বাংলাদেশের হাজার হাজার স্কুল পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করছেন। ছবি: সংগৃহীত

২৫ জুলাই, ২০১৯ আলোকিত মানুষ গড়ার কারিগর ও চির তারুণ্যের প্রতীক অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের ৮০তম জন্মদিন। বিগত চল্লিশ বছর যাবত বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আলোকিত মানুষ তৈরির কাজে নিয়োজিত আছেন এই গুণী শিক্ষাবিদ।

সদা তরুণ এই বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী অধ্যাপক আবু সায়ীদ ষাট দশকের একজন প্রতিশ্রুতিময় কবি হিসেবেও পরিচিত। সেই সময় সমালোচক এবং সাহিত্য সম্পাদক হিসেবেও তিনি অনবদ্য অবদান রেখেছেন। সুবক্তা হিসেবে তাঁর খ্যাতি আকাশচুম্বী। তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, যা পরিচালিত হয় মূলত বই পড়া কর্মসূচীর মাধ্যমে। তিনি বাংলাদেশের হাজার হাজার স্কুল পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করছেন।

তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। ছবি: সংগৃহীত

১৯৪০ সালের আজকের এ দিনে কলকাতার পার্ক সার্কাসে জন্মগ্রহণ করেন অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। তাঁর পৈতৃক নিবাস বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার কামারগাতি গ্রামে। তাঁর বাবা আযীমউদ্দিন আহমদ ছিলেন শিক্ষক। ১৯৫৫ সালে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ পাবনা জিলা স্কুল থেকে মাধ্যমিক, ১৯৫৭ সালে বাগেরহাটের প্রফুল্লচন্দ্র কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন।

১৯৬০ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও ১৯৬১ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন এই গুণী ব্যক্তি। ২০০৪ সালে সম্মানিত হন রোমেন ম্যাগসেসে পুরস্কারে। বাংলাদেশে অ-প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বিস্তারে অবদানের জন্য ২০০৫ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন। এছাড়া প্রবন্ধে অবদানের জন্য ২০১২ সালে তিনি লাভ করেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার। সত্তর দশকে তিনি টিভি উপস্থাপক হিসেবে বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন।

সত্তর দশকে তিনি টিভি উপস্থাপক হিসেবে বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। ছবি: সংগৃহীত

১৯৭৮ সালে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠা করা হয় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র নিয়ে নানা জায়গায় নানা সময়ে তিনি বলেছেন, ‘দেশের এই সার্বিক অবক্ষয় এবং সম্ভাবনাহীনতার ভেতর সীমিত সংখ্যায় হলেও যাতে শিক্ষিত ও উচ্চমূল্যবোধসম্পন্ন আত্মোৎসর্গিত এবং পরিপূর্ণ মানুষ বিকশিত হওয়ার পরিবেশ উপহার দেওয়া যায়, সেই উদ্দেশ্য নিয়েই আমরা বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র গড়ে তুলতে চেষ্টা করছি। একজন মানুষ যাতে জ্ঞানের বিভিন্ন শাখার অধ্যয়ন, মূল্যবোধের চর্চা এবং মানবসভ্যতার যা-কিছু শ্রেয় ও মহান তার ভেতর দিয়ে পরিপূর্ণ মনুষ্যত্বসম্পন্ন হয়ে বেড়ে উঠতে পারে- আমরা এখানে সেই পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাই। কাজেই আমাদের এই প্রতিষ্ঠানটি একটি প্রাণহীন, কৃত্রিম, গতানুগতিক প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি সর্বাঙ্গীণ জীবন-পরিবেশ।’

বাংলাদেশে পাঠাগারের অপ্রতুলতা অনুধাবন করে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ১৯৯৮ সালে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির কার্যক্রম শুরু করে।

আজকের পত্রিকা/সিফাত