ফ্লাইওভারের নীচেও যানজট। ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ঈদে বাড়িফেরা সড়কপথের যাত্রীরা টেনশনে। ফ্লাইওভার, মেট্টোরেল ও সড়ক উন্নয়ন কাজের কারণে ঢাকা থেকে বের হওয়ার ৮ মুখে ভোগান্তির আশঙ্কায় এই টেনশন। বিশেষ করে ঢাকা-মাওয়া ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের প্রবেশমুখ যাত্রাবাড়ী-জুরাইন রেলগেট, গুলিস্তান-বাবুবাজার ব্রিজ থেকে চুনকুটিয়া মোড় ও কাঁচপুর সেতু-ভুলতা-গাউছিয়া মোড় পর্যন্ত।

পাশাপাশি সাইনবোর্ড মোড়-কাঁচপুর ব্রিজ, আমিনবাজার ব্রিজ-গাবতলীর মোড়, কামারপাড়া-আব্দুল্লাহপুর মোড়, টঙ্গী ব্রিজ থেকে বোর্ডবাজার ও সুলতানা কামাল ব্রিজ থেকে ডেমরা মোড়সহ রাজধানীর প্রবেশ ও বের হওয়া এই ৮টি মুখেই প্রচণ্ড যানজটে শিকার হতে হয় আন্তঃজেলা পরিবহনকে।

এছাড়া রাজধানীর অভ্যন্তরীণ সড়কে খানাখন্দের কারণে ঈদযাত্রায় দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দেবে জানান যাত্রীরা। তাই ঈদের আগে সড়ক উন্নয়ন কাজ বন্ধ রাখার পাশাপাশি ট্রাফিকের কঠোর মনিটরিংয়ে পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

ফ্লাইওভার, মেটে্‌ারেইল এর কাজের কারণে যানজট তীব্র আকার ধারণ করছে। ছবি : সংগৃহীত

তবে স্বস্তিদায়ক হবে জানিয়ে সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক আমাদের জন্য সমস্যার সৃষ্টি করে। এই দুই সড়কে উন্নয়ন কাজ চলছে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ওপর নির্মিত দুটি বড় ফ্লাইওভার ও ৪টি আন্ডারপাসের নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এগুলোর উদ্বোধন করেছেন। এর ফলে এই সড়কে যাত্রীরা এবার ভোগান্তিতে পড়বে না’।

কিন্তু ঢাকা থেকে বের হওয়ার মুখে দীর্ঘ যানজটের আশঙ্কা করছেন ঘরমুখো মানুষরা। এছাড়া ঈদের যদি কয়েক দফা বৃষ্টি হয় তাহলে মহাদুর্ভোগের শিকার হতে হবে যাত্রীদের। তাই সড়কপথে ঈদে বাড়ি ফেরা নিয়ে ভোগান্তির কথা চিন্তা করে অনেকেই ঈদে বাড়ি যেতে চান না।

রাজধানীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ সড়কের দুই পাশে অবৈধ গাড়ি পার্কিং ও ফুটপাতে দোকান তৈরি হয়েছে। এছাড়া ট্রাফির ব্যবস্থা ঠিক না থাকায় প্রতিদিন সায়েদাবাদ থেকে যাত্রাবাড়ী মোড়, যাত্রাবাড়ী থেকে শনিরআখড়া ও জুরাইন রেলগেট পর্যন্ত ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয়।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলছেন যানজট হবে না। ছবি : সংগৃহীত

এছাড়া মতিঝিল থেকে পুরানা পল্টন, প্রেসক্লাব, শাহবাগ, ফার্মগেট এলাকায় মেট্টোরেলের নির্মাণ কাজ চলায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয়। এর ফলে গুলিস্তান দিয়ে বাবুবাজার ব্রিজ ও যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার হয়ে যাওয়া আন্তঃজেলা পরিবহনগুলো ঢাকায় যানজটে আটকে থাককে হয় দীর্ঘ সময়।

ঈদের সময় গাড়ি সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে এসব এলাকায় ঘরমুখো মানুষ ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দেবে জানায় সংশ্লিষ্টরা। এর মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-বরিশাল ও ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের যাত্রীদের ঢাকা থেকে প্রবেশ ও বের হতে হয় কাঁচপুর, পোস্তগোলা ও বাবুবাজার ব্রিজ দিয়ে। তাই এই চারটি মহাসড়কের যাত্রীদের প্রবেশ ও বের হওয়ার মুখেই যানজটে শিকার হতে হয়।

