আসাদুজ্জামান স্বপ্ন
সিনিয়র রিপোর্টার

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। ছবি : সংগৃহীত

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপ থেকে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। ১৮ ফেব্রুয়ারি সোমবার ঢাকা সিটি নির্বাচন নিয়ে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সঙ্গে সভা শেষে আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

২৪ মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে  কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী তৃতীয় ধাপের ভোট। ইসি সচিব বলেন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। মোট পাঁচটি ধাপে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মার্চে চার ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমাদের প্রত্যেকটি ধাপে ইভিএম ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বিধিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে একটু দেরি হওয়ার কারণে তৃতীয়, চতুর্থ এবং পঞ্চম ধাপে ইভিএম ব্যবহার করার বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।’

ইভিএম উপজেলার সংখ্যা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের আগেই সিদ্ধান্ত ছিল যে, সদর উপজেলাগুলোতে ইভিএম ব্যবহার করবো। তৃতীয় থেকে পঞ্চম ধাপে ইভিএম ব্যবহারের পরিকল্পনা এখন পর্যন্ত আমাদের আছে।

এক প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, সদর উপজেলা গুলোতে পরিকল্পনা আছে ইভিএম ব্যবহারে। আমারা তৃতিয়, চতুর্থ ও পঞ্চমধাপে ধাপের উপজেলা নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করার জন্য কমিশন সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে।

তিনি বলেন, আসন্ন ঢাকা সিটি উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে উপনির্বাচন ও নতুন ১৮টি ওয়ার্ডে সাধারণ নির্বাচন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সঙ্গে যুক্ত হওয়া নতুন ১৮টি ওয়ার্ডে সাধারণ নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থীরা যাতে কোনো প্রকার গ-গোল করতে না পারে সে জন্য আগে থেকেই তাদের মুভমেন্টগুলো ফলো করা হবে।

আচরণ বিধিমালা প্রতিপালন নিয়ে তিনি বলেন, আসন্ন ঢাকা সিটি করপোরেশন নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। নির্বাচন আচরণ বিধিমালা প্রতিপালন এবং নির্বাচনের পূর্বে, নির্বাচনের দিন এবং নির্বাচনের পরবর্তীকালে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রতি সাধারণ ভোটকেন্দ্রে সর্বোচ্চ ২২ এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ২৪জন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবেন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে পুলিশের মোবাইল টিম থাকবে ২৭টি, স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে ১৮টি এবং র্যাবের মোবাইল টিম থাকবে ২৮টি এবং বিজিবির মোবাইল টিম থাকবে ২৭টি। দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে পুলিশের মোবাইল ফোর্স থাকবে ৯ টি, স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে ৬ টি এবং র্যাবের মোবাইল টিম থাকবে ৯ টি এবং বিজিবির মোবাইল টিম থাকবে ৯টি। এছাড়াও র্যাব এবং বিজিবির আলাদা ভাবে তারা কিছু মোবাইল টিম ওয়েটিংয়ে রাখবেন। প্রয়োজন হলে যাতে তারা মুভ করতে পারেন।

তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় সংখ্যক ম্যাজিস্ট্রেট, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও যারা নির্বাচনের সময় মোতায়েন থাকবেন ওনারা যাতে কোথাও আইন শৃঙ্খলা ব্যহত না হয় এবং ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, তার জন্য সকল ধরণের আয়োজন রাখবেন এবং পরিবেশ যাতে বিঘ্নিত না হয়, সেটার দিকেও উনারা খেয়াল রাখবেন।

এব্যাপারে মাননীয় নির্বাচন কমিশনারগন তাদেরকে নির্বাচনের পরিবেশ সঠিক রাখার জন্য এবং ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন। তার পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেছেন। আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর যারা প্রধানগণ আছেন, তারা নিশ্চিত করেছেন এবং নির্বাচন কমিশনকে আশ্বস্ত করেছেন এমন কোনো পরিবেশ সৃষ্টি হবে না যার কারণে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যেতে না পারেন। সে জন্য কোনো আশঙ্কা নেই। ভোটের পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক আছে। ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন যোগ করেন সচিব।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১০ মার্চ প্রথম ধাপে ৮৭ উপজেলায় ভোট ১০। ১৮ মার্চ ১২৯ উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তৃতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচন আগামী ২৪ মার্চ সাত বিভাগের ২৫ জেলার ১২৭ টি উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া আগামী ৩১ মার্চ চতুর্থ ধাপে ১৮ জুন পঞ্চম ধাপে উপজেলা নির্বাচন।