আবারও পার্লামেন্টে হেরে গেলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। আগামী ১৫ অক্টোবর ব্রিটেনে আগাম নির্বাচনের লক্ষ্যে পার্লামেন্টে বরিস জনসন একটি প্রস্তাব রাখেন। ওই প্রস্তাব পাশের জন্য ৪ সেপ্টেম্বর বুধবার একটি ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু হাউস অব কমন্সের এমপিরা ভোটে তার বিরোধিতা করেছেন। ফলে পর পর দু’বার পার্লামেন্টে এমপিদের কাছে হেরে গেলেন তিনি।

আগাম নির্বাচনের প্রস্তাবে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় তা খারিজ হয়ে গেছে। এর আগে সংসদ সদস্যরা চুক্তি ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি আটকে দিয়ে একটি বিল পাশ করেন। এই বিলটি এনেছে বিরোধী দলগুলো। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির একদল বিদ্রোহী এমপি।

ব্রেক্সিট নিয়ে ব্রিটেনে রাজনৈতিক সংকট যে রকম পরিস্থিতিতে পৌঁছেছে তা সাম্প্রতিক সময়ে নজিরবিহীন ঘটনা। এই বিলের মাধ্যমে ব্রেক্সিট প্রশ্নে সরকারের ভূমিকা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

এই বিলের মাধ্যমে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন যদি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি সমঝোতা পার্লামেন্টে নিয়ে আসতে না পারেন, তাহলে তাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে ফিরে যেতে হবে এবং অনুরোধ জানাতে হবে যে ব্রেক্সিটের সময়সীমা যেন ২০১৯ সালের ৩১শে জানুয়ারি পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়।

এই অনুরোধ জানানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ইউরোপীয় ইউনিয়নে যে চিঠি পাঠাবেন, তার ভাষা কী হবে তা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে এই বিলের মাধ্যমে।

চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিট আটকে দিয়ে পার্লামেন্টে যে বিল পাশ করা হয়েছে সেটি এক অর্থে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে আত্নসমর্পন বলে বর্ণনা করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। এই বিল পাশ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন আগামী ১৫ই অক্টোবর নির্বাচনের প্রস্তাব আনেন।

কিন্তু ব্রিটেনে নিয়ম অনুযায়ী, একটি পার্লামেন্ট যে মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হবে সে মেয়াদ পর্যন্ত থাকতে হবে। যদি আগাম নির্বাচন করতে হয় তাহলে দুই-তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্যের সমর্থন লাগবে। কিন্তু আগাম নির্বাচনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন পেতে ব্যর্থ হয়েছে।

এর আগে আগাম নির্বাচনের প্রস্তাব রেখে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেন, ‘সরকারের আনা একের পর এক প্রস্তাব যদি পার্লামেন্ট পাস না করে, তবে সরকার পরিচালনা করা পুরোপুরি অসম্ভব। সংসদীয় গণতন্ত্রে এটা নজিরবিহীন যে সরকার নির্বাচন দিতে চাইছে আর বিরোধী দল সেটা প্রত্যাখ্যান করছে।’

আজকের পত্রিকা/সিফাত