ঈদ যাত্রাকে সামনে রেখে মাওয়ায় নদীতে ড্রেজার মোতায়েন করা হয়েছে। ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ঈদের সময় মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ও রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া নৌপথে যাত্রী পারাপারে ভোগান্তি হবে না। পাশাপাশি ফেরি বা লঞ্চ চলাচলও কোন সমস্যা হবে না।

এ জন্য দেশের গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথ সচল রাখার জন্য ড্রেজার মোতায়েন রাখা হয়েছে। ড্রেজিং কার্যক্রমও চলছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ কর্তৃপক্ষের ( বিআইডব্লিউটিএ) ড্রেজিং বিভাগ।

ঈদের আগে ও পরে সার্বক্ষণিক ফেরি ও নৌযান চলাচল করতে পারে সে লক্ষে বিআইডব্লিটিএ এই কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে বলে সংশ্লিস্ট প্রকৌশলীরা জানান। কাঁঠালিয়া এলাকায় ৩টি এবং পাটুরিয়া ঘাটে ১ টি ড্রেজারসহ মোট ৪টি ড্রেজার মোতায়েন করে রাখা হয়েছে।

ফেরি ও নৌচলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে লৌহজং টার্নিং পয়েন্ট এলাকার দুই কিলোমিটার ভাটিতে প্রায় ৫ কিলোমিটার দৈর্ঘের একটি বিকল্প চ্যানেল তৈরির জন্য বিআইডব্লিউটিএ নিজস্ব ড্রেজার দিয়ে গত ২৭ ফেব্রুয়ারির থেকে ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু করেছে। আগামী জানুয়ারী পর্যন্ত চলবে এই কার্যক্রম।

২ এপ্রিল নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. খালিদ মাহমুদ চৌধুরী মুন্সিগঞ্জের মাওয়া ঘাট ও পদ্মা নদীতে ড্রেজিং কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

এই কার্যক্রম তধারকির জন্য ২ এপ্রিল মঙ্গলবার নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. খালিদ মাহমুদ চৌধুরী মুন্সিগঞ্জের মাওয়া ঘাট ও পদ্মা নদীতে ড্রেজিং কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

এ সময় তিনি যে কোন উপায়ে মাওয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌ ও ফেরি রুট সচল রাখতে বিআইডব্লিউটিএ’কে নির্দেশ দেন।

এ পথটি দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশ দ্বার। মাওয়াতে ১৫ টি ফেরি, ৮৭ টি লঞ্চ এবং ২৫০ টি স্পীডবোট চলাচল করে। মাওয়া থেকে কাঁঠালবাড়ীর নৌপথের দূরত্ব প্রায় ১০ কিলোমিটার।

জানা গেছে, মাওয়া ঘাটটি ২৯ একর জমির ওপর নির্মিত। এখানে ৪ টি লঞ্চ, ৪ টি ফেরি ও একটি স্পীডবোট ঘাট রয়েছ। প্রতিদিন মাওয়া কাঁঠালবাড়ী রুটে ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ গাড়ি মাধ্যমে প্রায় এক লাখ যাত্রী পারাপার হয়।

শিমুলিয়া-কাঠালবাড়ি নৌ-রুটের লৌহজং চ্যানেলে বর্ষার সময় নৌরুট সীমিত হয়ে পড়ে। এই রুটে ফেরি চলাচলও সমস্যা সৃষ্টি হয়।। এই অবস্থায় রুটের ১৭টি ফেরির মধ্যে চলাচল করে মাত্র পাঁচটি কে টাইপ ফেরি।

বর্ষার সময় সরু চ্যানেলে ড্রেজার মেশিন কাজ করায় রো-রো ফেরিসহ অন্য বড় ফেরিগুলোর চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে শিমুলিয়া ঘাট এলাকায় পাঁচ শতাধিক যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় থাকতে হয়। সে সময় দুর্ভোগে পড়ে যাত্রীরা।

ড্রেজিং কার্যক্রম পরিদর্শন করছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী। ছবি : সংগৃহীত

এ বিষয়ে ঘাট কর্তৃপক্ষ জানায়, লৌহজং চ্যানেলে দীর্ঘদিন ধরে নাব্যতা সংকট চলেছে। এ সংকট নিরসনের জন্যই আগাম ড্রেজিং শুরু হয়েছে।

ফুল বন্যার সময় অর্থাৎ জুন মাস থেকে অক্টোবর পর্যন্ত নৌ রুটের চ্যানেল নাব্যতা প্রকট আকার ধারন করে। প্রাকৃতিক আবহাওয়ায় ৭/৮ ফিত গভীরতা থাকে। পদ্মা সেতুর কারনে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়। তাই পূর্ব প্রস্তুতিমূলক বিকল্প পথ চলার জন্য ড্রেজিং এর কাজ শুরু করা হয়।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ প্রধান প্রকৌশলী ( ড্রেজিং) মো. আব্দুর মতিন বলেন, ‘মাওয়া-শিমুলিয়া-কাওরাকান্দি এবং দৌলাদিয়া-পাটুরিয়া-আরিচায় ফেরী ও লঞ্চ রুটের নদী সচল রয়েছে। আসন্ন ঈদে এই দুই প্রধান নদী পারাপার পথে যাত্রীদের কোনো ভোগান্তি হবেনা ।

তিনি বলেছেন, ‘গত সেপ্টেম্বর থেকেই এই দুই নৌপথে নদীর গভীরতা বজায় রয়েছে। নাব্যতা রয়েছে। শিমুলিয়ায় মূল পদ্মা থেকে যে ক্যানেলটিতে বেশি পলি জমতো তা জুলাই আগস্ট সেপ্টেম্বরের মধ্যে অপসারণ করার কারণে এখনো নদী গভীর রয়েছে এবং ফেরি ও লঞ্চ চলাচলে কোনো সমস্যা হচ্ছেনা। এছাড়া সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ থাকার কারনে কোনো ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারছেনা।

তিনি আরও বলেন, ‘নদীর তলদেশে স্রোতের তারতম্যের কারণে অনেক সময় পলি স্থানবদল করে। ড্রেজিং যেখানে করা হয় সেই গভীর গর্তে এসে রাতারাতি ভরে যায়। আর এই সমস্যাটা বেশি তৈরি হয় বর্ষা মৌসুমে। এখনো বর্ষা মৌসুম ততটা শুরু হয়নি। আর ঈদও সন্নিকটে । এরই মধ্যে ক্যানেলে পলি জমার সম্ভাবনা নেই’।

তিনি বলেন, ‘ঈদে কর্মকর্তাদের ছুটি থাকছেনা। তারা নৌবন্দরগুলোতে সার্বক্ষনিক দায়িত্ব পালন করবেন। যাত্রীরা যাতে নিরাপদে পারাপার হতে পারে তার জন্য তার দফতর প্রাণান্ত চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (পুর) ছাইদুর রহমান বলেছেন,‘ প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে একটি মনিটরিং সেল কাজ করবে ঈদের সময়। কর্মকর্তারা মাওয়া এবং আরিচা পাটুরিয়া ঘাটে পরিদর্শনে থাকবেন। তাছাড়া বেশ কয়েকটি ড্রেজিং প্রস্তুত রাখা হবে যাতে কোনো ধরনের সমস্যা হলে দ্রুত খনন কাজ সম্পন্ন করে যাত্রী পারাপার সহজ করা যায়’। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই ঈদে যাত্রীদের ফেরি বা লঞ্চ পারাপারে কোনো সমস্যা হবেনা ।

আজকের পত্রিকা/আর.বি/এমএইচএস