ছবি: আজকের পত্রিকা

বছরের সবচেয়ে বড় উৎসবের কাউন্টডাউন কিন্তু শুরু। দুর্দান্ত ত্বক আর চুলের জেল্লার জোরে স্পটলাইট কেড়ে নিতে চাইলে তার তোড়জোড় প্রয়োজন এখন থেকেই। সারতে হবে সাজপ্রস্তুতিও।

পরিবারের সবাই মিলে হৈ হৈ আড্ডা, বাইরে ঘুরতে যাওয়া, মেহমান থেকে রান্নার রণক্ষেত্র সামাল দেয়া- ঈদে কাজের তালিকার শুরু আছে, শেষ নেই। উৎসবের দিন বলে আরাম করে ছুটির দিন হিসেবে পার করার কোনো সুযোগই মিলবে না। বরং বাড়তি কসরত রয়েছে বিশেষ দিনগুলোর জন্য। সাজপোশাকে সব সময় ফিটফাট থাকতে হবে তো। আর ঈদে সাজবেন বলে তার মাত্র কয়েকদিন আগে মনস্থির করে বসে গেলেন আর কাজ হয়ে গেল, ব্যাপারটা মোটেই তা নয়। তাই ঈদের স্পেশাল রূপচর্চা সময় থাকতে শুরু করে দিলেই ভালো। এতে ঈদের সাজটাও হবে দেখার মতো। তার জন্যও চাই প্রস্তুতি। সমকালীন ট্রেন্ড ঘেটে তবেই সেট করতে হবে ঈদ মেকআপ লুক। মাথায় রাখতে হবে পোশাক, উপলক্ষ্য আর সময়টাও। সবশেষে যাচাই করে নিতে হবে পুরো লুকটা ব্যক্তিত্বের সঙ্গে কতটুকু মানাচ্ছে।

ত্বকের পরিপূর্ণ যত্নের জন্য বিশেষ পরিচর্যা চাই ঈদের আগে। এটা দু’ভাবে করা যেতে পারে। হোম ট্রিটমেন্ট এবং এক্সপার্ট ট্রিটমেন্ট। বাসায় বসে দৈনন্দিন ত্বকচর্চায় সবচেয়ে পুরানো আর প্রয়োজনীয় পদ্ধতি সিটিএম। অর্থাৎ ক্লিনজিং, টোনিং আর ময়শ্চারাইজিং। কিন্তু ঈদ বলে কথা। এক্ষেত্রে ক্লেনজিং, টোনিং, এক্সফোলিয়েটিং, হাইড্রেটিং এবং সান প্রটেকশনের মতো পাঁচটি পরিহার্যকে নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করতে পারলে ফলাফল আরও ভালো মিলবে। প্রতিটি ধাপের জন্য চাই প্রয়োজনীয় পণ্য। যা অবশ্যই ত্বকের ধরন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বাছতে হবে। তবেই হবে পরিপূর্ণ পরিচর্যা। শুধু মুখত্বক নয় যত্ন নিতে হবে শরীরের ত্বকেরও। ভালো ব্র্যান্ডের বডি অয়েল দিয়ে ম্যাসাজ করে তারপর গোসল সেরে নিলে শরীরে ত্বক সুন্দর দেখাবে, কোমল এবং স্বাস্থ্যজ্জ্বল। থাকবে সুস্থ। ত্বকের ধরন বুঝে বিশেষ ধরনের ফেস প্যাক তৈরি করে নেয়া যেতে পারে প্রাকৃতিক সব উপাদান দিয়ে। যারা আরও সহজ সমাধান চান তাদের জন্য রয়েছে অভিনব সব ট্রিটমেন্ট আর শিট মাস্ক। বিশেষ রূপচর্চায় ব্যবহারের উপযোগী সেগুলোও। বাসায় বসে চুলেরও নিয়মিত যত্ন নেয়া প্রয়োজন ঈদের আগে। নিয়ম করে শ্যাম্পু আর কন্ডিশনার মাখার পাশাপাশি মাখতে হবে হোমমেড হেয়ার প্যাক।

