কবি শাহরিয়ার বিপ্লব একজন পুলিশ কর্মকর্তা। ১৯৭৯ সালে দিরাই-শাল্লা ও জামালগঞ্জ আসনে নৌকা প্রতীকে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মনোনিত এমপি প্রার্থী অকাল প্রয়াত রাজনীতিবিদ আলী আমজাদ তার পিতা। আওয়ামী রাজনীতিতে পারিবারিক ঐতিহ্যের সূত্র ধরে শাহরিয়ার বিপ্লব এর সুযোগ্য সহধর্মীনি ও আলী আমজাদ সাহেবের পুত্রবধূ এডভোকেট শামীমা আক্তার খানম এখন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য।

পরিবারের রাজনৈতিক ঐতিহ্যের সূত্র ধরে রাজনীতিতে তাদের একটা উল্লেখযোগ্য অবস্থান থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তবে রাজনৈতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি লেখা কবিতা ও আড্ডায় একটি সংস্কৃতির ধারাও লালন করে চলেছেন শাহরিয়ার বিপ্লব। সমাজের যেকোন অস্বাভাবিক ঘটনা ও বেদনাদায়ক মুহর্তকে তিনি বিভিন্ন সময় লেখায় ও কবিতায় উপস্থাপন করার চেষ্টা করেন। সাংবাদিক রাজনীতিবিদ গোলাম রব্বানী ও সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি দৈনিক সুনামগঞ্জ প্রতিদিন পত্রিকার উপদেষ্টা সম্পাদক প্রকাশক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান চৌধুরীসহ নাম না জানা আরো অনেক গুনীজনকে তিনি তার স্মৃতিচারণমূলক লেখা লিখেছেন। তার অন্তরজুড়ে রয়েছে এক কবি স্বত্তা।

ভাটি অ লের রাজনীতিবিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইউসুফ আল আজাদ এর মৃত্যু তাকে ব্যথিত করেছে। মনের দু:খে তিনি লিখেছেন কিছু কথা। যা প্রাকৃতিকভাবেই হয়ে গেছে একটি শোকগাথা কবিতা। কবিতায় শিরোনাম না দিলেও শেষ কথায় তিনি বলেছেন,আমরাতো ইউসুফ নূরী হতে পারিনি ভাই। নূরী শব্দটির অর্থ হচ্ছে শুকপাখি। সুনামগঞ্জের প রত্ন বাউলের মধ্যমণি গানের সম্রাট বাউল কামাল পাশা (কামাল উদ্দিন) তাঁর একটি মুরশিদী গানে উল্লেখ করেছেন,“এ কামাল কয় হুরিনূরী গায় আনন্দে নাচে। হীরামন মানিকের দেশে আমার মুর্শিদ আছে ”।

তেমনি সংস্কৃতিবান বিপ্লব শাহরিয়ারও লিখেছেন ইউসুফ নূরী কথাটির মাধ্যমে তার পছন্দের মানুষ ইউসুফ আল আজাদকে স্মরণ করেছেন। প্রতিভার অধিকারী এই কবির ইউসুফ নুরী হতে পারিনি কবিতাটি উপস্থাপন করা হলো।

ইউসুফ নূরী হতে পারিনি
শাহরিয়ার বিপ্লব
উনাদের মতো আপনাকে ভালোবাসতে পারিনি ভাই।
উনারাই পারে বাসতে ভালো।
কতটুকু পারে তাও তারা জানে।
আমরা জানবো না।
উনাদের ভালোবাসার সীমানা নাই। পরিমাপও নাই।
একমাত্র উনারাই পারে মৃত্যুর সংবাদ শুনে পাথরে মাথা ঠুকতে।
উনারাই পারে রাজপথে মাথা ঠেকিয়ে রক্তাক্ত জখম হতে।
সারারাত ধরে লাশের পাশে গোল হয়ে বসে
সন্নাসী বকের মতো ধ্যানী চোখে দৃষ্টি ধরে রাখতে।
চোখের পাতা নড়ে না।
এক মিনিট নয় পুরো রাত ধরে বুকে হাত রেখে
দাঁড়িয়ে শোক জানাতে উনারাই পারে।
লাশ নিয়ে নিজেদের বাড়ীতে কবর দিতে চিৎকার করে কাঁদে।
লাশ নিয়ে যেতে পুলিশের লাঠিকে ভয় পায় না।
নিজেরা নিজেরা মারামারি করে।
কে নিয়ে যাবে লাশ। কার বেশী অধিকার। প্রমাণ করতে রক্তাক্ত হয়।
মরতেও রাজি হয়। তবুও আমাদের বাবাকে দিয়ে দাও।
ভিন্ন ভিন্ন গ্রামে কবর দিতে কবর খোঁড়া হয়। প্রতিযোগিতা হয়।
লাশের গাড়ীর পাশে শীতের রাতে খালি গায়ে রাতভর শুয়ে থাকে।
বাবা যদি ঠান্ডা ঘরে শুয়ে থাকতে পারে তাহলে আমরাও পারি।
এরকম হাজারো ভক্ত দেখে হিংসে হয়। খুবই হিংসে হয়।
আমরা এমন ভালোবাসা কাউকে দিতেও পারিনি।
নিতেও পারবো না।
কারন আমরা তো ইউসুফ নূরী হতে পারিনি ভাই।

আল-হেলাল,সুনামগঞ্জ