চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বিকাশের চিফ কর্মাশিয়াল অফিসার (সিসিও) মিজানুর রশীদ; হেড অব গভর্নমেন্ট প্রজেক্ট অ্যান্ড বিজনেস সেলস মাসরুর চৌধুরী, বেঙ্গল গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ-এর কর্পোরেট ফিন্যান্স বিভাগের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সঞ্জয় সরকার; এ অ্যান্ড ই বাংলাদেশ-এর সিএফও জাকির হোসেইন সহ এই সকল প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য উর্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ। ছবি: সংগৃহীত।

আরও তিনটি শীর্ষস্থানীয় গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠান এখন থেকে তাদের কর্মীদের বেতন-ভাতা বিকাশে পরিশোধ করবে। এ লক্ষ্যে ডিজাইনার ফ্যাশন লিমিটেড, এ অ্যান্ড ই বাংলাদেশ, এবং তারা গ্রুপ দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান  বিকাশের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বাক্ষরিত চুক্তি হস্তান্তর করেন বিকাশের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও) কামাল কাদীর, ডিজাইনার ফ্যাশন লিমিটেড-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর জনাব জসীম উদ্দিন, এ অ্যান্ড ই বাংলাদেশ-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর এঞ্জেলো লিয়ানাগে এবং তারা গ্রুপের অন্তর্ভূক্ত তারা স্পিনিং লিমিটেড এর হেড অফ ফিন্যান্স মো. ইয়াকুব আলী ও এনায়েতপুর স্পিনিং লিমিটেড এর ডিজিএম মো. মুশফেকুজ্জামান।

এই চুক্তিগুলোর আওতায় প্রতিষ্ঠান তিনটির ১২ হাজার কর্মী তাদের বেতন পাবেন বিকাশে।

বর্তমানে দেশের শীর্ষস্থানীয় ১৮০টি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানের দুই লক্ষাধিক কর্মী বিকাশে তাদের বেতন পাচ্ছেন। সেবাটি ক্রমেই গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ এবং কর্মীদের আস্থা ও জনপ্রিয়তা অর্জন করার ধারাবাহিকতায় নতুন এই তিনটি পোষাক রফতানীকারক প্রতিষ্ঠানও এই সেবার অন্তর্ভূক্ত হলো।

প্রচলিত পদ্ধতিতে নগদ টাকায় গার্মেন্টস কর্মীদের বেতন দেওয়া সব পক্ষের জন্যই ব্যয়বহুল, সময়সাপেক্ষ এবং ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া বেতন পরিশোধের দিনে কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়, অপচয় হয় শ্রমিকদের কর্মঘন্টাও। অনেক কারখানাই তাই বিকাশের মত ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে সহজে, কম সময়ে, কম খরচে বেতন পরিশোধ ব্যবস্থা চালু করেছে। বেতন পরিশোধ ব্যবস্থায়ও এসেছে স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা। ডিজিটাল এই ব্যবস্থায় সমস্ত লেনদেনের রেকর্ড থাকায় কোথাও কোনো অসঙ্গতি দেখা দিলেও তা সহজেই দূর করা যায়।

শুধু সহজে বেতন পাওয়াই নয়, কর্মীরা বেতন পাওয়ার সাথে সাথে বিকাশ একাউন্টের টাকা অন্য বিকাশ একাউন্টে পাঠানো, মোবাইলের এয়ারটাইম কেনা, বিভিন্ন ধরনের বিল পরিশোধ করা কিংবা বিভিন্ন দোকানে পেমেন্ট করা সহ নানান সেবা নিতে পারছেন। এছাড়াও সারাদেশের দুই লক্ষাধিক বিকাশ এজেন্টের যে কোন পয়েন্ট থেকে প্রয়োজনে ক্যাশ আউটও করতে পারছেন, এমনকি একাউন্টে টাকা জমা রেখে স্বল্পমাত্রায় মুনাফাও অর্জন করতে পারছেন তারা।

এদিকে, কোনরকম ঝামেলা ছাড়াই সহজে এবং সঠিক ভাবে একাউন্টে বেতন পাওয়া ও তা ব্যবহারের পদ্ধতিগুলো সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে বিকাশের পক্ষ থেকে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হচ্ছে।

বিকাশের এই ডিজিটাল স্যালারি ডিজবার্সমেন্ট সেবাটি বৃহত্তর অর্থে তৈরি-পোষাক খাতের সংখ্যাগরিষ্ঠ নারী শ্রমিকদের ক্ষমতায়নের পাশাপাশি ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীর আর্থিক অর্ন্তভুক্তির মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ায় ভূমিকা রাখছে বলে মনে করে দেশের বৃহত্তম এই মোবাইল আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানটি।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বিকাশের চিফ কর্মাশিয়াল অফিসার (সিসিও) মিজানুর রশীদ; হেড অব গভর্নমেন্ট প্রজেক্ট অ্যান্ড বিজনেস সেলস মাসরুর চৌধুরী, বেঙ্গল গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ-এর কর্পোরেট ফিন্যান্স বিভাগের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সঞ্জয় সরকার; এ অ্যান্ড ই বাংলাদেশ-এর সিএফও জাকির হোসেইন সহ এই সকল প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য উর্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

ব্র্যাক ব্যাংক, যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক মানি ইন মোশন, বিশ্ব ব্যাংক গ্রুপের অন্তর্গত ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স কর্পোরেশন, বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন এবং অ্যান্ট ফিনান্সিয়াল-এর যৌথ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বিকাশ, ২০১১ সাল থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ন্ত্রিত পেমেন্ট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিভিন্ন ধরনের মোবাইল/ডিজিটাল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস দিয়ে আসছে।