিদ্যালয়ের ৪০ শতাংশ নারী শিক্ষক নিয়োগের কোটাই পূরণ হয়নি।

সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ঢাকা মহানগর এলাকার কোনো বিদ্যালয় এই নারী কোটা পূরণ না করলে তাদের নতুন এমপিওভূক্তি বিবেচনায় নেয়ার কথা না। তবে নারী কোটার তথ্য গোপন রেখে মো. পল্লব হোসেনের এমপিওভূক্তি এগিয়ে নেয়া হচ্ছে।

এই জালিয়াতির সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রশাসনও জড়িত- এমন তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে।

মো. পল্লব হোসেনের এমপিওভূক্তির জন্য যেসব কাগজপত্র জমা দেয়া হয়েছে, তা ঘেঁটে দেখা গেছে, তিনি বিধি মোতাবেক নিয়োগ পেয়ে এ বিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন ২০১১ সালের ১৬ জুন থেকে। তার এমপিওভূক্তির জন্য এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ২০১৭ সালের শিক্ষক তালিকা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেয়া হয়েছে। যাতে নারী কোটা যথাযথভাবে পূরণ হওয়ার তথ্যই মিলছে। কিন্তু ২০১৯ সালের মার্চে বিদ্যালয়টির সরকারি বেতন পাওয়ার যে শিক্ষক তালিকা, সেখানে দেখা যায় নারী শিক্ষকের কোটা পূরণ হয়নি। এ তালিকা অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষককে প্রশাসনিক কর্মকর্তা ধরলেও বাকি শিক্ষক সংখ্যা ১৪ জন। এ হিসেবে নারী শিক্ষক থাকার কথা ৬ জন। অথচ তালিকায় নারী শিক্ষক মাত্র ৩ জন। কোটা পূরণ করতে হলে আরও ৩ জন নারীর নিয়োগ পাওয়ার কথা। আর তা না করা হলে ২০১২ সালের সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এ বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষকের নতুন করে এমপিওভূক্তি হওয়ার সুযোগ নেই।

২০১৮ সালের জুলাই মাসে জেলা শিক্ষা অফিসারের (ঢাকা) কার্যালয় থেকেও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য একই নির্দেশনা জারি করা হয়। এ কারণে বিদ্যালয়টির নন-এমপিও একাধিক শিক্ষকের এমপিওভূক্তি ঝুলে আছে। অথচ রহস্যজনক কারণে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে মো. পল্লব হোসেনের এমপিওভূক্তির কার্যক্রম এগিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংক আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তফা কামালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংক আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এ.কে.এম. আমজাদ হোসেন বলেন, তিনি এ বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাচ্ছেন না।

আজকের পত্রিকা/এমএইচএস