সোমবার সংসদ অধিবেশনে ইউএনও’র ওএসডির বিষয়টি সুবিচারের আশা প্রকাশ করেন ডেপুটি স্পিকার। ছবি : সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ইউএনও হোসনে আরা বেগমের আবেগঘন স্ট্যাটাসে আপ্লুত দুই সংসদ সদস্য। তারা ওই নারী উপজেলা নির্বাহীর (ইউএনও) ওএসডির এর কারণ জানতে চেয়ে পাশাপাশি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাবেক নারী ও শিশু প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকী ও এ কে এম শামীম ওসমান।

পরে তাদের কথা শুনে আবেগপ্লুত হয়ে সভাপতির আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনকে সংশ্লিষ্ট বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বসহ তদন্তপূর্বক সুবিচার করবেন এ আশা প্রকাশ করেন।

১১ ফেব্রুয়ারি সোমবার রাতে ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলেন সাবেক নারী ও শিশু প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকী। পরে তার সেই বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে কথা বলেন নারায়ণগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমান।

মেহের আফরোজ চুমকী বলেন, ‘আজকের পত্রিকার মাধ্যমে দেখলাম একজন নারী ইউএনও এক আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন মা হওয়াটাই অপরাধ। সেই নারী ইউএনও দীর্ঘ ৯ বছর পর মা হতে যাচ্ছিল’।

তিনি বলেন,‘ সেই নারী একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি সহকারী রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার কাজের কোনো গাফিলতি ছিল না। বরং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রশংসা করেছেন। তার সন্তান প্রসব করার সময় ছিল আগামী এপ্রিল মাসে। কিন্তু সে যখন ডাক্তার দেখাতে গেছে তখন সে আকস্মিক জানতে পারেন তাকে ওএসডি করা হয়েছে।

সেদিন ওএসডি হওয়ার খবর শুনে তাৎক্ষণিক মানসিক চাপে তার সে অসুস্থ হয়ে পড়েন। অকালপক্ব সন্তান প্রসব করায় বাচ্চাটা এখন মৃত্যু পথযাত্রী। দীর্ঘ ৯ বছর পর মা হওয়ার আকাঙ্খাটা উপলব্ধি করতে পেরেছেন। সে যদি যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করে থাকে তাহলে একজন সন্তান সম্ভাব্য নারীকে কেন ওএসডি করা হলো। এ ঘটনায় আমি বিভাগীয় তদন্ত দাবি করছি।

পরে এ কে এম শামীম ওসমান বলেন, ‘বিষয়টিতে আমি লজ্জিত। কেননা ঘটনাটি আমার নির্বাচনী এলাকায়। তিনি আমার এলাকার সদরের ইউএনও। একজন সৎ কর্মজীবী অত্যন্ত কর্মঠ ভালো একজন কর্মকর্তা হিসেবে উনি আমার কাছে বার বার প্রতীয়মান হয়েছেন’।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি জানতে চাই কার নির্দেশে তাকে ওএসডি করা হলো। বদলি করলে একটা কথা ছিল। ওএসডি করার পর বাচ্চা প্রসব করল সেই বাচ্চাটির যে অবস্থা আমি শঙ্কিত। বাচ্চাটি বাঁচবে কি না? যদি খারাপ কিছু হয় তাহলে আমি নিজেকে ক্ষমা করতে পারব না’।
উল্লেখ্য, ইউএনও হিসেবে যোগ দেওয়ার মাত্র ৯ মাসের মাথায় গত ৪ ফেব্রুয়ারি হোসনে আরাকে ওএসডি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সন্তানসম্ভবা ওই কর্মকর্তা খবরটা পাওয়ার পরই তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। অক্সিজেন সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হয় অনাগত সন্তানের। ভর্তি হন হাসপাতালে। দেরি না করে ডাক্তার করেন সিজার। জন্ম নেয় ইমম্যাচিউর এক শিশু। ঠাঁই হয় এনআইসিইউতে। এখন বাঁচা-মরার লড়াইয়ে ওই শিশুটি।

আজকের পত্রিকা/আরবি/