চেনাকেটা নদীর উপর ব্রিজ।

কবে এই ব্রিজের সংস্কার করা হবে? ‘একাদশ নির্বাচনে প্রার্থীরা আশ্বাস দিয়ে গিয়েছিলেন ভোট শেষে এই ব্রিজের সংস্কার কাজ শুরু হবে। অথচ এখন আর কেউ ব্রিজের ব্যাপারে খোঁজ নেয় না। আর মাত্র কয়েকদিন পরেই উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। সেই উপজেলা নির্বাচনেও হয়তো প্রার্থীরা আমাদের এই ব্রিজ সংস্কারের ব্যাপারে আশ্বাস দিয়ে যাবেন। কিন্তু আমরা আর কতকাল অপেক্ষা করব। আর কতদিন লাগবে এই ব্রিজ ঠিক করতে’।

এভাবেই অনেকটা আক্ষেপ নিয়ে আজকের পত্রিকাকে কথাগুলো বলছিলেন লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার জগতবেড় ইউনিয়নের বাসিন্দা পরিমল কান্তি রায়।

তিনি আরও জানান, একটি ব্রিজের অভাবে ৬টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষের যাতায়াতের ক্ষেত্রে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। বিশেষ করে বেশি দুর্ভোগে পড়ে আশোয়ারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীদের।

জানা গেছে, ২০১৫ সালে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে পাটগ্রাম উপজেলার জগতবেড় ইউনিয়নের আশোয়ার পাড় চেনাকেটা নদীর উপর ব্রিজটি নির্মাণ করে স্থানীয় প্রকৌশলী বিভাগ। নির্মাণের কিছুদিন পরে বন্যায় ব্রিজের দুই অংশ ভেঙে যায়। এতে রাস্তা চলাচলে চরম দুর্ভোগে পরে ওই গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রাস্তা ঠিক থাকলেও ব্রিজটির দুই অংশ ভেঙে গিয়ে হেলে পড়েছে। এ কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাচ্ছে এলাকাবাসী। স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ব্রিজটি সংস্কারের জন্য বার বার বলার পরেও গত তিন বছরেও কোনো ফল পাওয়া যায়নি।

আশোয়ারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদে শিক্ষার্থী রাসনাথ জাহান সিমা বলে, ‘আমাদের স্কুলে যাওয়ার রাস্তার ব্রিজটি ঠিক করে দেন। বর্ষাকালে স্কুলে যেতে আমাদের অনেক কষ্ট হয়।’

ওই এলাকার আফিয়ার রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘জগতবেড় ইউনিয়ন থেকে উপজেলায় যাতায়াতের জন্য আমাদের মাত্র একটি রাস্তাই রয়েছে। সেটিও আবার বর্সাকালে এই ভাঙা ব্রিজের কারণেই আমাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমাদের একটিই চাওয়া, তিনি যেন আমাদের এই ইউনিয়নে একটু নজর দেন এবং খুব দ্রুত আমাদের যাতায়াতের একমাত্র সড়কের এই ব্রিজটি ঠিক করে দেন।’

জগতবেড় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নবিবর রহমান আজকের পত্রিকাকে জানান, ব্রিজটি সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যেই বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দ এলেই ব্রিজটি সংস্কার করে দেওয়া হবে।

পাটগ্রাম উপজেলা প্রকৌশলী আবু তৈয়ব শামসুজ্জামান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ব্রিজটির এমন অবস্থার কথা এতদিন কেউ আমাদের জানায়নি বা বলেনি। এতদিনে জানালে হয়তো আমরা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারতাম। তাই হয়তো ব্রিজটি সংস্কার করতে বিলম্ব হয়েছে। এবার বরাদ্দ এলেই ব্রিজটির সংস্কারের কাজ করা হবে বলেও জানান তিনি।’

জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না/লালমনিরহাট