মণিপুরী পাড়ায় পোশাক কেনাবেঁচায় ব্যস্ততা নেই, ছবি : সংগৃহীত

সামনে ঈদ। নতুন পোশাক লাগবেই সবার। কিন্তু এমন সময়েও সিলেটের মণিপুরি পাড়ায় কোনো ব্যস্ততা নেই।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঈদুল ফিতরে তাদের তেমন একটা কেনাবেঁচা হয়না। আর তাই, অন্যদের মতো তাদের ব্যস্ততাও নেই।

সিলেটের লামাবাজার এলাকায় গত ৭-৮ বছরে মণিপুরী তাঁত শিল্পজাত পোশাকের দোকান দোকান সংখ্যা বেড়েছে। এসব দোকানে সারাবছর মোটমুটি বিক্রি হলেও ঈদকে ঘিরে তাদের তেমন কোন তোড়জোড় নেই। নেই বিশেষ কোন আয়োজনও।গ্রাহক পর্যায়ে মনিপুরী তাঁতে বোনা শাড়ি, ওড়না, থ্রি-পিস, বিছানার চাদর, শাল, গামছা, ছেলেদের ফতোয়া, পাঞ্জাবীসহ নানাবিধ পোশাকের চাহিদা রয়েছে। লামাবাজারসহ নগরীর মণিপুরী তাঁত শিল্পজাত পণ্যের দোকানগুলোতে এই পোশাকগুলো পাওয়াও যায়।

প্রায় সারাবছর এসব পণ্যের চাহিদা থাকলে ঈদ মৌসুমে তা কিছুটা হ্রাস পায়। লামাবাজারের মা মণিপুরী বস্ত্রবিতান, রূপনগর মনিপুরী আড়ং, টপ-ইন-টাউন মণিপুরী শাড়ি ঘর, শ্রী-অঙ্গ মণিপুরী ফ্যাশন, শ্যামল মুনিপুরী শাড়ি ঘরসহ বেশ কয়েকটি দোকানের মালিক ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের সাথে কথা হয়।

তারা জানান, মনিপুরী তাঁতে বোনা কাপড়ের চাহিদা বেশি পর্যটকদের কাছে। ঐতিহ্য ও সৌন্দর্যের সমন্বয়ে তৈরি এসব বস্ত্র তারা কেউকেউ নিয়ে যান নিজের শখে, আর কেউবা কিনেন প্রিয়জনকে উপহার দিতে।তবে রমজানে সিলেটে তেমন একটা পর্যটক না আসায় তাদের তেমন তোড়জোড়ও নেই। দোকান সাজানো বা বিশেষ কোনও প্রোডাক্ট বাজারে নিয়ে আসার মতো প্রস্তুতি থাকেনা তাদের। নেই এবারও।ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মণিপুরী দোকানগুলোর ব্যবসা খারাপ গেলেও ছুটিতে বেড়াতে আসা পর্যটকরা সেই ক্ষতিটা মোটামুটি পুষিয়ে দেন বলে জানালেন ব্যবসায়ীরা।

এছাড়াও সিলেটে কর্মরত বিভিন্ন পেশার চাকরিজীবী যাদের বাড়ি সিলেটের বাইরে, রমজানের শেষে দিকে তাদের কেউকেউ বাড়ি যাওয়ার সময় প্রিয়জনের জন্য কিনে নিয়ে যান এসব বাহারি মণিপুরী পোশাক।এছাড়া বিশেষ দিবস, যেমন পহেলা বৈশাখ, ১৬ ডিসেম্বর, ২১ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে এসব দোকানে থাকে উপছে পড়া ভিড়। কিছুটা নতুনত্ব আর ঐতিহ্যের ধাঁচে তৈরি পোশাকের খুঁজে দোকানগুলোতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন ক্রেতারা।

মণিপুরী সম্প্রদায়ের মহিলা-পুরুষ কর্মিদের নিজস্ব তাঁতে তৈরি কাপড় বহুকাল থেকেই সিলেট অঞ্চলের ঐতিহ্যের তালিকায়। একসময় তা নিজেদের প্রয়োজনে উৎপাদন হলেও এখন তা বানিজ্যিকভাবেই উৎপাদন ও বাজারজাত হচ্ছে।

আজকের পত্রিকা/আরকে/এমএইচএস