ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড.রাশিদ আসকারীর অপসারণের দাবীতে মানববন্ধন করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

সোস্যাল মিডিয়া ফেসবুকে তাদের নিজস্ব টাইমলাইনে মানববন্ধনের চরম বিরোধিতা করে উপাচার্যের পক্ষে বিভিন্ন স্টাটাস ও মন্তব্যের মাধ্যমে এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

কিছু শিক্ষার্থীদের দেয়া স্টাটাস গুলো পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো………

সাইফুল্লাহ খালিদ নামে এক শিক্ষার্থী ফেসবুক স্টাটাস দিয়ে জানান, আসকারী স্যারের মত যোগ্য ডিসিতে দালাল ও ধান্ধাবাজি লোকদের চলবেনা। পাপিয়া বা শাহেদের মত কেউ ভিসি হলে তারা খুশি হবে।

আব্দুল হাই নামে এক শিক্ষার্থী ফেসবুকের এক স্টাটাসে মন্তব্য করে বলেন, আমরা ১ম বর্ষে ১৮ মাস, ২য় বর্ষে ১৬ মাস, ৩য় বর্ষে ১৫ মাস, ৪র্থ বর্ষে ১২মাস এবং মাস্টার্সে ১১ মাস ভুক্তভোগী ছিলাম। বহু লোকের কামাই বন্ধ হয়ে গেছে এ ভিসির করনে। শিক্ষক ও কর্মকর্তারা আম বাগানে আড্ডা দিতে পারেনা। ১০ -১২ টা পর্যন্ত ক্যাম্পাস করে পরে জম্পে আড্ডা। কাজ করে বেতন নেয়া লাগে এখন। কোন মানুষই নিখুঁত না। এরা সেটা ভুলে গেছে।

আরিফুল ইসলাম খান নামে ফার্মেসি বিভাগের এক শিক্ষার্থী লিখেন এরা সেই শিক্ষক সমিতি যারা নির্বাচনে পূর্নাঙ্গ প্যানেল দিয়ে একটি সদস্য পদেও জিততে পারে নাই আবার এরাই জামাতেই প্রার্থীক ভোট দিয়ে জিতিয়েছে (কারন জামাতের ভোটার সংখ্যার সব পেলেও জিতার কথা ছিলো না)। এজন্যই হয়তো বলে, খারাপ মানুষের চোখে উন্নয়ন ভালো লাগে নাহ।

মেহেদী হাসান সুমন নাম ইইই বিভাগের এক শিক্ষার্থী লিখেন কতিপয় স্বার্থান্বেষী শ্রেণীর কালো থাবায় ইবিকে আবারও দুর্দশায় পতিত করার হীন চক্রান্ত চলছে। আসকারী স্যারের দায়িত্ব গ্রহনের আগের কালো দিনগুলোর সাক্ষী যারা আছেন এমন নিউজ দেখার পর তাদের আক্ষেপ করা ছাড়া কিছুই করার নাই। গোয়েন্দা সংস্থার সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে জননেত্রী আবারও স্যারকে পুনরায় দায়িত্ব দিবেন সেই কামনা করি।

জহির আহমেদ নামে বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এক শিক্ষার্থী তার কমেন্টে লিখেন, ইবি উন্নয়নের রুপকার বর্তমান ভিসি,পুনরায় এই ভিসি বহাল রাখার জোর দাবি জানাচ্ছি। আগে এই ক্যাম্পাসেই অনার্স শেষ করতেই ৭-৮ বছর লাগতো, একটু ঝামেলাতেই ক্যাম্পাস বন্ধ হয়ে যেত, বাংলাদেশের সব চেয়ে কম বাজেট আসতো ইবিতে, ক্যাম্পাসের বাস গুলো খুবই নিন্মমানের ছিলো, বর্তমান ভিসি ইবিকে নতুন রুপে সাজিয়েছেন,তা সবারই জানা।

এমন শত শত শিক্ষার্থী ফেসবুকে স্টাটাস ও মন্তব্যের মাধ্যমে উপাচার্য রাশিদ আসকারীর বিরুদ্ধে শনিবার অনুষ্ঠিত মানববন্ধনের তীব্র প্রতিবাদ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এব্যাপারে ইবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম পলাশ বলেন, ভিসি বিরোধী আন্দোলনের সাথে ইবি শাখা ছাত্রলীগের কোন সম্পৃক্ততা নেই। তিনি সকলকে ছাত্রলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে এসব কর্মকান্ডে জড়িত না হওয়ার জন্য আহবান জানান।

ভিসির বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি করে পলাশ বলেন, বর্তমান ভিসি ড. রাশিদ আসকারীর আমলে ক্যাম্পাসে যে উন্নয়ন সাধিত হয়েছে তা সর্বমহলে প্রশংসিত। আসকারী মেয়াদের ২৫ দিনের মাথায় তারা কেন এখন এসব কর্মকান্ড পরিচালনা করছেন তা সকলের জানা।

উল্লেখ্য, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় যখন প্রগতিশীল চর্চা ও অবকঠামোগত উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে ঠিক তখনই কিছু কুচক্রী মহল নানা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য উপস্থাপন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রাশিদ আসকারী’র বিরুদ্ধে একের পর এক ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে।

এর অংশ হিসেবে শনিবার কুষ্টিয়ার এনএস রোডে বহিরাগত অছাত্র, পদবঞ্চিত ছাত্রলীগ নেতা, শিক্ষক, কমর্কতা ও শিবির নেতাকে দিয়ে ইবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. রাশিদ আসকারীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেন।

  • 189
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    189
    Shares