বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ করছেন নটরডেম কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা ‘বিচার বিচার বিচার চাই, আবরার হত্যার বিচার চাই’ স্লোগানে মুখর করে তুলছেন রাজধানীর ব্যাংকপাড়া মতিঝিল।

১৫ অক্টোবর মঙ্গলবার দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত মতিঝিল শাপলা চত্বরের সামনে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। নটরডেম কলেজের সঙ্গে ভিকারুননেসা কলেজসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও এতে অংশ নেন।

বিক্ষোভকালে শিক্ষার্থীরা আবরার হত্যার খুনিদের গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

‘বিচার বিচার বিচার চাই আবরার হত্যার বিচার চাই’, ‘পরের গোলামি করি না, করব না’, ‘দেশকে ভালোবাসা যদি অপরাধ হয় তাহলে আমরা হাজারবার অপরাধ করতে রাজি’, ‘চল যাই যুদ্ধে র‌্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে’, ‘আমার ভাইয়ের নিরাপত্তা কে দেবে?’, ‘জীবিত ভাইয়ের ঘরে ফেরা দেখতে চাই, মৃত্যু নয়’ ইত্যাতি স্লোগানে মুখর করে তোলেন তারা।

শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরারের নিরাপত্তা দিতে পারেনি। আমাদের নিরাপত্তা কে দেবে। এখন পর্যন্ত সব খুনি গ্রেফতার হয়নি কেন? আমরা খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। র‌্যাগিংয়ের নামে অন্যায় আচরণ বন্ধ চাই। আমরা আবরার হত্যাসহ শিক্ষাঙ্গনে সব হত্যার বিচার চাই। শিক্ষাঙ্গনে লেখাপড়ার সুস্থ পরিবেশ চাই। এ দাবিতেই আমাদের এ শান্তিপূর্ণ আন্দোলন।

ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেয়ার জেরে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে গত ৬ অক্টোবর রাতে ডেকে নিয়ে যায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। এরপর রাত ৩টার দিকে শেরেবাংলা হলের নিচতলা ও দোতলার সিঁড়ির করিডোর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরদিন ৭ অক্টোবর সোমবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে আবরারের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। নিহত আবরার বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন।

এ ঘটনায় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে চকবাজার থানায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগ।

আজকের পত্রিকা/কেএফ