পেঁয়াজ

ভারত থেকে রপ্তানি বন্ধ হতেই যেনো এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ঢাকাসহ চট্টগ্রামের বাজারে। রবিবার দিনব্যাপী ভারতীয় পেঁয়াজ ৭০ টাকা থাকলেও সন্ধ্যা নাগাদ দাম এক লাফে ৩০ টাকা বেড়ে ১০০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। এ দাম আরও দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা পূর্বাভাস দিয়েছেন।

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ (২৭ সেপ্টেম্বর) শুক্রবার পেঁয়াজের রপ্তানি মূল্য বাড়িয়ে প্রতি মেট্রিক টন পেঁয়াজ ৮৫০ ডলারের কমে রপ্তানি করা যাবে না বলে ঘোষণা দিয়ে হঠাৎ করে (২৯ সেপ্টেম্বর) রোববারদুই দিনের মাথায় পুরোপুরি রপ্তানি বন্ধের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

গত বছরের ফেব্রুয়ারির পর ভারতীয় পেঁয়াজের ন্যূনতম রপ্তানিমূল্যের ওই বাধ্যবাধকতা ছিল না। গত সপ্তাহেও তারা প্রতি টন ভারতীয় পেঁয়াজ ২৫০ থেকে ৩০০ ডলারে আমদানি করেছেন। এখন ভারত ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য বেঁধে দেওয়ায় তা বেড়ে প্রায় তিন গুণ হবে।

এর আগেও ২০১৭ সালের শেষ দিকেও একবার ভারত নিজেদের বাজার সামাল দিতে ন্যূনতম রপ্তানিমূল্য ৪৩০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ ডলার করেছিল। তখন খুচরা বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ ৭৫ টাকা কেজিতে পাওয়া গেলেও দেশি পেঁয়াজের দাম ১০০ টাকা পেরিয়ে গিয়েছিল।

সোমবার ঢাকার বিভিন্ন পাইকারি বাজারে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজিতে। ভারত ও মিয়ানমার থেকে আসা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে। খুচরা বাজারে দেশি আর ভারতীয় পেঁয়াজের দামের কোনো ভেদাভেদ নেই। সব পেঁয়াজই এখন কেজিপ্রতি ১০০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে।

সকালে কারওয়ান বাজারে গিয়ে দেখা যায়, পাইকারি বাজারে প্রতি পাল্লা (৫ কেজি) পেঁয়াজ ৫২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে এক কেজি কিনতে হচ্ছে ১১০ টাকায়। ভারতীয় পেঁয়াজ ও অনেকটা দেশি পেঁয়াজের মতো দেখতে মিয়ানমারের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে এক পাল্লা ৪৫০ টাকায়। খুচরা বাজারে দাম আরও কিছুটা বেশি। বাজার ঘুরে দেখা গেল, অন্য সময়ের চেয়ে বাজারে পেঁয়াজের বিক্রেতা অনেক কম। অন্যদিকে ক্রেতারা সংখ্যায় অনেক বেশি।

এদিকে চট্টগ্রামের বাজারেও প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ পাইকারি ৬০-৬২ টাকায়, মিয়ানমারের পেঁয়াজ ৫৮-৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ভারতীয় পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণায় পড়েই দামে তারতম্য ঘটেছে। রবিবার দিনভর ৭০ টাকা থাকলেও ১০০ ছেড়ে গেছে। আরও দ্বিগুণ বা তিনগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে—বলছেন ব্যবসায়ীরা।

-এস