মাসুদ সেজান ও উবারের লগো। ছবি: সংগৃহীত

অ্যাপ-ভিত্তিক পরিবহন সেবার নেটওয়ার্ক উবার বিশ্বের যে যে দেশে তাদের সেবা দিচ্ছে সব দেশেই কম বেশি এই প্রতিষ্ঠানটির চালকদের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ পাওয়া যায়। বিশেষ করে নারীদের যৌন হয়রানির অভিযোগই বেশি পাওয়া যায়। বাংলাদেশেও এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে নিয়মিত। ভাড়া বেশি নেওয়া, যাত্রীদের সঙ্গে অশোভন ব্যবহার করা, নারী যাত্রীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা, এমন কী নারী যাত্রী গাড়িতে বসিয়ে তার সামনে হস্তমৈতুন করার অভিযোগও পাওয়া গেছে ঢাকার উবার চালকদের বিরুদ্ধে। এবার জনপ্রিয় নাট্য নির্মাতা মাসুদ সেজান অভিযোগ করলেন এক উবার চালকের বিরুদ্বে। তিনি #উবারের_বিরুদ্ধে_অভিযোগ : #বিচার_দিবো_কোথায়? নামে হ্যাশ ট্যাগ নিয়ে অভিযোগের পুরো বর্ণনা তার ফেসবুকে পোস্ট করেছেন ২৮ জুলাই। সেই অভিযোগটি হুবহু তুলে ধরা হলো আজকের পত্রিকার পাঠকদের জন্য।

‘বাংলাদেশে উবার কর্তৃপক্ষ কারা? আমি জানি না। তারা কি কোনও গাড়িকে তাদের নেটওয়ার্কভূক্ত করার আগে সেই চালকের ইন্টারভিউ নেন? কাস্টমার সার্ভিস কাকে বলে, অ্যাপস দেখে কীভাবে লোকেশনে আসতে হয়- সেই প্রশিক্ষণ দেন? যাত্রীর সঙ্গে কীভাবে কথা বলতে হয়, ন্যূনতম ম্যানারটুকু শেখান? নাকি একটি অ্যাপস মার্কেটে ছেড়ে দিয়েই আপনারা কাড়ি কাড়ি টাকা ইনকাম করছেন এবং নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছেন? আপনাদের সার্ভিসের অবস্থা যে ছিরি থেকে বিচ্ছিরি পর্যায়ে নেমে গেছে, আপনারা জানেন?

কেন, কীভাবে? বলছি।
ছেলের স্কুল ও অন্যান্য প্রয়োজনে, আমার গাড়িটি ছেলেকে দিয়ে, জরুরি কোনও কাজে যদি উত্তরার বাইরে যেতে হয়, আমি সাধারণত উবার ব্যবহার করি। এই অভিজ্ঞতায়, তিক্ততার পাল্লাটাই ভারী। যেমন আজ সকালে, উত্তরা ৫নং সেক্টর থেকে শাজাহানপুর যাবো। রাস্তার জ্যাম বিবেচনায় নিয়ে একটি মোটর বাইক কল দিলাম। ওপাশ থেকে চালক তাৎক্ষণিক ফোন দিলেন, গুগলম্যাপে পিক পয়েন্ট ও গন্তব্যের উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও, তাকে স্ববিস্তারে আবার সবকিছু জানাতে হলো; একাধিক প্রশ্ন করে, খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে সব জানলেন। এর প্রায় পাঁচ মিনিট পর উনি এলেন, এসে আবারও প্রশ্ন করলেন, মেইন রোডে নামবো নাকি ভিতরে? আমি গন্তব্য পয়েন্ট অনুযায়ী মেইন রোডেই নামতাম, পুনরায় সেই উত্তরটিও দিতাম। কিন্তু অনুভব করলাম, ওনার প্রশ্নের মধ্যে উনি নিজেই উত্তর দিয়েছেন- ভিতরে হলে যাবেন না। আমি শুধু বলেছি, ম্যাপে যেখানে উল্লেখ করেছি, সেখানেই নামবো। আপনি বাড়তি প্রশ্ন কেন করছেন? -যা সন্দেহ করেছিলাম তাই, উনি হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে গেলেন, এবং জানিয়ে দিলেন- যাবেন না। আমি তাকে পাল্টা আর একটি প্রশ্নই করেছিলাম, আপনি যদি না-ই যাবেন, তখনই ক্যানসেল করে দিলেন না কেন?

