মাহমুদ উল্লাহ্‌
বিজনেস করেসপন্ডেন্ট

ইফতার মাহফিলে চলে গেট টুগেদার। পুরনো বন্ধুকে খুঁজে পাওয়ার আনন্দ। ছবি : সংগৃহীত

ইফতার মাহফিল এখন শুধু অফিসিয়াল বিভিন্ন কোম্পানির কোন আয়োজন, বা রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগেই হয় না। বিভিন্ন স্কুল কলেজের ফেসবুক গ্রুপগুলোও এখন ইফতার মাহফিলে সক্রিয়। তারা শুধু মাহফিলে সীমাবদ্ধ নয়, ইফতার মাহফিল এখন ইফতার পার্টি অথবা গেট টুগেদারের মতো হয়ে গেছে। সবাই সারা বছর নানা কাজে ব্যস্ত থাকে। বছরে একটা দিন ইফতারের মাধ্যমে দেখা হয় শহরের এখানে সেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বন্ধুগুলোর। আর এটা সম্ভব হয়েছে ইফাতার পার্টিরই কল্যাণে। তাই ইফতার মানে এখন শুধু খাওয়া নয়, সঙ্গে জড়িয়ে গেছে গেট টুগেদারের মতো সামাজিক একটি শক্তিশালি প্লাটফর্ম যেখানে সবাই একসঙ্গে একত্রিত হয়।

এ ফেসবুকভিত্তিক গ্রুপগুলো হতে পারে বন্ধুদের, চেনা মানুষদের আবার অচেনা মানুষদের চেনার দারুন সুযোগও। তবে দীর্ঘদিন ধরে গ্রুপে সক্রিয় থেকেছেন, কিন্তু বাস্তবে দেখা হয়নি, এমন বন্ধুরা সব অনলাইনের পাতা ছেড়ে বাস্তবের পাতায় দেখা করছেন ইফতার মাহফিলের মাধ্যমে।

‘এসএসসি ৯৮ এবং এইচএসসি ২০০০’ নামে একটি ফেসবুকভিত্তিক গ্রুপের কথাই ধরা যাক। নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে এখন থেকে ২১ বছর আগে যারা স্কুল আর ১৯ বছর আগে যারা কলেজের গন্ডি ছেড়েছেন, তাদের গ্রুপ এটা। সারাদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন এ গ্রুপের সদস্যরা। স্ব স্ব কর্মক্ষেত্রে অনেকে আলো ছড়াচ্ছেন।

এর মধ্যেই গ্রুপের সদস্য সংখ্যা আট হাজার ছাড়িয়েছে। কিন্তু বেশির ভাগ সদস্য একে অন্যকে চিনে না। দেখা হয়নি একজনের সঙ্গে অন্যজনের। তারা এবার ৩১ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কারস ক্যাফেটেরিয়ায় আয়োজন করেছে ইফতার মাহফিলের। ১১০টিরও বেশি স্কুলের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নিচ্ছে। জম্পেস আড্ডা আর নতুন পুরনো বন্ধুদের সাথে দেখা করতে উদগ্রীব হয়ে আছে এ গ্রুপের সদস্যরা।

গ্রুপে নিয়মিত পোস্ট কমেন্ট করে যাওয়া শাকিল আহমেদ জানান, এতদিন যাদের সাথে অনলাইনে বন্ধুত্বের কথা চালাচালি হয়েছে, এবার বাস্তবে তাদের দেখবো। দেড় যুগের বেশি আগে হঠাৎ ফেলে আসা স্কুল কলেজ জীবন যেন আমাদের কাছে এখন রঙিন আলোয় উদ্ভাসিত হচ্ছে এ ইফতার মাহফিলের মাধ্যমে।

ইফতার মাহফিলের অন্যতম আয়োজন ফারুক উজ জামান বলেন, শুরুতে খুব অল্প কয়েকজন বন্ধু মিলে যখন পরিকল্পনাটি করছিলাম, তখন ভাবতেও পারিনি এত সাড়া পাবো। আমাদের রেজিস্ট্রেশনের কোটা মাত্র একদিনে টার্গেট ফিলআপ হয়ে যায়। এখন গ্রুপের অনেকেই ফোন করছে, বিকাশে টাকা পাঠাতে চাইছে, কিন্তু সবাইকে জায়গা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

অন্যতম আয়োজক সাবরিনা নওরিন লিমু বলেন, সামনের বছর আরো বড় আয়োজনে সব বন্ধুদের নিয়ে ইফতার মাহফিলের আয়োজনের কথা ভাবছি আমরা।

গ্রুপের সদস্য আমিনুল ইসলাম বলেন, সুনামগঞ্জে সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী আমি। ডুয়েটে পড়েছি। কিন্তু সারাদেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আমাদের ব্যাচের হাজারো শিক্ষার্থী আছে, যাদের সঙ্গে কোনদিন কথা হয়নি, দেখা হয়নি, তাদের সবাইকে তুই তুই করে সম্বোধন করছি, গল্প করছি স্মৃতি রোমন্থন করছি, এটা সত্যি দারুণ এক ব্যাপার।

জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা ফজলুল হক রাসেল বলেন, আমাদের মধ্যে অনেকে আবার পেশাগত জীবনে পরিচিত। কিন্তু আমরা যে এক ব্যাচে পড়াশুনা করেছি, তা কোনোদিন জানতামই এ গ্রুপে না এলে। বড় ভাই বলে যাদের এতদিন সম্মান করেছি, এখন দেখা যাচ্ছে তারা সব আমাদের বন্ধু। তবে শুধু বন্ধুত্ব নয়, আপনি যেহেতু জানেন, আপনার বন্ধুরা কে কোথায় আছেন, জীবনের নানা প্রয়োজনে তাদের কাছ থেকে আপনি সহযোগিতাও নিতে পারছেন এখন।

আজকের পত্রিকা/এমইউ/এমএইচএস