দেখতে দেখতে চলে গেলো পবিত্র রমজান মাসের রহমতের দশটি দিন। মাহে রমজানের অফুরান বরকতের এ ১০টি দিনে কতটা সওয়াব হাসিল করতে পারলাম আমরা? পুণ্যের পাল্লা কতটা ভারী করতে পারলাম, সেই হিসাব করা দরকার প্রত্যেকের।

পবিত্র এ মাসের অপার রহমত থেকে বঞ্চিত হচ্ছি না তো? যদি আল্লাহতায়ালার দয়া না পায় কেউ, যদি ক্ষমা না পায় তার, তবে কে আছে ওই ব্যক্তির চেয়ে বড় হতভাগা!

হজরত আম্মার ইবনে ইয়াসের (রা) বর্ণনা করেন, একদিন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরে ওঠার সময়ে প্রথম সিঁড়িতে পা রেখে বললেন, আমিন, দ্বিতীয় সিঁড়িতে পা রেখে আবার বললেন, আমিন, তৃতীয় সিঁড়িতেও পা রেখে বললেন, আমিন। এভাবে তিনবার আমিন বলায় উপস্থিত সাহাবায়ে কেরাম জানতে চাইলেন, হে আল্লাহর রাসুল (স) এর কারণ কী? জবাবে রাসুল (স) বললেন, আমি যখন মিম্বরের প্রথম সিঁড়িতে পা রাখলাম, তখন জিবরাইল আমিন এসে আমাকে জানালেন, যে ব্যক্তি আপনার নাম শুনেও দরুদ পাঠ করে না, তার প্রতি আল্লাহর লানত; আমি বললাম, আমিন।

তিনি আবার বললেন, যে ব্যক্তি মা-বাবা দুজনকে কিংবা একজনকে বৃদ্ধ বয়সে পেয়েও তাদের খেদমত করে জান্নাতের উপযুক্ত হতে পারল না, তার প্রতি আল্লাহর লানত। আমি বললাম, আমিন। এর পর জিবরাইল আরও বললেন, যে ব্যক্তি রমজান পেল; কিন্তু রমজান বিদায় হয়ে গেল এ অবস্থায় যে, সে ক্ষমা লাভ করতে পারল না, তার প্রতিও আল্লাহর লানত; আমি বললাম, আমিন। অতএব ভাবুন, নিজেকে প্রশ্ন করুন, নিজের মুক্তির জন্য রমজানকে কাজে লাগাতে পারছেন তো? যদি এমন হয় যে, রমজান এসে চলে গেল আর আপনি তার রহমত থেকে নিজেকে বঞ্চিত করলেন, তবে এর পরিণাম কতই না ভয়াবহ। আর যদি রমজানকে গনিমত মনে করে, এর হক যথাযথভাবে আদায় করে থাকেন, তবে আপনার চেয়ে বড় সৌভাগ্যবান আর কে!

রমজান মাসে রবের ক্ষমালাভের জন্য বেশি বেশি এস্তেগফার পড়ুন। পাশাপাশি পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করুন। কালামুল্লাহ থেকে যতটা পড়বেন, যা পড়বেন; তাতেই রয়েছে অফুরান সওয়াব। তার পরও কিছু সূরা এবং আয়াতের ব্যাপারে রাসুল (স) অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। হজরত সাহল ইবনে মুআজ (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুল (স) বলেন, যে ব্যক্তি সুরায়ে কাহাফের প্রথম এবং শেষ আয়াত তেলাওয়াত করবে, তার জন্য মাথা থেকে পায়ের নিচ পর্যন্ত একটি নূর হবে। আর যে ব্যক্তি পুরো সূরাটি তেলাওয়াত করবে তার জন্য এমন এক নূর হবে, যার পরিধি জমিন থেকে আসমান পর্যন্ত। (মুসনাদে আহমদ)।

হজরত আবু দারদা (রা) বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সূরায়ে কাহাফের প্রথম ১০টি আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জালের অনিষ্ট থেকে মুক্ত থাকবে। (মুসলিম ও আবু দাউদ)।

সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত পাঠের ফজিলত সম্পর্কে হজরত মাকাল ইবনে ইয়াসার (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি সকালবেলা তিনবার পড়বে ‘আউজুবিল্লাহিস সামীয়ুল আলীমি মিনাশ শাইত্বনির রজীম’, তারপর সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত তিলাওয়াত করবে, আল্লাহতায়ালা ওই ব্যক্তির জন্য ৭০ হাজার ফেরেস্তা নিযুক্ত করেন, যারা তার জন্য মাগফিরাতের দোয়া করতে থাকেন সন্ধ্যা পর্যন্ত।

আর এ সময়ের মাঝে যদি লোকটি মারা যায়, তা হলে সে শহীদের মৃত্যু লাভ করে। আর যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় পড়বে, তার জন্যও রয়েছে একই মর্যাদা। (সুনানে তিরমিজি)।

রোজাসংক্রান্ত মাসআলা যা সাধারণত আহারযোগ্য নয় বা কোনো উপকারে আসে না, তা খেলেও রোজা ভেঙে যাবে এবং কাজা করতে হবে। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, পেটে কোনো কিছু প্রবেশ করলে রোজা ভেঙে যায়। কোনো কিছু বের হওয়ার দ্বারা রোজা ভাঙে না। (সহি বোখারি)

আজকের পত্রিকা/মির/এমএআরএস