রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ কমিটির বয়স আজ চার বছর। অথচ কমিটি দেওয়া হয় এক বছর মেয়াদে। অর্থাৎ, মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে বর্তমান কমিটির।

বিভিন্ন সময় আশ্বাসের পরেও নতুন কমিটি ঘোষণা হয় নি বলে দলীয় গঠনতন্ত্র আর শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন অনেক নেতাকর্মীর।

সুত্র বলছে, ২০১৬ সালের ৮ ডিসেম্বর গোলাম কিবরিয়াকে সভাপতি ও ফয়সাল আহমেদ রুনুকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৩ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা হয়।

দায়িত্ব পেয়ে এই কমিটি ২৫১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন পায় ২০১৭ সালে। তখন অন্তত ১৮ জন বহিষ্কৃত, অছাত্র ও অনুপ্রবেশকারীদের পদ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠে।

এমনকি প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রদের গুরুত্বপূর্ণ পদে আনা ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের পদ বঞ্চিত করারও অভিযোগ পাওয়া যায়। এরই মধ্যে বছর পেরিয়ে চার বছর পার হলেও নতুন কমিটির ঘোষণা শুধু আশ্বাসেই বিশ্বাস রেখে পার হয়েছে।

দীর্ঘদিন মেয়াদোত্তীর্ণ থাকায় নেতাকর্মীদের মধ্যে নেই গঠনমূলক রাজনীতির চর্চা। ছিনতাই, চাঁদাবাজি, শিক্ষার্থী মারধর, সিট বাণিজ্যের মতো নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন অনেক পদধারী ছাত্রলীগ নেতা। এমতাবস্থায় নতুন কমিটি দিয়ে ছাত্রলীগের রাবি শাখা গতিশীল ও মার্জিত করার দাবি পদ প্রত্যাশী নেতাকর্মীদের।

অবশ্য বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক বলছেন, এটা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বিষয়। আমরা ইচ্ছে করলেই নতুন কমিটি দিতে পারি না।

ছাত্রলীগের একাধিক নেতা বলেন, বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের হল কমিটি দিতে পারে নাই। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ছাত্রলীগের সঠিক নেতৃত্ব উঠে আসছে না।

সভাপতি-সম্পাদকের পক্ষ থেকে একেক সময় একেক জনকে দায়িত্ব দিয়ে পরিচালনা করা হচ্ছে হলগুলো।

এতে তারা হলগুলোতে বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। হল কমিটি না দেওয়া ছাত্রলীগের এক প্রকার ব্যর্থতা এবং নতুন কমিটি ঘোষণা না করা বড় রকমের ব্যর্থতা।

বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি কাজী লিংকন জানান, ছাত্র রাজনীতির ভেতরে একটা পরিবর্তন না আসলে দক্ষ নেতৃত্ব পাওয়া কখনই সম্ভব না। মেয়াদউত্তীর্ণ কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ভাল কাজে জড়িত থাকলেও তারা মাঝে মাঝে এমন সব কর্মকান্ডে জড়িত হচ্ছে যা পুরো ছাত্রলীগের সম্মানহানীর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই নতুন কমিটি দিয়ে নতুন করে নেতৃত্ব তৈরী করা প্রয়োজন।

তবে বর্তমান কমিটির অনুসারী নেতাকর্মীদের দাবি, পদ প্রত্যাশী কিছু নেতাকর্মী মাঝে মাঝে অনৈতিক এবং অস্থিতিশীল কর্মকান্ড করে বর্তমান কমিটির সুনাম ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা চালায়।

নতুন কমিটি নিয়ে তাদের আগ্রহ বেশি। এবং তারা দোষারোপ করছেন সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতিকে। কিন্তু তারা তো কমিটি দেওয়ার কেউ না। কমিটি দিবে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

নতুন নেতৃত্বের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় বলেন, সকল শাখায় মেয়াদোউত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি দিচ্ছি। তবে ধারাবাহিকভাবে।

রাবি ছাত্রলীগ কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগে সে বিষয়ে আমরা অবগত। তবে দ্রুতই কমিটি দিতে পারবো বলে মনে করছি।

-এমএ জাহাঙ্গীর