খ্যাতিমান গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক এবং বাদ্যযন্ত্রশিল্পী আলাউদ্দীন আলীর শরীরে আবারও হানা দিয়েছে মরণব্যাধি ক্যানসার। ১৭ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার প্রয়োজনীয় পরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাঁর ফুসফুসে নতুন করে টিউমারের অস্তিত্ব দেখা গেছে। পাশাপাশি তাঁর যকৃতেও টিউমার পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে এ গুণী শিল্পীর শারীরিক অবস্থা ক্রমশই অবনতি হচ্ছে।

এরই মধ্যে থাইল্যান্ডের স্যামিটিভেজ সুকুমভিত হাসপাতাল ও ব্যাংকক হাসপাতালে আলাউদ্দীন আলীর পরীক্ষার সব রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। এসব রিপোর্ট দেখে ওই হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তাকে দ্রুত সেখানে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। ভিসার জন্য আবেদনও করা হয়েছে। ভিসা পাওয়ার পর আগামী সপ্তাহে আলাউদ্দীন আলীকে থাইল্যান্ডে নিয়ে যাওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ২২ জানুয়ারি রাতে বরেণ্য গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর বাড্ডার বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়েন আলাউদ্দীন আলী। তখন তাঁর খুব শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে পারছিলেন না। পাশাপাশি তাঁর উচ্চমাত্রায় জ্বর ছিল। কাশ হচ্ছিল। সবকিছু মিলিয়ে অবস্থা জটিল আকার ধারণ করে। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) তাঁকে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি ঘটলে ২৫ জানুয়ারি সকালে তাঁকে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়। ৭৭ দিন চিকিৎসার পর তাঁর অবস্থার উন্নতি হয়। গত ৮ এপ্রিল তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান। এর পর তাঁকে ফিজিওথেরাপি নেওয়ার জন্য মিরপুরে সিআরপিতে ভর্তি করা হয়।

এর আগে ২০১৫ সালের ৩ জুলাই আলাউদ্দীন আলীকে ব্যাংকক নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষার পর জানা যায়, তাঁর ফুসফুসে একটি টিউমার রয়েছে। তখন আলাউদ্দীন আলী প্রথম আলোকে জানিয়েছিলেন, টিউমারটি হৃদযন্ত্রের কাছাকাছি হওয়ায় এর অস্ত্রোপচার বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। তবে বিকল্প হিসেবে রেডিওথেরাপি ও কেমোথেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা হয়।

আজকের পত্রিকা/সিফাত