অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রি করছে বালু ব্যবসায়ীরা ছবি সংগৃহীত

আরিচা ফেরি টার্মিনাল সংলগ্ন যমুনা তীরবর্তী এলাকা থেকে রাতের আধারে অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এভাবে মাটিকাটা অব্যাহত থাকলে হুমকিতে পড়বে আরিচা নদী বন্দর, আবহাওয়া অফিস, আরিচা হাটবাজার ও আরিচা- তেওতা-জাফরগঞ্জ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় নদী ভাঙ্গন দেখা দেওয়ায় আতংক ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।

অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রি করছে ব্যবসায়ীরা ছবি সংগৃহীত

অভিযোগে প্রকাশ, দীর্ঘদিন ধরে একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নদীর তীরবর্তি জায়গায় ড্রেজার বসিয়ে পাইপের মাধ্যমে বিআইডব্লিউটিএর টার্মিনাল দখল করে বালু মাটি ফেলে বিরাট ঢিবি আকারে মজুদ করে বিক্রি করছে।

পাশাপাশি মাটি ব্যবসায়ীরা রাতের আধারে এস্কেভেটর (ভেকু) দিয়ে নদীর পার কেটে বিক্রি করার অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

আরিচা ঘাটের টার্মিনাল দখলে নিয়ে বালুর পাহার বানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়া বন্দর এলাকার নদীর পার দিয়ে অসংখ্য বালু মাটি মজুদ করে রাখা হয়েছে। ঝড়ো হাওয়ায় আশপাশের বাসিন্দাদের বাড়ি-ঘর বালু উড়ে গিয়ে অপরিস্কার ও অস্বস্থিকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

জানা গেছে, তৎকালিন সময়ে যমুনা নদীর তীর ঘেষে আরিচা নদী বন্দর এলাকার প্রায় ৫ একর জায়গার ওপর আরিচা ফেরি টার্মিনাল নির্মাণ করে বিআইডব্লিউটিএ। ২০০২ সালের ১২ মার্চ আরিচা থেকে পাটুরিয়ায় ফেরি ঘাট স্থানান্তরিত হলে টার্মিনালটি পরিত্যাক্ত হয়। পরবর্তীতে আরিচার ওই টার্মিনালে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদ্যুৎ প্লান্ট নির্মাণের জন্য স্থান নির্ধারণের ঘোষণা দেন।

এছাড়া এই ঘাট থেকে পাবনার মধ্যে ফেরি চলাচলের সিদ্ধান্ত রয়েছে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের।

আরিচা ঘাট হয়ে পাবনার রূপপুরে পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে মালা-মাল পরিবহনের জন্য ফেরি সার্ভিস চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিআইডব্লিউটিসি। ফলে টার্মিনালটি দখল মুক্ত করার প্রয়োজনীতা দেখা দিয়েছে। কিন্ত প্রভাবশালীদের কারণে তা বাস্তবায়ন করতে পারছেনা বিআইডব্লিউটিএ।

অভিযোগকারীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে পদ্মা-যমুনা থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু মাটি উত্তোলন করে ভলগেট ড্রেজারের মাধ্যমে এনে মজুদ করছে আরিচা টর্মিনালে। অনেকে নদীর পার এলাকাতেই অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু মাটি উত্তোলন করে পুকুর ডোবা-নালা ভরাট করছে।

এভাবে যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি বিক্রি করছে প্রভাবশালী ওই ব্যবসায়ীরা।এতে কোন বাঁধা বিপত্তি না থাকায় নতুন নতুন বালু মাটি ব্যবসায়ী গজিয়ে উঠছে আরিচায়। এরা এলাকার পুকুর, নিচু জমি, ভিটি-বাড়ি, রাস্তা-ঘাট ভরাট, ইট ভাটা ও ঠিকাদারদের নিকট চুক্তিতে মাটি বিক্রি করছে।

অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রি করছে বালু ব্যবসায়ীরা ছবি সংগৃহীত

এদিকে বর্ষা শুরু হবার আগেই আরিচা ঘাট সংলগ্ন যমুনা নদী তীরবর্তি এলাকাসহ আরিচা-জাফরগঞ্জ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের নিহালপুর অংশে নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।

অবৈধ বালু মাটি ব্যবসায়ীরা শুস্ক মৌসুমে ওই বাঁধের পশ্চিম পার্শ্বে যমুনায় ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করায় নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

ভাঙ্গন আতংকে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন স্থানীয়রা। এবার ব্যপক আকারে নদী ভাঙ্গন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

হুমকির মুখে পড়েছে ঐতিহ্যবাহী আরিচা নদী বন্দর,শিবালয় বন্দর হাট-বাজার, আবহাওয়া অফিস, পিসিপোল নির্মাণ প্ল্যান্ট, তেওতা-জাফরগঞ্জ, আরিচা-দাসকান্দি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও সড়ক, বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসি অফিস কমপ্লেক্স, শিবালয় থানা কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, জেলা পরিষদের সরকারী ডাকবাংলো ও স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন স্থাপনা ও এলাকার বহু বাড়ি-ঘর। উজানে ভাঙ্গন শুরু হলে ভাটিতে পাটুরিয়া ফেরি টার্মিনালও নদী নদী গর্ভে বিলীন হবার উপক্রম হবে।

নিহালপুরের বজলুর রহমান জানান, নদী ও নদীর পার থেকে বালু-মাটি উত্তোলন নিষেধ থাকলেও তা কেউ মানছেনা। মাটি ব্যবসায়ীরা রাতের বেলায় স্কেভেটর (ভেকু) দিয়ে নদীর পার কেটে পাশেই স্তুপ করে রাখে। দিনের বেলায় তা পিকাপ ভ্যান ও ট্রাকে করে বিক্রি করছে।

প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে যমুনা নদীর পার কেটে যেভাবে মাটি কেটে বিক্রি করছে। তাতে বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙনের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে শিবালয় বন্দরও হুমকির সন্মুক্ষিণ।

এব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএর আরিচা নদী বন্দর কর্মকর্তা সেলিম রেজা বলেন, সমেজ ঘর তেওতা থেকে পাটুরিয়া ঘাটের ভাটি পর্যন্ত যমুনা নদীর পার এলাকা আরিচা নদী বন্দরের আওতাভুক্ত। এ এলাকার ভিতর থেকে এক কোদাল মাটি কাটার অধিকার কারও নেই। তারপর অনেকে চুরি করে কাটছে। আমাদের লোকবল কম। বিধায় এলাকার লোকজন আমাদেরকে সহযোগীতা না করলে আমাদের একার পক্ষে মাটি কাটা ঠেকানো কঠিন। মাটি কাটার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে।

টার্মিনালে শুধুমাত্র গাড়ি পার্কিং চার্জ আদায়ের জন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে চলতি অর্থ বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছে। অন্যকোন কাজের জন্য টার্মিনাল ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

আজকের পত্রিকা/শাহজাহান বিশ্বাস/মানিকগঞ্জ/রাফাত/শায়েল