লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার হাজীপুর পাটোয়ারীর বাড়ি প্রাঙ্গণে আয়োজিত তাফসিরুল কোরান মাহফিলে মাওলানা মিজানুর রহমান আযহারীর কাছে হিন্দু পরিচয়ে কালেমা পাঠ করিয়ে মুসলমান হওয়া সেই ১১ জনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

শনিবার রাতে রামগঞ্জ থানা পুলিশ তাদের হেফাজতে রাখে। পুলিশ বলছে, ১১ জনকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।

বিষয়টি রাষ্ট্রের সিন্ধান্তের উপর ভিত্তি করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সুত্রে জানা যায়, উপজেলার ৪নং ইছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য নারায়নপুর গ্রামের ডাক্তার আঃ হাই বাড়ীর মোসাম্মদ ফাতেমা বেগমের ছেলে মনির হোসেন (৩৯) কয়েক বছর পুর্বে অবৈধভাবে ভারতে যায়। সেখানে গিয়ে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে প্রতারনার আশ্রয়ে পাশের বাসার চাচাতো ও জেঠাতো বোনকে বিয়ে করে।

মনির হোসেনের প্রথম স্ত্রী রেখা অধিকারীর সংসারে মরিয়ম বেগম, শ্যাফালী বেগম, মারিয়া আক্তার, নুসরাত জাহান, জান্নাত আক্তার এবং দ্বিতীয় স্ত্রী সুজাতা অধিকারীর সংসারে আঃ করিম, আয়েশা আক্তার ও আবদুল্লাহর জম্ম হয়।

ভারত থাকাবস্থায় মনির হোসেন তার বড় মেয়ে শ্যাফালী বেগমকে বাংলাদেশের বোন পারভিন বেগমের ছেলে পারভেজ হোসেনের সাথে বিয়ে দেয়। কয়েক মাস পুর্বে মনির হোসেন পরিবারের সবাইকে নিয়ে দেশে ফিরে ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার শুভাঢ্যা গ্রামে বসবাস শুরু করেন।

পরে সেই ইউনিয়ন পরিষদ থেকে (১১ডিসেম্বর-২০১৯ সালে) মুসলমান হিসেবে দুই স্ত্রী ও সন্তানদের জম্ম নিবন্ধন তৈরি করেন। শুধু মনির হোসেন নিজে (১৯ অক্টোবর ২০১৯ সালে) রামগঞ্জ উপজেলার ইছাপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জন্ম নিবন্ধন করেন।

রামগঞ্জ উপজেলার ৫নং চন্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বার মোঃ ইব্রাহিম মিয়া বলেন, মনির হোসেন ইছাপুর ইউপির সংরক্ষিত মেম্বার ফাতেমা বেগমের বড় ছেলে এবং দক্ষিণ  নারায়নপুর আঃ হাই ডাক্তার বাড়ির মজিবুল হকের ছেলে হলেও কয়েক মাস যাবত হরিশ্চর গ্রামের হাফেজ আয়াত উল্যাহর বসত ঘরে ভাড়া থাকতো। তার দুই কন্যা জান্নাত ও আয়েশা আক্তার হরিশ্চর দাখিল মাদ্রাসার ৫ম শ্রেনীর এবং ছেলে আব্দুল্লাহ বর্তমানে নুরানী মাদ্রাসাতে পাঠদান করছে।

গ্রামের লিটন হাজারী সহ কয়েকজন বলেন, ১১ জনের মুসলমান নিবন্ধন থাকার পরও শুক্রবার মিজানুর রহমান আজহারী মাহফিলে মনির হোসেনকে সংকর অধিকারী, তার স্ত্রী রেখা অধিকারী ও সুজাতা অধিকারী, সন্তান মরিয়মকে মিতালী, শ্যাফালীকে শ্যাফালী বেগম, মারিয়াকে রুপালী, নুসরাতকে কোয়েল, জান্নাতকে শ্যামলী, আঃ করিমকে রাজা, আয়েশা কে সুমা, আবদুল্লাকে রাজেস এবং নাতী আঃ রহমানকে সুর্য দেখিয়ে ধর্মান্তর ঘোষণা দেয়।

এব্যাপারে জানতে চাইলে মনির হোসেন বলেন, আমি ভারতে থাকাবস্থায় সংকর অধিকারী পরিচয় দিতাম। দেশে ফিরে পুর্বের পরিচয় দিয়ে একটি অটোরিক্সা চালিয়ে দুই স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে জীবন-যাপন করছি।

মাহফিল পরিচালনা কমিটির আহবায়ক ও রায়পুর এল এম হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান বলেন, তারা যে আগে থেকেই মুসলমান ছিল এ বিষয়ে আমাদের জানা ছিল না। মাহফিলের পরে বিষয়টি আলোচনা আসার পরে বিস্মিত হয়েছি। পুলিশ ওদের আটক করে হেফাজতে রেখেছে। বিভিন্ন সংস্থা তদন্ত করছে। এই মুহুর্তে আমি বেশি কিছু বলতে পারবো না।

স্থানীয়রা জানায়, তারা এফিডেভিটের মাধ্যমে পূর্বেই মুসলমান হয়েছে। মাহফিলে এসে শুধু মাত্র কালেমা পড়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে মুসলমান হয়েছে।

উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টন ঐক্য পরিষদের সভাপতি অপুর্ব কুমার সাহা বলেন, মা ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মেম্বার, সন্তানেরা মাদ্রাসাতে পড়ে, বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছে, জম্মনিবনন্ধনে সবার পরিচয় মুসলমান হওয়ার পরেও কী ভাবে মাহফিলে গিয়ে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে মুসলমান ধর্ম গ্রহন করে। বিষয়টি কেন্দ্রে জানানো হয়েছে। কেন্দ্রের নির্দেশনা পাওয়ার পরে পরবর্তি কর্মসুচি ঘোষনা করা হবে।

রামগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন জানান, ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর ১১জনকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। বিষয়টি রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত এর উপর ভিত্তি করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য: গত শুক্রবার রাতে রামগঞ্জ উপজেলার হাজীপুর পাটোয়ারীর বাড়ি প্রাঙ্গণে আয়োজিত তাফসিরুল কোরান মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

-মোঃ সোহেল রানা