ইউএনও জসীম উদ্দিন ও প্রকৌশলী মহিউদ্দিন। ছবি : সংগৃহীত

বাহুবলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জসিম উদ্দিন কর্তৃক প্রকৌশলী গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করে হাতকড়া পরানোর ঘটনা তদন্তে পৃথক দুই টিম আসছে বাহুবল।

আজ ১৬ মার্চ শনিবার সকাল ১০ টার দিকে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ ও এলজিইডি থেকে উচ্চ পর্যায়ের দুই তদন্ত টিম যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

গত ৬ মার্চ একটি ফাইলে স্বাক্ষর না করার জের ধরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জসিম উদ্দিন উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে পুলিশ দিয়ে আটকের ঘটনা নিয়ে দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়।

সোস্যাল মিডিয়াসহ প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় পক্ষ-বিপক্ষে শুরু হয় ব্যাপক লেখালেখি। এরই মাঝে হাতকড়া পরানোর ব্যাখ্যা দিতে আগামী ৬ এপ্রিল স্বশরীরে আদালতে হাজির হতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে রোল জারী করেছেন হাইকোর্ট। এদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জসিম উদ্দিন ও অফিস সহকারী হরিপদ দাসের নাম উল্লেখসহ আরো ২/৩ জনের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১০ কোটি টাকার মানহানি মামলা দায়ের করেছেন উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী।

অপরদিকে উপজেলা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ এ দুই কর্তার পক্ষে অবস্থান নিয়ে ছেন প্রশাসনের বাইরের সচেতন ব্যক্তিবর্গ। বিশেষ করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের হাতে গড়া সামাজিক সংগঠন “সবুজ সংঘ’ বৃহস্পতিবার ওই প্রকৌশলীকে মাদকসেবী, ঘুষখোর আখ্যা দিয়ে তাকে অপসারণ ও মানহানি মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানিয়ে মানববন্ধন পালন করে। সোস্যাল মিডিয়ায়ও লেখালেখি অব্যাহত আছে।

সিলেট বিভাগের শ্রেষ্ঠ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের ক্ষতি দেখতে চান না তার অনুসারীরা। তবে বাহুবলের সচেতন জনতার একটি অংশ মনে করছেন অনেকদিন ধরেই উপজেলা প্রশাসনে চলছে নিরব অনিয়ম-দুর্নীতি । সব সময় যারা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে থেকে ফায়দা নিয়েছেন তাদের মাঝেও দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। এমন প্রেক্ষাপটে অনেকই মুখ খুলতে শুরু করুছেন। বেরিয়ে আসছে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য।

ইউএনও এখানে যোগদানের পর জনহিতকর অনেক কাজ করেছেন তিনি। যার কারণে তিনি এখন বাহুবলে নন্দিত। অাবার তার বিশ্বস্থ হয়ে যারা আশেপাশে রয়েছেন সব সময়, তারাই এখন ফাঁসিয়েছে তাকে। ইউএনওকে ব্যবহার করে ফায়দা নিয়েছেন হরিপদ দাস, আশিষ কর্মকার, কনক দেব মিটু আর জামালরা। এই চার সদস্যের সিন্ডিকেটের কারণে ইউএনও’র সব অর্জন এখন ম্লান হতে চলেছে।

হরিপদ ও আশিষ কর্মকার বাহুবল দীননাথ হাইস্কুলের প্রায় দেড় কোটি টাকার সম্পদ তুলে দিয়েছেন এক ভুমিহীন ব্যক্তির হাতে। প্রধানমন্ত্রীর তহবিলের আশ্রায়ন প্রকল্পের মাধ্যমে উপজেলা সদরে আব্দুর রব নামের এক ভুমিহীনকে ঘর তৈরি করে দিয়েছেন ইউএনও। বাহুবল মৌজার ১৩৪ খতিয়ানের বিআরএস ২৬৩ এসএ দাগ ৪৯৯ শ্রেণি বাড়ি, পরিমাণ সাড়ে ১১ শতক। এ ভুমির প্রকৃত মালিক ওই স্কুল। এব্যাপারে মন্ত্রনালয়সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে অভিযোগ প্রেরণ করা হয়েছে।

গত বছর আমাতুল কিবরিয়া চৌধুরী কেয়া ‘ভুমি আছে বাড়ি নেই ‘ এমন ব্যক্তিদের জন্য বাহুবলে ১৪৭ ঘর বরাদ্দ দেন। প্রতি ঘর তৈরিতে ব্যয় ধরা হয় এক লাখ টাকা। কিন্ত পিআইও আশিষ কর্মকার ইউএনও অফিসের সহকারী হরিপদ দাস, উপজেলা চেয়ারম্যান অফিসের সহকারী কনক দেব মিটু একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর কোন ঠিকাদার ছাড়াই পছন্দের লোক দিয়ে নিম্নমানের কাজ করিয়ে প্রায় ৭০ লাখ টাকা আত্মসাত করেন বলে অভিযোগ উঠে।

ওইসব বাড়িতে সোলার, টিউবওয়েল দেয়ার কথা থাকলেও এখনও দেয়া হয়নি। কাঠ,দরজা জানালা ব্যবহার করা হয়েছে নিম্নমানের। ফ্লোর করা হয়েছে দায়সারাভাবে। উপজেলা ডরমিটরির ভাড়া নিয়েও রয়েছে অস্বচ্ছতা। মাসের পর মাস চলে গেলে আদায় নেই ভাড়া। বিদুৎ বিল বকেয়া রয়েছে অনেক। মাসে মাসে শুধুই আটকা পড়ছে বিল। পরিশোধের কোন উদ্যোগ নেই।

এছাড়া শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগের ব্যাপারে মন্ত্রনালয় পরিপত্র জারী করলেও ইউএনও এরও কোন অনুসরণ না করে বাহুবল দীননাথ হাইস্কুলে একজন ইমাম থাকলেও আরেকজন নিয়োগ দিয়ে বিতর্ক তৈরি করেছেন। এ ধরণের আরও অনেক তথ্য বেরিয়ে আসছে। এতে বাহুবলে বিরুপ প্রতিক্রিয়া বিরাজ করছে।