`ইতিহাস কথা কও' গীতিনাট্য প্রদর্শনী করেতে গোপালগঞ্জ উদীচী ভারতে

উদীচী গোপালগঞ্জ জেলা সংসদ গীতিনাট্য “ইতিহাস কথা কও” প্রদর্শনী করতে ভারত যাচ্ছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আমন্ত্রণমূলক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ১৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আজ বৃহস্পতিবার ভারতের উদ্দেশ্যে গোপালগঞ্জ ছেড়েছে।

তারা সেখানে ২ দিনে ১টি গীতিনাট্য প্রদর্শনী করবে।

এ উপলক্ষে বুধবার বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে শেষ অনুশিলন শেষ করেছে দলটি। এই প্রথম কোন সাংস্কৃতিক দল গোপালগঞ্জ থেকে দেশের বাইরে অনুষ্ঠান করতে যাচ্ছে।

আগামীকাল শুক্রবার বিকেল ৫টায় ভারতের বর্ধমান জেলার বর্ধমান টাউন হলে “দশরুপক” এর ২৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও আর্ন্তজাতিক সাংস্কৃতিক উৎসবে মাহামুদ সেলিমের গ্রন্থনায় ও নাজমুল ইসলামের নির্দেশনায় এই গীতিনাট্য ইতিহাস কথা কও পরিবেশীত হবে। দলটির নেতৃত্বে রয়েছে ডাক্তার অরুণ কান্তি বিশ্বাস ।

এদিন গীতিনাট্যে প্রাচীন বঙ্গ, সমতট, হরিকেল, রাঢ়, বরেন্দ্র প্রভৃতি জনপদ পরবর্তীকালে বৃহৎ-বঙ্গসহ ভারতীয় উপমহাদেশে আর্য, অরার্য, দ্রাবিড়, সাঁওতাল, তামিলসহ অসংখ্য জাতি বর্ণেও মানুষের বসবাস। এখানে ছিল রাজা-
জমিদারদের ক্ষমতার লড়াই।

ধর্ম- কর্ণ সম্প্রদায় নির্বিশেষে শান্তির জনপদের বাসিন্দা ছিলাম আমরা। কিন্তু, বেনিয়া ইংরেজ যখন রাজাসন দখল নিতে শুরু করল নষ্ট রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িক বিভাজন শুরু হলো।

সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, বিভেদ এবং তার চরমতম ফলাফল “টু নেসন’স থিয়রী” এর উপর দাঁড়িয়ে দেশ বিভাগ। লাখো মানুষের চোখের জল, পিতৃভিটা ছেড়ে দেশান্তর আমরা পূর্ববাংলাবাসী হয়ে গেলাম পাকিস্তানী। ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নামে পাকিস্তানী শোষণ- শাসনের শৃঙ্খলে আমরা বন্দি হলাম। অনেক লড়াই সংগ্রাম লক্ষ প্রাণ আর মায়ের ইজ্জতের দামে মুক্ত হলো পূর্ব বাংলা তথা বাংলাদেশ। আবার ৭৫ এর ১৫ আগষ্ট জাতির জনক “ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব’ কে হত্যা করে সাম্প্রদায়িক শক্তির উথ্যান। এসবের বিরুদ্ধ্যে লড়াই আর সংগ্রামের শপথ নিয়ে রচিত “ইতিহাস কথা কও”।

-মোজাম্মেল হোসেন মুন্না