কখনোই শুধুমাত্র হোম ট্রিটমেন্টে শতকরা একশ শতাংশ ফল পাওয়া যায় না। ত্বকের ব্রণ, অ্যাকনে, বলিরেখা, ব্ল্যাকহেডস, সানবার্ন, ট্যানিং ছাড়াও চুলের উঠে যাওয়া কিংবা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তখন এক্সপার্ট ট্রিটমেন্ট জরুরি হয়। ঈদের এক মাস আগে একবার এবং দু সপ্তাহ আগে একবার ফেসিয়াল করিয়ে নিতে পারলে ভালো হয়। চুলের যত্নেও চলতে পারে হাইএন্ড সব হেয়ার ট্রিটমেন্ট। মুখের সঙ্গে মানিয়ে মানানসই হেয়ার কাট করিয়ে নিতে হবে ঈদের আগে। এতে নতুন হেয়ারস্টাইলের সঙ্গে নিজের সম্পূর্ণ লুক মানিয়ে নেয়ার সময় পাওয়া যাবে। যারা নতুন কোন হেয়ারস্টাইল ট্রাই করতে ইচ্ছুক নন তারা পুরানো স্টাইলই সামান্য টাচ আপ করিয়ে নিন। ট্রিমিং সেরে নেয়া যেতে পারে। যাদের হেয়ার কালার করা আছে তারা কালার টাচ আপ করিয়ে নিতে পারেন। আর ঈদের কয়দিন আগে স্পাতে গিয়ে আপাদমস্তক স্পেশালাইজড ট্রিটমেন্ট সেরে নেয়া যায় ফ্রেস দেখাবে। লাগবে সতেজ। তবে সেক্ষেত্রে সময় নিয়ে যাওয়া উচিত। তাড়া দিলে পুরো কাজটাই খারাপ হবে। হিতে বিপরীতটাও হয়ে যেতে পারে।

এ তো গেল ঈদের আগের সার্বিক প্রস্তুতি। ঈদের কয়টা দিন কীভাবে সাজবেন সেটা কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ঈদের চার পাঁচ দিন নানা রকমভাবে সেজে দেখা যেতে পারে। তবে পোশাক, মেকআপ, হেয়ারস্টাইল- সবক্ষেত্রেই কিন্তু কমফর্টটাই শেষ কথা।
প্রথমেই স্টক চেক করে নেয়া প্রয়োজন। কোন কোন প্রসাধনী শেষ হয়ে গিয়েছে বা নতুন কিনলে ভালো হয় সেটা যাচাই-বাছাই করে নেয়া দরকার। ঈদের আগেই বিউটি বক্সে পুরে ফেলুন সব প্রয়োজনীয় সামগ্রী। রানওয়ে, রেড কার্পেট থেকে ম্যাগাজিনের পাতা ঘেটে সাম্প্রতিক সাজ প্রবণতা বের করে ফেলা এখন খুব কঠিন নয়। সেগুলোর সঙ্গে ব্যক্তিত্ব আর ব্যক্তিগত পছন্দের মিশেলে সেজে উঠুন এবারের ঈদে। সেজন্য এ বছরকার মেকআপ ট্রেন্ডগুলো সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা চাই। এত করে লুক সাজানোর কাজটা সহজ হয়। সেজে ওঠা যায় ভিন্ন ভিন্ন রূপে।

ছবি: সংগৃহীত

মুখত্বকের জন্য
শিশিরসিক্ত স্বাভাবিক সুন্দর ত্বকের সময় এ বছর। তাই নো মেকআপ মেকআপ লুকটাই প্রাধান্য পাবে বেজ তৈরির ক্ষেত্রে। তবে আরও তীব্রভাবে। যেটুকু না করলেই নয়, শুধু সেটুকু মেকআপ ব্যবহার করে চেহারায় আবেদনময় আকর্ষণ তৈরি করাটাই হবে কাজ। কিন্তু দাগছোপ মুক্ত ঝলঝকে নিখুঁত যেন হয়। খুব বেশি কনট্যুর করার প্রয়োজন নেই ত্বক। বরং হাইলাইটারের উজ্জ্বলতা যেন যোগ হয়। আর ব্লাশন ব্যবহার অত্যাবশ্যক। ট্রেন্ডোমিটার তাই বলছে। আর্দি টোন থেকে পিচি পিঙ্ক ব্লাশ দিয়ে প্রাণ সঞ্চারণ যেন হয় ত্বকে।

