শিক্ষার্থীর পড়ালেখার দায়িত্ব নিলেন ওসি।

ওসি খান মোঃ মঈনুল জাকির। তিনি শিক্ষা অনুরাগী মানুষ। তিনি শিক্ষাকে ভালোবাসেন। আর তাইতো শিক্ষা প্রসারে ব্যক্তিগতভাবে সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে থাকেন তিনি। কেউ যদি অর্থের অভাবে পড়াশোনা করতে না পারে তার সহায়তায় এগিয়ে যান।

বলছি, জৈন্তাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খান মোঃ মঈনুল জাকিরের কথা। যিনি ১৪ মে মঙ্গলবার জৈন্তাপুর উপজেলার ৬নং চিকনাগুল ইউনিয়নের ঘাটেরচটি গ্রামের বাসিন্দা ছদ্মনাম (খুশী) স্কুলছাত্রীর পড়ালেখার দায়িত্ব নিয়েছেন। ওই ছাত্রীর লেখাপড়ায় উৎসাহ প্রদান করছেন।

ওই স্কুলছাত্রী চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় ভাল রেজাল্ট করে উত্তীর্ণ হয়েছে কিন্তু তার একাদশ শ্রেনিতে ভর্তিসহ পরবর্তীতে লেখাপড়ার যাবতীয় খরচ চালাতে পারছেন না তার অসহায় পিতা। ফলে কলেজে ভর্তি হওয়াটা অনিশ্চিত ছিলো।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে স্কুল ছাত্রীর মা বলেন, মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালাতে না পেরে ভাবছিলাম তার লেখাপড়া বন্ধ দিবো। সারাদিন মানুষের বাসায় কাজ করে যা আয় করি তা দিয়ে সংসারই চলে না। মেয়ের জীবনে কান্না ছাড়া আর কিছু নেই। এভাবেই খেয়ে না খেয়ে চলে এসএসসি পর্যন্ত তার লেখাপড়া। এই অবস্থায় আমার মেয়ের সকল দায়িত্ব নেন ওসি। এ জন্য  কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন স্কুল ছাত্রীর পরিবার।

ওসি খান মোঃ মঈনুল জাকির আজকের পত্রিকাকে বলেন, সাধ্যানুযায়ী আমরা প্রত্যেকেই যদি একজন করে অসহায় দরিদ্র মানুষের পাশে দাড়াই। তাহলে দারিদ্রতার অভাবে কেউ আর পড়ালেখা থেকে বিমুখ হবে না।

যখন আমি শুনলাম, অর্থের অভাবে ওই মেধাবী শিক্ষার্থী কলেজে ভর্তি হতে পারছে না, তখন আমার অফিসে ডেকে এনে অত্র উপজেলার চারিকাটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহ আলম চৌধুরী তোফায়েল এর উপস্থিতিতে তার একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিসহ পরবর্তীতে পড়াশুনার যাবতীয় খরচ বহনের দায়িত্ব নিয়েছি। নতুন জীবনের পথ দেখিয়ে লেখাপড়ার জন্য কিছু টাকা তুলে দেই ওই স্কুল ছাত্রীর হাতে। সবাই ওই ছাত্রীর জন্য দোয়া করবেন। সে যাতে আগামীতে আর ভালো রেজাল্ট করে অসহায় মা-বাবার মুখে হাঁসি ফোটাতে পারে।

নাজমুল ইসলাম/জৈন্তাপুর