খাদিজার মৃতদেহ। ছবি : সংগৃহীত

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ইশ্বরীপুর ইউনিয়নের নজরুল ইসলাম গাজীর মেয়ে খাদিজা। বুধবার বিকেলে আকস্মিক ঘরের মধ্যে গলায় কাপড়ের ফাঁস দিয়ে  আত্মহত্যা করে।

মৃত্যুর আগে ঘরের দেওয়ালে চক দিয়ে মা-বাবার প্রতি অভিমান করে মৃত্যুর কথা লিখে রেখে যায় বলে পুলিশ জানায়।

ঘরের দেওয়ালে লেখা চিরকুট।ছবি:সংগৃহীত

একপাশের বেড়া দিয়ে মাটির তৈরি দেওয়ালে খাদিজা লেখেন, ‘মা বাবার জন্য আমি জীবন দিয়েছি। এই মা বাবা কষ্ট দিতেছে। আমার মা-বাবা খারাপ।’ অন্যপাশের দেওয়ালে লেখেন, ‘আমার মা বাবা খারাপ।’

স্থানীয়দের দেওয়া সংবাদের পর বেলা সাড়ে ৩টার দিকে সপ্তম শ্রেণির এই মাদরাসা ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করে শ্যামনগর থানা পুলিশ।

শ্যামনগর থানা পুলিশের উপ পরিদর্শক রোকন মিয়া আজকের পত্রিকাকে জানান, মেয়েটির মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যায়নি। তবে মেয়েটির পরিবারের সদস্যরা বলছেন, খাদিজার মৃগী রোগ ছিল। ঘরের মধ্যে কাপড় প্যাঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্নহত্যা করে মেয়েটি। শরীরের কোথাও আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর আরও বিস্তারিত জানা যাবে।

ঘরের দেওয়ালে লেখা চিরকুট।ছবি:সংগৃহীত

মৃত্যুর আগে ঘরের দেওয়ালে লেখা চিরকুটের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘খাদিজা মাদরাসায় পড়ে। তবে দুই মাস ধরে মাদরাসাতে যায়নি। কী করণে ঘরের দেওয়ালে মা-বাবার প্রতি ক্ষোভ ও অভিমানের কথা লিখেছে সেটি জানা যায়নি। পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদেও কোনো তথ্য মেলেনি। আত্নহত্যার রহস্য তারাও বলতে পারছেন না। এছাড়া পরিবারটিও অসহায়। মেয়েটির বাবা ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।’

ঘটনার বিষয়ে জানতে মেয়েটির পরিবার ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

আজকের পত্রিকা/বৈশাখী,সাতক্ষীরা/রাফাত