যাত্রাবাড়ীর চৌরাস্তা থেকে সাইনবোর্ড হয়ে কাঁচপুর ব্রিজ পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার সড়কে যেতে ৩০-৪৫ মিনিট লাগার কথা। কিন্তু যানজটের কারণে ২-৩ ঘণ্টা সময় লাগে। এছাড়া কাঁচপুরের পুরনো সেতু সংস্কারের কাজ চলায় সেতু দিয়ে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ফলে যানজটের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দেয়।

পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মেঘনা ও গোমতি সেতুতে উঠার আগে আঁকাবাঁকা সংযোগ সড়কের পরিবহনের ধীরগতির কারণে যানজট তৈরি হয়।

এই পথে নিয়মিত যাতায়াত করেন আব্দুল্লাহ মজুনদার নামের এক যাত্রী বলেন, রোজার শুরু থেকে এই পথে যানজট বৃদ্ধি পেছে। রোজার আগে কুমিল্লা যেতে সময় লাগতো ২ ঘণ্টা। এখন সেখানে ৮ ঘণ্টা লাগে। এর প্রধান সমস্যা হলো যানজট। কাঁচপুর সেতুর আগ থেকে যানজট সৃষ্টি হয়। এটা গোমতী সেতুর পর শেষ হয়। নতুন সেতুর উদ্বোধনের পর যানজট কিছু কম হতে পাবে বলে জানান তিনি।

এদিকে ঢাকা-বরিশাল ও ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের যাত্রীরা রাজধানীতে প্রবেশ ও বের হয় পোস্তগোলা ও বাবুবাজার ব্রিজ দিয়ে। এছাড়া আরিচা ফেরিঘাট দিয়ে গাবতলীর আমিনবাজার সেতু দিয়েও উত্তরাঞ্চলের যাত্রীদের সঙ্গে ওই মহাসড়কের যাত্রীরা ঢাকায় প্রবেশ করে। কিন্তু ঢাকার প্রবেশমুখে জুরাইন রেল গেট থেকে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা, বাবুবাজার ব্রিজের উপর থেকে বংশাল মোড় ও আমিন বাজর ব্রিজের থেকে গাবতলীর মোড় পর্যন্ত যানজটে আটকে থাকতে হয় ঘরমুখো যাত্রীদের।

এছাড়া দোলাইপাড় চৌরাস্তা থেকে শুরু হয়েছে ঢাকা-মাওয়া চারলেন সড়কে নির্মাণ কাজ। এছাড়া জুরাইন রেলগেইট এলাকায় নির্মাণ করা হচ্ছে রেলওভারপাস। তাই সড়কে ধীরগতিতে নিয়ন্ত্রিতভাবে যানবাহন চলাচল করতে হচ্ছে। এতে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। ঈদের সময় এটা দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দেবে বলে জানান যাত্রীরা।

অন্যদিকে ঈদযাত্রায় দুর্ভোগের আশঙ্কা রয়েছে ঢাকা-সাভার-নবীনগর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা মহাসড়কে। এই সড়কে গাবতলীর পর থেকেই এলেঙ্গা পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটে শিকার হতে হয়। ঢাকা থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশে অবৈধ স্থাপনা, বাজার, যত্রতত্র যানবাহন পাকিং করা, যাত্রীদের বাসের জন্য সড়কের ওপর অবস্থান করার কারণে স্বাভাবিক গতিতে যানবাহন চলাচল করতে পারে না।

এ বিষয়ে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালন সাইদুর রহমান বলেন, ‘প্রতিবছর ঈদ উপলক্ষে ৭০ লাখ মানুষ রাজধানী ছাড়ে। কিন্তু এত মানুষের যাতায়াতে ক্ষেত্রে সরকারের কঠোর থাকা প্রয়োজন। ঈদের সময় ঢাকা থেকে বের হতে কিছু মনিটর করা হলেও ঈদের পরে ঢাকা ফেরার পথে কোনো মনিটর ও তদারকি থাকে না সরকারের তাই’।

ঈদের পরে সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষ বেশি মারা যায়। সড়ক ব্যবস্থাপনা ও ট্রাফিক পুলিশের কঠোর মনিটর ছাড়া ঈদযাত্রা দুর্ভোগ মুক্ত করা সম্ভব্য নয় বলে জানান তিনি।

আজকের পত্রিকা/আর.বি/এমএআরএস/জেবি