সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা শ্রমিক লীগের আহবায়ক মামুনুর রশিদ।

লক্ষ্মীপুরে শ্রমিকলীগের আহ্বায়ক মামুনুর রশিদকে মারধরের বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে নেতাকর্মীরা। ২৬ মে রবিবার বিকেল ৩টার দিকে স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা শ্রমিকলীগের আহ্বায়ক মামুনুর রশিদ। তিনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স রিয়া এন্টারপ্রাইজেরও স্বত্বাধিকারী।

অভিযোগে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে লক্ষ্মীপুর শহরে যাওয়ার পথে আমার শার্টের কলার ধরে আফতাব উদ্দিন বিপ্লব ও তার সঙ্গে ১৮-২০ জন তমিজ মার্কেট এলাকার পিংকি প্লাজার নিচে নিয়ে যায়। এ সময় তারা আমার কাছে ঈদ খরচের জন্য ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা দিতে অপারগতা জানালে আমাকে এলোপাতাড়ি কিলঘুষি মারা হয়। পরে লোকজন জড়ো হলে আমাকে ছেড়ে দেয়। আহত অবস্থায় আমি সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিই। বিপ্লব লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মেয়র আবু তাহেরের পুত্র।

এ ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিতে পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের হাজী আহসান উল্লাহ পুত্র আবদুল মান্নান বাদী হয়ে শ্রমিকলীগ নেতা মামুনসহ ৪ জনকে আসামি করে একটি এজাহার দায়ের করেছেন বলে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. রাসেল মাহমুদ ভূঁইয়া মান্না, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম ভুলু, জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি বেলায়েত হোসেন বেলাল, মাহবুব ইমতিয়াজ, জেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাড. শেখ জামাল রিপন, বায়েজীদ ভূঁইয়া, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি চৌধুরী মাহমুদুন্নবী সোহেল, সাধারণ সম্পাদক রাকিব হোসেন লোটাস প্রমুখ।

এ ঘটনায় শুক্রবার সন্ধ্যায় মামুন বাদী হয়ে বিপ্লবকে প্রধান আসামি করে ২০ জনের বিরুদ্ধে সদর থানায় একটি এজাহার দাখিল করেছেন। মামুন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স রিয়া এন্টারপ্রাইজেরও স্বত্বাধিকারী।

যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে তারা হলেন পৌরসভার জুয়েল, আবদুল মান্নান, কিরন, তানিম, হারুনুর রশিদ, পশ্চিম লক্ষ্মীপুরের পরান, স্টেডিয়াম রোডের শাহাদাত হোসেন ও অজ্ঞাতপরিচয়ের আরও ১২ জন। তারা বিপ্লবের সহযোগী হিসেবে পরিচিত।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর বিপ্লব কারামুক্ত হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন ঠিকাদার-ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে আসছেন। গত বুধবার রাতে ঈদের খরচের জন্য ১৪-১৫টি মোটরসাইকেল নিয়ে বিপ্লবের লোকজন ঠিকাদার মামুনের পৌরসভার সাহাপুর এলাকার বাড়িতে গিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

এ সময় দাবি করা টাকা দিতে তারা ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন। পরদিন বৃহস্পতিবার বিকেলে লক্ষ্মীপুর শহরে যাওয়ার পথে মামুনের শার্টের কলার ধরে বিপ্লব ও আসামিরা তমিজ মার্কেট এলাকার পিংকি প্লাজার নিচে নিয়ে যান। টাকা দিতে অপারগতা জানালে তাকে এলোপাতাড়ি কিলঘুষি মারা হয়। পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। পরবর্তীতে মামুন সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন বলে এজাহারে উল্লেখ করেন।

এ ব্যাপারে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ লোকমান হোসেন বলেন, শ্রমিকলীগ নেতা মামুন বাদী হয়ে বিপ্লবসহ ২০ জনকে আসামি করে একটি এজাহার দায়ের করেন। অপরদিকে আবদুল মান্নান মামুনসহ ৪ জনকে আসামি করে একটি এজাহার করে। দুটি এজাহারের তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মোঃ সোহেল রানা/লক্ষ্মীপুর/জেবি