ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনার যানবাহনের চিত্র। ছবি : সংগৃহীত

সদ্য বিদায়ী পবিত্র ঈদুল ফিতরে যাতায়াতে দেশের সড়ক-মহাসড়কে ২৩২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭৩ জন নিহত ও ৮৪৯ জন আহত হয়েছে। সড়ক, রেল ও নৌ-পথে সম্মিলিতভাবে ২৫৬ টি দুর্ঘটনায় ২৯৮ জন নিহত ও ৮৬০ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

১৫ জুন শনিবার ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটি মিলনায়তনে যাত্রী কল্যাণ সমিতি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিবেদন-২০১৯ প্রকাশকালে এই তথ্য তুলে ধরেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিবছর ঈদ কেন্দ্রিক সড়ক দুর্ঘটনা আশংকাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় সংগঠনটি ঈদ যাত্রায় সড়ক, রেল ও নৌ-পথে দুর্ঘটনা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যাত্রী হয়রানীর বিষয়টি বিগত ২০১৬ সাল থেকে অত্যান্ত দক্ষতা ও বিশ্বস্থতার সহিত পর্যবেক্ষণ করে আসছে। যা সর্বমহলে প্রশংসিত হওয়ার পাশাপাশি জনসচেতনতা সৃষ্টিতে উল্লেখযোগ্য ভুমিকা রাখছে।

লিখিত বক্তব্যে মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘বিগত ঈদের চেয়ে এবার রাস্তাঘাটের পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো, নৌ-পথে বেশ কয়েকটি নতুন লঞ্চ বহরে যুক্ত হয়েছে, রেলপথেও বেশ কয়েক জোড়া নতুন রেল ও বগি সংযুক্ত হয়েছে। এবারের ঈদের লম্বা ছুটি থাকায় জনসাধারণ আগেভাগে বাড়ি পাঠানোর সুযোগ কাজে লাগানোর কারণে ঈদযাত্রা খানিকটা স্বস্তিদায়ক হয়েছে’।

শনিবার ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটি মিলনায়তনে যাত্রী কল্যাণ সমিতি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী। ছবি : সংগৃহীত

তিনি আরও বলেন, ‘এবারের ঈদে বিগত বছরের তুলনায় সড়ক দুর্ঘটনা ১৯.৩৯ শতাংশ, নিহত ২৪.১৭ শতাংশ ও আহত ৪৮.৯৯ শতাংশ কমেছে। এবছর মোট সংঘটিত ২৩২টি সড়ক দুর্ঘটনার ৭৬টি ঘটেছে মোটরসাইকেলের সাথে অন্যান্য যানবাহনের সংঘর্ষে, যা মোট দুর্ঘটনার ৩৩ শতাংশ। যেখানে মোট নিহতের ৩০ শতাংশ এবং মোট আহতের ১০ শতাংশ’ ।

তিনি বলেন, ‘ পথচারীকে গাড়ী চাপা দেয়ার ঘটনা প্রায় ৪৫ শতাংশ ঘটেছে। আগামী ঈদে এ দুটি ঘটনা এড়ানো সম্ভব হলে এই দুর্ঘটনার প্রায় ৮০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব’।

ঈদ যাত্রা শুরুর দিন ৩০ মে থেকে ঈদ শেষে বাড়ি থেকে কর্মস্থলে ফেরা ১১ জুন পর্যন্ত বিগত ১৩ দিনে ২৩২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭৩ জন নিহত ও ৮৪৯ জন আহত হয়েছে। এসব ঘটনায় ৪০জন চালক, ২০জন শ্রমিক, ৬৮জন নারী, ৩৩জন শিশু, ২৪জন ছাত্র-ছাত্রী, ০২জন চিকিৎসক, ১৯জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনীর সদস্য, ০৩জন রাজনৈতিক নেতা, ৯১২জন পথচারী সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।

উল্লেখিত সময়ে রেল পথে ট্রেনে কাটা পড়ে ০৮টি, ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে ০২ টি , ট্রেন যানবাহন সংঘর্ষে ০১ টি, ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার ০২টি ঘটনায় মোট ১৩ জন নিহত ও ০৩ জন আহত হয়েছে। একই সময়ে নৌ-পথে ১১টি ছোটখাট বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত, ০৩ জন নিখোঁজ ও ০৮ জন আহত হয়েছে।

সংগঠিত দুর্ঘটনা বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২৭.৪৩ শতাংশ বাস, ২৩.৮৯ শতাংশ মোটরসাইকেল ২৩.৫৯ শতাংশ ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান, লরি, ৮.২৫ শতাংশ কার-মাইক্রো, ৭.৬৬ শতাংশ অটোরিক্সা, ৪.৪২ শতাংশ নছিমন-করিমন ও ৪.৭১ শতাংশ ব্যাটারি রিকশা ও ইজিবাইক এসব দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল।

সংগঠিত দুর্ঘটনার ২৯.৭৪ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৪৪.৮২ শতাংশ পথচারীকে গাড়ী চাপা দেয়ার ঘটনা, ১৯.৩৯ শতাংশ নিয়ন্ত্রন হারিয়ে খাদে পড়ার ঘটনায় ও ৬.০৩ শতাংশ অনান্য অজ্ঞাত কারনে দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে সুপ্রীম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিষ্টার জ্যোর্তিময় বড়–য়া, নাগরিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক শরীফুরজ্জামান শরীফ, নিরাপদ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইবনুল সাঈদ রানা, সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব এম. মনিরুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আজকের পত্রিকা/আর.বি