মায়ের আদরে সিনেটর শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দন। ছবি : সংগৃহীত

এই মমতাময়ী স্বর্ণগর্ভা মায়ের নাম হাজেরা খাতুন। বয়স ৯৩ বছর। থাকেন কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার সরারচর গ্রামে।

যে কীর্তিমান সন্তানের কারণে তাকে রত্নগর্ভা বলা হচ্ছে তিনি আর কেউ নন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রভাবশালী সিনেটর শেখ মুজাহিদুর রহমান। গত নভেম্বরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেটর নির্বাচিত হন। সরারচরে গ্রামের বাড়িতে মা সৈয়দা হাজেরা খাতুন বসবাস করেন। মূলত তাকে দেখার জন্যই এবার তিনি গ্রামের বাড়িতে এসেছেন।


জার্জিয়ার সিনেটর হিসেবে শপথ নিচ্ছেন কিশোরগঞ্জের গর্ব শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দন। ছবি : সংগৃহীত

বড় ছেলে শেখ মুজাহিদুর রহমান সিনেটর নির্বাচিত হওয়ায় তার চেয়ে বেশি আনন্দিত আর কেউ হয়নি জানিয়ে হাজিরা খাতুন বলেন, আমার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আমি মনে করি আমার ছেলে একদিন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবে। হয়তো সেদিন আমি থাকব না।

দীর্ঘদিন পর মাকে কাছে পেয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি সিনেটর মুজাহিদুর রহমান চন্দনও। বলেন, মূলত মাকে দেখার জন্যই ছুটে আসা। ৬ বছর আগে একবার দেশে এসেছিলাম। তবে এবারের আসাটা একেবারেই ভিন্ন। প্রায় ৩৯ বছর পর এই প্রথমবারের মতো দীর্ঘ সময় গ্রামের বাড়িতে সব ভাই-বোনদের একসঙ্গে দেখা ও তাদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ হয়েছে।

সিনেটর নির্বাচিত হওয়ায় এলাকাবাসী চন্দনকে সংবর্ধনা দেন। সিনেটর নির্বাচিত হওয়ায় বুধবার সন্ধ্যায় বাজিতপুরের সরারচর এলাকায় তার নিজের বাড়িতে এ সংবর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়। সংবর্ধনার জবাবে সিনেটর শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দন বলেন, এলাকাবাসীর এ ঋণ কোনোদিন শোধ করতে পারবো না।

শেষে চন্দন বলেন, তিনি আবার ফিরবেন। মায়ের টানে, মাটির টানে। আর বাংলাদেশের এই গর্বের ধনকে বরণে সব সময়ই প্রস্তুত থাকবে এই মাটি।

আজকের পত্রিকা/এমএইচএস