আসামে আটক থাকা ৩০ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ছবি : সংগৃহীত

২৫ জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুরে আসামের করিমগঞ্জ জেলা প্রশাসন ৩০ জন বাংলাদেশী নাগরিককে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকা জকিগঞ্জে বিজিবি-র হাতে তুলে দেয়। যারা গত বেশ কয়েকমাস ধরে আসামের বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক ছিলেন।

আসাম পুলিশ গণমাধ্যমকে জানায়, বিতাড়িত করা এই ৩০ জনই অবৈধভাবে ভারতে ঢুকেছিলেন। পরবর্তীতে এই অপরাধে তারা সবাই জেল খাটে এবং বাংলাদেশে এদের নাম, ঠিকানা, পরিচয় উদ্ধার করে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশের সিলেটের জকিগঞ্জের পুলিশ কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

করিমগঞ্জ-জকিগঞ্জ সীমান্তে ফেরত পাঠানো হচ্ছে ৩০ জন বাংলাদেশিকে। ছবি : বিবিসি

তবে আসাম সরকার মনে করছে, বিশ-তিরিশজন বাংলাদেশীকে ডিপোর্ট বা বিতাড়িত করা গেলেও লক্ষ লক্ষ কথিত বিদেশি নাগরিককে কখনওই সে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়।

এ ছাড়া এবছরের জানুয়ারি মাসেও ভারতে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের দায়ে আটক ২১ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠায় ভারত সরকার। ভারত থেকে ফেরত আসা সেসব বাংলাদেশিদের বেশির ভাগই বৃহত্তর সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাসিন্দা।

আসামের করিমগঞ্জ জেলা থেকে ফেরত পাঠানো ৩০ জন বাংলাদেশীদের মধ্যে ২৬ জন মুসলিম এবং ৪ জন হিন্দু ধর্মালম্বী। কেউ দুবছর, কেউ বা হয়তো তিন বছর আগে অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের ফলে পাসপোর্ট আইনে তাদের ন্যূনতম ছমাসের মেয়াদে জেল খাটতে হয়। এরা এতদিন আসামের শিলচর, কোকরাঝাড়, গোয়ালপাড়া, তেজপুর বা জোড়হাটের বিদেশী বন্দীশালায় আটক অবস্থায় ছিলেন। পাসপোর্ট অ্যাক্টে কমপক্ষে ছ’মাস জেল খাটার পরও নানা কারণে তাদের ডিপোর্টেশনের প্রক্রিয়া আটকে ছিলো।

পরবর্তীতে বাংলাদেশের উপদূতাবাসের মাধ্যমে এই ৩০ জনের পরিচয় যাচাই বাছাই করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

আসামের করিমগঞ্জ জেলার পুলিশ প্রধান মানবেন্দ্র দেবরায় জানান, ‘বৃহস্পতিবার বেলা এগারোটা নাগাদ করিমগঞ্জে পাসপোর্ট অ্যান্ড ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের (পিসিআইপি) মাধ্যমে এই বিদেশি নাগরিকদের আমরা সীমান্তের ওপারে জকিগঞ্জ বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিজিবি-র হাতে তুলে দিয়েছি’।

আসামে এনআরসি-র শেষ পর্বের শুনানি ও নথিপত্র পরীক্ষার কাজ চলছে। ছবি : বিবিসি

সিটিজেনস রাইটস প্রোটেকশন কমিটি (আসাম) নামে একটি সংগঠন ওই রাজ্য থেকে অবৈধ বাংলাদেশীদের ফেরত পাঠানোর আন্দোলনে যুক্ত হয়েছে।

তাদের মতে রাজধানী গুয়াহাটিতে বাংলাদেশের একটি উপদূতাবাস চালু হওয়ার পর থেকেই কথিত বাংলাদেশীদের পরিচয় যাচাইয়ের কাজে অনেক গতি এসেছে। ফলে এযাবত ১২৪জন বাংলাদেশীকে ফেরত পাঠানো গেছে।

রোধীদল কংগ্রেসের মুখপাত্র ও শিলচরের সাবেক এমপি সুস্মিতা দেব। ছবি : সংগৃহীত

তবে বিরোধীদল কংগ্রেসের মুখপাত্র ও শিলচরের সাবেক এমপি সুস্মিতা দেব মনে করছেন, আসামে আসন্ন এনআরসি বা জাতীয় নাগরিকপঞ্জী থেকে যাদের নাম বাদ পড়বে, সেই লক্ষ লক্ষ লোককে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো কিছুতেই সম্ভব নয়।

যদিও বিজেপির প্রভাবশালী নেতা রাম মাধবও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেছেন, এনআরসি তালিকাভুক্ত না-হলে তাদের আর কোথাও নয়, বাংলাদেশেই ফেরত পাঠানো হবে।

আজকের পত্রিকা/কেএইচআর/