সাতক্ষীরায় সক্রিয় মাদক সিণ্ডিকেট

ভারত সীমান্তবর্তী জেলা সাতক্ষীরা। জেলায় ২৩৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভারতীয় সীমান্ত। সুন্দরবনের মধ্যে একশ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে জল সিমানা বেষ্টিত আর ১৩৮ কিলোমিটার রয়েছে স্থল ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকা। এসব ভারতীয় সীমানা দিয়ে চোরাইপথে মাদক ঢুকে পড়ে বাংলাদেশে।

চোরাই পথে ভারত থেকে আসা মাদকের মধ্যে রয়েছে ফেন্সিডিল, গাজা, ইয়াবা ও বিভিন্ন ধরণের মদ। ঈদকে সামনে রেখে সক্রিয় হয়ে উঠেছে মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। তবে প্রশাসনিক তৎপরতাও রয়েছে। ভারত সীমান্ত পেরিয়ে মাদকসহ বিভিন্ন ধরণের দ্রব্য অবৈধ পথে ভারত থেকে দেশে প্রবেশের সময় বিজিবির অভিযানে আটকের ঘটনা ঘটে অহরহ। তবে এসময় চোরাকারবারীদের আটককে সক্ষম হন না বিজিবি।

এছাড়া বিজিবির চোঁখ ফাঁকি দিয়ে ভারতীয় সিমান্ত পেরিয়ে সাতক্ষীরার স্থলভাগে প্রবেশের পর তা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্নস্থানে পাচার হয়ে যায়। তবে এসব পাচারকালে পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ, র‌্যাবের অভিযানে আটক হয় ভারতীয় এসব মাদক। কখনো কখনো আটক হয় মাদক ব্যবসায়ীও। তবে থেমে নেই মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। ঈদকে সামনে রেখে বেপোরোয়া তারা।

আলাপকালে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাদকসেবী জানান, প্রশাসনের এত অভিযানের পরও টাকা হলে ফেন্সিডিলসহ বিভিন্ন ধরণের মাদক সাতক্ষীরা শহরেরই পাওয়া যায়। তবে শহরের মধ্যে একটু দাম বেশী নেয়। সীমান্ত এলাকায় গেলে কম দামে পাওয়া যায়। শহরের মধ্যে প্রতি পিস ফেন্সিডিল পাওয়া যায় ৮০০-৯০০ টাকায়। ভোমরা সীমান্ত এলাকায় পাওয়া যায় ৫শ টাকায়।

সাতক্ষীরার ভোমরা স্থল বন্দর সীমান্ত এলাকায় রয়েছে মাদকের পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা। পাইকারী বিক্রেতার মধ্যে বড় ব্যবসায়ী হলেন শান্ত। যশোর জেলার শার্শা উপজেলায় বাড়ি হলেও থাকেন সাতক্ষীরাতে। ভোমরা এলাকার সবুর ও বাবুকে দিয়ে শান্ত নিয়ন্ত্রণ করে তার ফেন্সিডিল ব্যবসা। অবৈধ মাদক ব্যবসার টাকা ভাগবাটোয়ারা রয়েছে চারটি খাতা। চারটি খাতার মধ্যে একটি পুলিশের, একটি সাংবাদিকদের, আরেকটি সরকার দলীয় নেতাকর্মী ও অন্যটি বিবিধ খরচের হিসাব। মাদক বিক্রেতা শান্ত যখন যাকে টাকা দেন তখন তার খাতায় সেগুলো লিপিবদ্ধ করে রাখেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জৈনিক ব্যক্তি এসব তথ্য জানিয়ে আরও বলেন, রায়হান, বাবু ও আরিফ ভোমরা এলাকার মাদকের খুচরা বিক্রেতা। ফেন্সিডিলসহ বিভিন্ন ধরণের মাদক বিকিকিনি করেন তারা। এছাড়া ভোমরা এলাকায় ইয়াবার খুচরা বিক্রেতা রয়েছেন শিমুল। সদরের আলীপুর চেকপোষ্ট এলাকার ফেন্সিডিলের পাইকারি বিক্রেতা রয়েছে মুজিব। সেখান থেকে ভিতরে পাচানী স্কুল এলাকায় জিল্লু ও হবি করেন মাদকের খুচরা ব্যবসা। এসব মাদক ব্যবসায়ীদের নামে বিভিন্ন সময়ের মাদক মামলাও রয়েছে।

তবে মাদকের পাইকারী বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে জানতে ভোমরা এলাকার শান্তর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার ব্যবহৃত ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলী আহম্মেদ হাশেমী বলেন, ভারত থেকে ফেন্সিডিলসহ যে সকল মাদক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে সেগুলো আটক করতে গোয়েন্দা পুলিশ তৎপর রয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে মাদক ব্যবসায়ীরা সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করলেও আমাদের প্রশাসনিক নজরদারি ও টিম বাড়ানো হয়েছে। আমরাও খোঁজ খবর রাখছি একই সঙ্গে প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে মাদক ব্যবসায়ীসহ ইয়াবা, ফেন্সিডিলসহ বিভিন্ন ধরণের মাদক উদ্ধার করা হচ্ছে। আটক করা হচ্ছে মাদক ব্যবসায়ীদের।

চোরাচালান ও মাদকের বিষয়ে সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম মহিউদ্দিন খন্দকার বলেন, সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বিজিবির টহল জোরদার রয়েছে। বিজিবির অভিযানে প্রতিনিয়তই বিভিন্ন ধরণের মাদক উদ্ধার হচ্ছে।

এছাড়া অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় ভারতীয় পণ্যও উদ্ধার করা হচ্ছে। চোরাচালানীরা সক্রিয় হলেও সীমান্ত এলাকায় তৎপর রয়েছে বিজিবি।

বৈশাখী/সাতক্ষীরা