চৌদ্দার চর যেন ঢাকার নিকটবর্তী এক সমুদ্র সৈকত। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার অদূরে আড়াই হাজার উপজেলায় অবস্থিত চৌদ্দার চর। ঢাকা থেকে দিনে গিয়ে দিনেই বেড়িয়ে আসা যায়। মাইলখানেক লম্বা সাদা বালির বীচ আর মেঘনার স্বচ্ছ টল-টলে জল আপনাকে মনে করিয়ে দেবে সেন্টমার্টিনের কথা। সবুজের চাদরে মোড়ানো বিস্তৃত খোলা প্রান্তর আর সতেজ মুক্ত বাতাস; এমন মোহনীয় এক প্রকৃতির কোলে একটা দুপুর আর একটা বিকেল কাটাতে খারাপ লাগবে না ভ্রমন পিপাসুদের।

আড়াইহাজার চৌদ্দার চর। ছবি: সংগৃহীত

এই চরটি আড়াইহাজার উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের মাঝখানে অবস্থিত। নারায়ণগঞ্জ জেলার প্রাকৃতিক শোভা সমৃদ্ধ আড়াইহাজার উপজেলার এই চরের সৌন্দর্য সত্যিই মুগ্ধ করার মতো। এই বৈশাখে পরিবার-পরিজন অথবা বন্ধুদের নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন ঢাকার অদূরেই আড়াইহাজার।

চৌদ্দার চরের সৌন্দর্য আর মেঘনার উচ্ছল জলরাশি ভ্রমণ পিপাসুদের মন কেড়ে নেয়। দারুণ স্বচ্ছ নীলাভ জল রয়েছে এখানে। মেঘনার এই জলে মনের আনন্দে সাঁতার কাটেন ভ্রমণ পিপাসুরা।

চৌদ্দার চরে অতি সবুজের মাঝে ভেড়ার দল। ছবি: সংগৃহীত

ভাটার সময় এখানে ১০-১৫ ফুট উঁচু বালির চর থাকে। এখানে বালি অনেক শক্ত তাই কোনো চোরাবালির ভয় নেই। চরের বুক জুড়ে ছুটে চলে হাঁসের দল, উড়ে চলে কাক, ঈগল ও গাঙচিল, সাদা বকের স্নিগ্ধতা আর রাজহাঁসের রাজত্ব এই বালির বুকে। হাঁটতে হাঁটতে দেখা মেলে শামুক ও ঝিনুকের। খোলা আকাশে পাখির মেলা আর মাঝে মাঝে ট্রলার আর জাহাজের শব্দ এখানে সৃষ্টি করে অনাবিল সৌন্দর্যের।

সেন্টমার্টিনের আমেজ দেবে চৌদ্দার চর। ছবি: সংগৃহীত

যেভাবে যাবেন

সায়েদাবাদ থেকে অভিলাস পরিবহন বাস ছাড়ে। ভাড়া ৬৫ টাকা। এটা মদনপুর দিয়ে যাবে। অথবা গুলিস্তান থেকে দোয়েল/সদেশ পরিবহন এ মদনপুর (৪৫ টাকা ভাড়া) নেমে আড়াইহাজার উপজেলায় এর সি এন জি ৫০ টাকা। রুট ২: কলাবাগান থেকে মেঘলা পরিবহন বাস ছাড়ে। ভুলতা/গাউসিয়া। ভাড়া ৬৫ টাকা। গাউসিয়া নেমে একটু সামনে যেয়ে লোকাল সি এন জি তে আড়াইহাজার বাজার । ভাড়া ৩০ টাকা।

ভোজন সুবিধা

আড়াইহাজার এ পাবেন বেশ কিছু মজার খাবার। দস্তরদি মোড়ে চাচার মালাই চা, আড়াইহাজার বাজার এ জিয়ার ডাল পুরি, পাশেই আরেকটা দোকানে আলু পুরি, নোয়াপাড়া ব্র্যাক এর পাশে ডাল পুরি, গোপালদি বাজার এ নাজিমুদ্দিন হোটেল এর গরুর মাংস না খেলে অনেক কিছুই অপূর্ণ রয়ে যাবে।

আজকের পত্রিকা/কেএইচআর/সিফাত

বৈশাখ নিয়ে আরও সংবাদ পড়তে ক্লিক করুন