রাবির আইবিএ ভবন

স্নাতক কোর্স চালুর চার বছর পেরিয়েছে। তবে এখনো আবাসন সুবিধা পাচ্ছেন না রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যসব বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা এই সুবিধা পেলেও বঞ্চিত হচ্ছে আইবিএ’র প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী। এর ফলে নানামুখী ভোগান্তিতে পড়ছেন এই ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা।

২০০২ সালে যাত্রা শুরু করা ইনস্টিটিউটির একাডেমিক কার্যক্রম শুরু ২০০২ সালে এমবিএ (সান্ধ্য) প্রোগ্রাম শুরুর মাধ্যমে। ২০১৫-১৬ সেশন থেকে আইবিএর নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী স্বতন্ত্রভাবে অনার্স (সম্মান) কোর্স চালু করা হয়। ফলে, বর্তমানে চারটি বর্ষের প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী এই ইনস্টিটিউটের অধীনে অধ্যয়নরত রয়েছেন, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের জন্য কোনো আবাসন সুবিধা নেই। বাধ্য হয়ে কোনো মেস বা বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩৫ হাজার শিক্ষার্থীর আবাসন সুবিধার আওতায় আছে প্রায় নয় হাজার শিক্ষার্থীর। অনার্স কোর্স চালু থাকা সকল বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা এই সুবিধা পেলেও পাচ্ছে শুধুমাত্র আইবিএ’র শিক্ষার্থীরা। তাদের জন্য নানা সময় পৃথক হল তৈরির প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও নেই কোনো দৃম্যমান উদ্যোগ। ফলে ইনস্টিটিউটের অনেক শিক্ষার্থী বলছেন, পৃথক হল তৈরি সম্ভব না হলে তাদেরকে যেনো অন্য সকল হলগুলোতে আবাসিক সুবিধা দেয়া হয়।

আইবিএ’র শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা কোনো হোস্টেল সুবিধা পাচ্ছি না। আমাদের থাকতে হচ্ছে ক্যাম্পাসের বাইরে, মেসে। আমাদের মধ্যেই আর্থিকভাবে দূর্বল শিক্ষার্থী আছে যাদের পড়াশুনার খরচ চালাতেই বেশ কষ্ট হয়। তার উপর হোস্টেল সুবিধা না থাকায় তাদের উপর প্রচুর চাপ পরে। চার বছর পেরিয়ে গেলেও আমরা ক্যাম্পাসে থাকার সুবিধা টুকু পাই না। মেসের অতিরিক্ত ভাড়া, মেসমালিকদের দূর্ব্যবহার আর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে বিভিন্ন আর্থিক ও মানসিক সমস্যা ভুগে ভুগে চলছে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবন।

আইবিএ’র একাাধিক নারী শিক্ষার্থী বলেন, হল না থাকায় আমাদের মেয়েদের সবচেয়ে বেশি যে সমস্যাটা হয় সেটা হলো নিরাপত্তার সমস্যা। এছাড়া আমাদের এখানে সেমিস্টার ফি তুলনামূলক বেশি হওয়ার কারনে বাইরে মেসে থাকা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. এ কে শামসুদ্দোহা বলেন, আাইবিএর একাডেমিক ভবনটি আমরা নিজস্ব অর্থায়নে করেছি৷ নিজস্ব অর্থায়নে হল করার মতো অবস্থা এখন আমাদের নেই। এ ব্যাপারে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য আনন্দ কুমার সাহা বলেন, আইবিএ শিক্ষার্থীদের হলের ব্যপারটি আমার জানা নেই। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, তারা যেহেতু একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, তাদের হলের সুবিধা পাওয়াটা যৌক্তিক।

এমএ জাহাঙ্গীর/রাবি