মহাকাশযানটির নাম দেওয়া হয়েছিল 'বেয়ারশিট'। ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলের একটি মহাকাশযান চাঁদে অবতরণ করার আগেই ইঞ্জিনের ত্রুটির জন্য চাঁদের মাটিতে আছড়ে পড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে। এটাই ছিল চাঁদে ইসরায়েলের প্রথম অভিযান এবং ব্যক্তিগত অর্থে পরিচালিত প্রথম চন্দ্রাভিযান।

মহাকাশযানটির নাম দেওয়া হয়েছিল ‘বেয়ারশিট’। হিব্রু শব্দ বেয়ারশিট-এর অর্থ ‘প্রারম্ভ’। ইসরায়েলের এই চন্দ্রাভিযানের জন্য মোট খরচ ধরা হয়েছিল ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। মূলত ছবি তুলে পৃথিবীতে পাঠানো এবং কিছু পরীক্ষানিরীক্ষা চালানোই ছিল ইসরায়েলি চন্দ্রযানটির মূল কাজ। তবে বিধ্বস্ত হওয়ার আগেও ছবি তুলে পঠিয়েছে বেয়ারশিট।

বিধ্বস্ত হওয়ার আগেও ছবি তুলে পাঠিয়েছে বেয়ারশিট। ছবি : সংগৃহীত

বেয়ারশিট একটি যৌথ প্রকল্প। বেসরকারি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান স্পেসসেল এবং ইসরায়েল এরোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ বা আইএআই একসাথে কাজ করেছে এখানে। চাঁদের বুকে সঠিকভাবে যান অবতরণ করানো, যাকে সফট ল্যান্ডিং বলা হয় তাতে সোভিয়েত ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন ছাড়া আর কেউই সফল হয়নি। ইসরায়েল আশা করেছিল তারা এই কাজে সফল হওয়া চতুর্থ দেশ হবে।

স্পেসসেল এর প্রতিষ্ঠাতা মরিস কান সংবাদমাধ্যমে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন যে, চাঁদে অবতরণ করাটা বেশ চ্যালেঞ্জিং একটি ব্যাপার হবে। মহাকাশযানটি ধ্বংস হওয়ার পর কান বলেন, ‘আমরা সফল হইনি, তবে আমরা চেষ্টা করেছি। আমরা যে পর্যন্ত যেতে পেরেছি সেটাও একটা দারুণ ব্যাপার, আমরা এ জন্য গর্ববোধ করতে পারি। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীও ‘আবার চেষ্টা করার’ কথা বলেছেন।’

চন্দ্রযানটির গায়ে লেখা ছিল ‘ছোট দেশ, বড় স্বপ্ন’। ছবি : সংগৃহীত

পৃথিবী থেকে চাঁদে পৌঁছানো কয়েক দিনের ব্যাপার মাত্র। কিন্তু বেয়ারশিটের সময় লেগেছে কয়েক সপ্তাহ। এত দীর্ঘ সময় লাগার পেছনে মূল কারণ হলো পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব ৩ লাখ ৮০ হাজার কিলোমিটার হলেও বেয়ারশিট পাড়ি দিয়েছে এরচেয়ে আরো ১৫ গুণ বেশি পথ। বেয়ারশিট পৃথিবীর কক্ষপথেও কয়েকবার চক্রাকারে ঘুরেছে।

ইয়েহুদে আইএআই-এর কমান্ড সেন্টারের বাইরে চাঁদে অবতরণের সরাসরি দৃশ্য টিভিতে দেখতে লোক জড়ো হয়। কিন্তু যখন ঘোষণা করা হলো যে অবতরণ সফল হয়নি – তখন দর্শকদের মধ্যে হতাশাসূচক আর্তনাদ শোনা যায়।

আজকের পত্রিকা/বিএফকে/আ.স্ব/জেবি