‘হোক কলরব/ফুলগুলো সব/ লাল না হয়ে নীল হলো কেন’- শায়ান চৌধুরী অর্ণবের জনপ্রিয় এই গানটি কম-বেশি সবার কাছেই বেশ পরিচিত। কিন্তু এই গানটির যিনি স্রষ্টা, অর্থাৎ রচয়িতা, তাকে হয়তো জানেন না অনেকেই। তিনি রাজীব আশরাফ। দীর্ঘ বহু বছর প্রতীক্ষার পর অবশেষে অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০২০- এ প্রকাশিত হতে যাচ্ছে তার প্রথম কবিতার বই ‘ধরেছি রহস্যাবৃত মহাকাল’।

বইটি প্রকাশ করছে ‘বৈভব’। প্রচ্ছদ করেছেন শায়ান চৌধুরী অর্ণব। এটা অর্ণবের করা প্রথম কোনো প্রচ্ছদ। ভূমিকা লিখেছেন কলকাতা থেকে তৌফিক আল রিয়াজ এবং বাংলাদেশের খ্যাতিমান নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
ছোট বড় মিলিয়ে মোট ৫০টি কবিতা থাকবে বইটিতে।

রাজীবের লেখা বেশিরভাগ গানই জনপ্রিয়। ‘হোক কলরব’ অ্যালবামের ‘হোক কলরব’ ও ‘প্রকৃত জল’; ‘ডুব’ অ্যালবামের ‘ধূসর মেঘ’ ও ‘ঘুম’; ‘রোদ বলেছে হবে’ অ্যালবামের ‘রোদ বলেছে হবে’, ‘একটা মেয়ে’, ‘প্রতিধ্বনি’, ‘মন খারাপের একটা সকাল’ ও ‘কে আমি’; ‘খুব ডুব’ অ্যালবামের ‘ইট কাঠ পাথরের’ ও ‘যখন জোনাক জ্বলে’; ‘গুরুস অব লাভ’ অ্যালবামের ‘নাম ছিলো না’- সবই রাজীবের সৃষ্টি।

‘ইট কাঠ পাথরের’ গানটি ব্যবহার হয়েছিলো এয়ারটেলের টেলিছবি ‘অরুণোদয়ের তরুণদল’-এ। একই টেলিছবিতে রাজীবের লেখা ও অর্ণবের ‘এই মন মেলেছে ডানা’ গানটি আড়ং তাদের একটি প্রচারণায় ব্যবহার করেছে। এছাড়া মুঠোফোন প্রতিষ্ঠান এয়ারটেল প্রযোজিত প্রায় সব টেলিছবিতে গান লিখেছেন রাজীব।

স্টুডিও ফিফটি এইটের আরাফাত মহসিন পরিচালিত ‘জোনাক পোকা’ টেলিছবিতে ‘নিঝুম রাতের তারা’, নির্মাতা আদনান আল রাজীবের ‘মিডল ক্লাস সেন্টিমেন্ট’ নাটকে ‘প্রহর’, ওল্ড স্কুলের মোবাশ্বের চৌধুরীর সুর-সংগীতে তারিনের কণ্ঠে ‘কালো মখমল’ নাটকের গানও রাজীবের লেখা। বাংলালিংক, মোজো, সেভেন আপ-সহ কয়েকটি বিজ্ঞাপনচিত্রের জিঙ্গেলও লিখেছেন তিনি। চলচ্চিত্রের গানও লিখছেন রাজীব। স্টুডিও ফিফটি এইটের সুর-সংগীতে রেদওয়ান রনির ‘আইসক্রিম’ ছবিতে অর্ণব গেয়েছেন রাজীবের লেখা ‘বোকা চাঁদ’। এর আগে অর্ণব অন্যের সুরে ঢাকার ছবিতে গাননি।

ছোটবেলায় খেলাধুলায় আগ্রহ ছিলো না রাজীব আশরাফের। স্কুলের বাইরের অবসর সময়টুকু কাটাতেন বই পড়ে। তখন থেকেই নিজের মধ্যে লেখালেখির ইচ্ছে জন্মেছিলো। উত্তর কাফরুলে উত্তরসূরী নামে একটি সংগঠন ছিলো তাদের। সেখানে অন্য ছেলেমেয়েদের পাশাপাশি দলবেঁধে গিয়ে নাচ, গান, আবৃত্তির মতো সংস্কৃতি চর্চার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। লুৎফর রহমান রিটন সম্পাদিত ছোটদের কাগজে তার প্রথম লেখা ছাপা হয়। এরপর বিভিন্ন পত্রিকায় লেখালেখি করেছেন।

বিজ্ঞাপন নির্মাতা হিসেবেও রাজীবের পরিচিতি আছে। এ তালিকায় উল্লেখযোগ্য- বাংলালিংক, ওয়ারিদ, এয়ারটেল, টুডে টি, টুডে মিল্ক, এপি নুডলস ইত্যাদি। বাংলাদেশ গেমসের জন্য বানিয়েছিলেন তথ্যচিত্র। শুধু লেখা বা নির্মাণই নয়, রাজীব আশরাফ অভিনয়ও করেছেন নাটক-টেলিছবিতে। এর মধ্যে আছে আশুতোষ সুজনের ‘টিনের তলোয়ার’, অমিতাভ রেজার রচনা ও আবিদ মল্লিক পরিচালিত ‘কিশোর ছবি আঁকতে পারে’, মনোয়ার কবিরের রচনা ও অনিমেষ আইচের ‘হলুদ’, নূরুল আলম আতিকের ‘মজিদের টেলিভিশন’ এবং অমিতাভ রেজার পরিচালনায় ‘একটা ফোন করা যাবে প্লিজ’ প্রভৃতি।

ধরেছি রহস্যবৃত মহাকাল