আমার এই প্রশ্নে, আমাকে বিষ্মিত করে দিয়ে উনি যা যা বললেন, তার ভাবার্থ এই, উত্তরায় তার একটি বাড়ি আছে এবং আমরা যেখানে দাঁড়িয়ে কথা বলছি, সেখান থেকে মাত্র ১০০ গজ দুরে। তারপরও আমার এত সাহস কীভাবে হলো যে, তার সঙ্গে জেরা করছি! ইতোমধ্যে কিছু পথচারী জড়ো হয়েছেন, পুরোটা শুনে সবাই যখন তার আচরণের বিরোধীতা করে আমার পক্ষ নিয়েছেন, তখন তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠলেন। স্থানীয় বাড়িওয়ালা বলে কথা! এতো সহজে আমার লজিকে পরাজিত হয়ে বিদায় নিবেন, এটা যেন হতেই পারে না। একজন সন্ত্রাসীর বডি-ল্যাঙ্গুয়েজের ধরনে, উনি বাইক থেকে নেমে আমার দিকে তেড়ে এলেন। আমি তাকে শেষ বারের মতো বললাম, আপনি কোনও বাড়িওয়ালার পরিচয়ে আমার সামনে আসেননি, এসেছেন উবারের একজন চালক হিসেবে। কাজেই যাত্রীর সঙ্গে সৌজন্যমূলক আচরণ করবেন, এটাই আশা করছি। আমার আশাকে নিরাশায় পরিণত করে, এই বলে হুমকি দিলেন যে, উনি আমাকে দেখে নিবেন। ট্রিপ তো ক্যানসেল করলেনই, চলে যাবার সময় আমার দিকে এবং আমার বাসাটির দিকে এমন দৃষ্টি হানলেন- যে কোনও মূহুর্তে উনি আমাকে খেয়ে দিবেন, সেই ক্ষমতা ওনার আছে। বাসাটাও গুড়ো গুড়ো করে দিতে পারেন।

ওই বাড়িওয়ালা-কাম-ড্রাইভার লোকটি জানেন না, আমি অতটা দুর্বল নই। নেহায়েৎ ভদ্রতা দেখিয়ে তাৎক্ষণিক কোনও রি-অ্যাকশনে যাইনি। আমার রি-অ্যাকশনে না যাবার পেছনে আরও একটি কারণ আছে, -‘একজন’ ড্রাইভারকে উচিত শিক্ষা দিয়ে, আমি পুরো উবার-জাতীয় চিত্রটি বদলাতে পারবো না। আমরা প্রতিনিয়ত বাস ড্রাইভার এবং বাস মালিকদের চৌদ্দ-গুষ্টি উদ্ধার করছি, ধরে নিলাম তারা অশিক্ষিত। কিন্তু অ্যাপস দ্বারা পরিচালিত একটি শিক্ষিত-গোষ্ঠী কীভাবে জনগণের সাথে এমনটি বেপরোয়া, নাজেহালমূলক, বেয়াদবী আচরণ করতে পারে?

আমি ঠিক জানি না, সরকারের কোন্ দপ্তর এগুলো নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে আছে। জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে, সরকারের অনেক অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজের ফাঁকে এই বিষয়টিকেও আমলে নেওয়া দরকার। পুরো প্রক্রিয়াটিকে একটি নিয়মের মধ্যে আনা জরুরী। এটিও জনগুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: কথিত ড্রাইভারের ফোন নাম্বার এবং ছবি আমার সংরক্ষণে আছে। কোনও পক্ষ থেকে ব্যপারটির সুরাহা হয় কিনা দেখার অপেক্ষা করবো…’