খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

নওগাঁর মান্দায় এক ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়ানোকে কেন্দ্র করে উপজেলার ছোট চকচম্পক বালিকা বিদ্যালয়ের অফিস রুমে বিএসসি শিক্ষক আমিনুল ইসলাম ও কৃষি শিক্ষক হেলাল উদ্দিনের মধ্যে গত শনিবার দুপুর সোয়া ১ টার সময় সংঘর্ষ ঘটে।

এই সময় বিএসসি শিক্ষক আমিনুল ইসলাম এর ডান হাত ভেঙ্গে যায়। পরে আহত শিক্ষককে স্থানীয়রা উদ্ধার করে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।

এই ঘটনার পরের দিন রবিবার আহত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ভিকটিমের মা ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক রহিদুল ইসলাম বরাবর মৌখিকভাবে অভিযোগ এনে বলেন, প্রতিষ্ঠানের বিএসসি ও প্রাইভেট শিক্ষক আমিনুল ইসলাম প্রাইভেট পড়ানোর সময় আমার মেয়ের শরীরে হাত ঘেঁষা দেয় বলে জানায়। যা আমার মেয়ের জন্য বিরক্তিকর। আমার মেয়ে এসব পছন্দ করে না।

আগামীতে যেন আমার মেয়ের সাথে এমন আচরণ না করেন বলে চলে যান। এরপর ওই আহত প্রাইভেট শিক্ষক আমিনুল ইসলাম চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকায় এবিষয়ে আমিনুল ইসলামের সাথে কথা বলার সুযোগ হয়ে উঠেনি বলে জানান প্রতিষ্ঠান প্রধান রহিদুল ইসলাম।

পরের দিন সোমবার সাড়ে ১২টার দিকে ওই স্কুল ছাত্রীর প্রতিবেশী মুদির দোকানদার উত্তমের ছেলে রথিন ওই প্রতিষ্ঠান প্রধান রহিদুল ইসলামের কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ করে বলেন যে, আপনার প্রতিষ্ঠানের বিএসসি শিক্ষক আমিনুল ইসলামের চরিত্র ভালো না। ওকে সাবধান করে দিয়েন। ও প্রাইভেট পড়ানোর সময় বিভিন্ন শিক্ষার্থীদের সাথে খারাপ আচরণ করে থাকে। তার বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।

সে আমার গ্রামের পলাশ সরকারের মেয়ে চকচম্পক বালিকা বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেনীর ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়ানোর সময় বেশ কিছু দিন থেকে প্রাইভেট এর টাকা লাগবেনা, নতুন জামা কিনে দিচ্ছি ইত্যাদি বলে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল।

ওই দিন সন্ধ্যায় অন্যের প্ররোচনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ভিকটিমের মা এবং বাবা মান্দা থানায় ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ দায়ের করেন প্রাইভেট এবং স্কুল শিক্ষক আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

এদিকে এলাকাবাসীরা এমন ঘটনায় নিন্দা প্রকাশ করে বলেন, এটা সম্পূন্ন পরিকল্পিতভাবে সাজানো নাটক। এসব মিথ্যা অভিযোগের পেছনে ওই প্রতিষ্ঠানের কিছু শিক্ষকের ইন্ধন রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই প্রতিষ্ঠানের একাধিক শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা জানান, ওই ছাত্রী ইতিঃপূর্বে কৃষি শিক্ষক হেলাল উদ্দিনের কাছে প্রাইভেট পড়তো। কিন্তু বর্তমানে কেন বিএসসি শিক্ষক আমিনুল ইসলামের কাছে প্রাইভেট পড়ছে? সে যদি কৃষি শিক্ষক হেলাল উদ্দিনের কাছে প্রাইভেট পড়তো তাহলে এমন সংঘর্ষ ও ধর্ষন চেষ্টার অভিযোগ হতো না বলে তারা মন্তব্য করেন।

এব্যাপারে প্রতিষ্ঠান প্রধান রহিদুল ইসলাম বলেন, থানায় অভিযোগের ২ দিন পূর্বে মেয়ের মা আমার কাছে এসে শিক্ষক আমিনুলের বিরুদ্ধে অসাদাচারণ এর অভিযোগ করেন। বিষয়টি নিয়ে সমাধানের চেষ্টায় আমি ব্যর্থ হয়েছি। তবে ধর্ষনের ব্যাপারে কেউ আমার কাছে অভিযোগ করেননি। আমার যতদূর জানা তাতে করে, আমি সত্যতা নির্ণয় করতে পারছিনা।

এদিকে ধর্ষন চেষ্টার অভিযোগ পাওয়ার পর প্রকৃত ঘটনাকে বের করতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তের বিষয়ে মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাফফর হোসেন বলেন, এব্যাপারে একটি অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত চলছে। অন্যায়ভাবে যাতে কোন মানুষ হয়রানির স্বীকার না হয় সে বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখছি। অভিযোগের সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মাহবুবুজ্জামান সেতু/নওগাঁ