ছবি: সংগৃহীত

চোখ সাজাতে
ক্লাসিক কালো চোখের দাপট থাকবে বছরজুড়ে। একদম সাদামাটা লাইন থেকে চোখের পুরোটা জুড়ে কাজল টানা ড্রামাটিক লুকের রমরমা থাকছে। কালোর পাশাপাশি নীলও হয়ে উঠবে জনপ্রিয়। রহস্যমোদির আই মেকআপের জন্য দারুণ অপশন এটি। চোখের পাতার পুরোটায় কিংবা লাইন ঘেঁষে, এমনকি ল্যাশও রঙিন হয়ে উঠতে পারে নীলে। থাকবে পিঙ্ক, পার্পল, অরেঞ্জ এর মতো শেডগুলোও। রঙের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি পাল্টে গেছে আইলাইনারের টানের পদ্ধতি। ক্যাটলাইন আর গ্রাফিক আর্ট তো ছিলই তালিকায় যোগ হয়েছে ফ্রি স্টাইল অ্যাবস্ট্রাক্ট আইলাইনারও। গ্লিটার, শিমার আইশ্যাডোর সঙ্গে ট্যানড, কালার ব্লক আর স্মোকিতেও সাজানো হবে চোখের পাতা। একদম মাসকারাবিহীন লুক যেমন থাকছে কালারড মাসকারাও।

ছবি: সংগৃহীত

ঠোঁট রাঙাতে
নো মেকআপ মেকআপ লুকের সঙ্গে মানিয়েই ট্রেন্ডে সেট হয়েছে বোল্ড লিপস্টিকের শেডগুলো। ম্যাজেন্টা রেড, ব্রাইট ফুশিয়া থেকে কালো আর নীলও তাই ঠোঁটে মেখে নিতে পারবেন অনায়াসে। লালের বিভিন্ন শেডের আলাদা কদর থাকবে বছরজুড়ে। থাকবে ওয়াইন লিপসও। তাই বলে যে ন্যুডের বাজার কমবে তা কিন্তু নয়। ম্যাট শেডের মভ, ট্যান, ক্যারামেল কিন্তু কোথাও যাচ্ছে না। জাস্ট বিটেন কিংবা কিসড লুক তৈরি করা হবে ন্যুড শেডগুলো দিয়ে। লিপস্টিকের ফর্মুলাতেও থাকছে নতুনত্ব। পাউডারি, স্টেইন আর গ্লসের নাম থাকবে তালিকার শীর্ষে। এদের সঙ্গত দেবে শিমার আর গ্লিটারও।

ছবি: সংগৃহীত

চর্চায় চুল
পেছনে টেনে বাধা চুল থাকছে এ বছরের ট্রেন্ডে। পরিপাটি করে আচড়ে নিয়ে পেছনে বাঁধতে পারেন পনিটেইল, বেণী এবং বান। বেণী আর পনিটেইলের মিশেলে তৈরি হেয়ারস্টাইল উৎসবসম্মত। গরমে আরাম দিতেও দারুণ। একদম টাইট কার্ল থেকে প্রায় খুলে যাচ্ছে এমন কার্লও করে নেয়া যাবে চুলে। আর চুল সটান সোজা না রেখে বরং ব্লো ড্রাই করে ভলিউম যোগ করে নিলে আরও সুন্দর দেখাবে। চুল কাটতে চাইলে জ’লাইন কিংবা মিডলেন্থ ববের দিকে ঝুঁকতে পারেন। বেবি, বারডট আর সফট কার্টেন ফ্রিজ্ঞও যোগ হতে পারে চুলের সাজে। রিচ কপারি, অ্যাশি সিলভার, স্ট্রবেরি হানি, মাশুরুম ব্রাউনও কিন্তু করা যাবে অনায়াসে। আর এমবেলিশড ববি পিন, হেড ব্যান্ডের মতো হেয়ার অ্যাকসেসরিজ ঈদ সাজে যোগ করবে বাড়তি আকর্ষণ।

আজকের পত্রিকা/সিফাত