যশোরে তাপদাহ। ছবি : ইন্টারনেট

আষাঢ় মাস নিয়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, ‘নীল নবঘনে আষাঢ় গগণে তিল ঠাঁই আর নাহি রে। ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে। বাদলের ধারা ঝরে ঝরঝর, আউশের ক্ষেত জলে ভরভর, কালি-মাখা মেঘে ও পারে আঁধার ঘনিয়ে দেখ চাহি রে।’ অথচ আষাঢ় মাসের প্রায় সপ্তাহ পার হলেও বাদলের দেখা মেলেনি যশোরে। বরং চৈত্রের তাবদাহ বিরাজ করছে।

যুগ যুগ ধরে ঋতুর পরিবর্তনের সাথে সাথে পরিবর্তন হয়ে আসছে আবহাওয়া। কিন্তু বিগত কিছুদিন প্রকৃতির বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। আষাঢ় মাস মানেই ঝর ঝর বৃষ্টি। অথচ আষাঢ় মাসের ৬ দিন পার হলেও দেখা নেই বৃষ্টি ও বাতাসের। খরতাপে মাঠঘাট শুকিয়ে গেছে। চলছে আমন মৌসুম। তবে বৃষ্টি না হওয়ায় ধান চাষে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে শঙ্কায় কৃষি বিভাগ।

মাত্রাতিরিক্ত গরমের কারণে নাকাল খেটে খাওয়া মানুষ। তীব্র গরমে দেখা দিয়েছে নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা। জরুরি কাজ ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে শিশু ও বয়ষ্কদের। এ অবস্থায় তাদের পানিশূন্যতা দেখা দিচ্ছে। সেই সাথে হচ্ছে বিভিন্ন রোগ। গরমে বিশুদ্ধ পানি ও শিশুদের বাড়তি পরিচর্যার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

আবহাওয়া অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গত রোব ও সোমবার দেশের মধ্যে যশোরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৯.৬ ও ৩৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়েছে। অবশ্য মঙ্গলবার তাপমাত্রা কিছুটা নেমে ৩৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়েছে। বুধবার তা আবার বেড়ে গেছে।

খুলনা বিভাগে এ তাপদাহ চলবে আরও কয়েকদিন। ফলে খাঁ খাঁ রোদে পুড়ছে গোটা যশোর অঞ্চল। সকাল থেকেই সূর্যের বিচ্ছুরণে মধ্যবেলায় প্রকৃতি নেয় অগ্নিরূপ। ভ্যাপসা গরমে একটু প্রশান্তির আশায় কেউ কেউ ভিড় জমাচ্ছেন সরবতের দোকানে। কাঠফাটা রোদে চিল-চাতকের মতো হাঁসফাঁসে ওষ্ঠাগত হয়ে উঠেছে সকল শ্রেণির মানুষের জীবন। বাড়ছে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা।

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু বলেন, তাপমাত্রার এ ঊর্ধ্বগতি জনজীবনকে দুর্বিসহ করে তোলার পাশাপাশি নানা রোগেও আক্রান্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি, লবণ পানির সরবত বা ডাবের পানি খাওয়া ও শিশু এবং বয়ষ্কদের বাড়তি পরিচর্যা দেয়ার কথা জানান।

এইচ আর তুহিন/যশোর