আবরার হত্যার প্রতিবাদে ফরিদপুরে বিএনপির সমাবেশে পুলিশের বাধা

ফরিদপুরে বিএনপিকে নির্ধারিত জনসভা করতে দেয়নি পুলিশ। শহরের প্রাণকেন্দ্র ঝিলটুলীর ঐতিহাসিক অম্বিকা ময়দানে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

বিকেল সোয়া তিনটার দিকে সেলিমা রহমান নেতা-কর্মীদের নিয়ে জনসভার মাঠে ঢোকার চেষ্টা করলে তাদের ফিরিয়ে দেয় পুলিশ। পরে শহরের গোয়ালচামট মহল্লায় অবস্থিত পানিউন্নয়ন বোর্ডের রেস্ট হাউসে সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে ছাত্রলীগ ক্যাডাররা পিটিয়ে হত্যা করা এবং ভারতের সাথে দেশবিরোধী অসম চুক্তির প্রতিবাদে আজ শনিবার দেশের সকল মহানগর ও জেলা শহরে এ প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেন কেন্দ্রীয় বিএনপি। তারই অংশ হিসেবে ফরিদপুরে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

বিকেল ৪টার দিকে বিএনপির এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের রেস্ট হাউসে।

সংবাদ সম্মেলনে সমাবেশ করতে না দেওয়ার ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে সেলিাম রহমান বলেন, ছাত্রলীগ ক্যাডারদের হাতে নিহত এক মেধাবী ছাত্রের হত্যার প্রতিবাদ ও দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে ভারতের সাথে চুক্তি করার প্রতিবাদে এ সামবেশ করার উদ্যোগ নেই। আমাদের প্রথমে অনুমতি দেওয়া হয়, পরে অনুমতি বাতিল করা হয়। সেলিমা রহমান বলেন, এভাবে দিন যাবে না। দিন পাল্টাবে। জনগণকে দাবিয়ে রাখা যাবেনা।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ বলেন, সকাল ১০টা ১১টা পর্যন্ত আমরা জানতাম মিটিং করতে দেওয়া হবে। দুপুর ১২টার সময় শুনলাম মিটিং করতে দেওয়া হবেনা।এক পুলিশ কর্মকর্তা তাকে বলেন, ‘তাঁর জীবন থাকতেও তিনি জনসভা করতে দেবেন না’।

বিএনপির ফরিদপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ বলেন, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সাথে সারা দেশের মত আমরা ফরিদপুরে সমাবেশ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের সমাবেশ করতে দেওয়া হলো না। এতে প্রমাণ হয় আবরার হত্যাসহ, সকল খুন, গুম এর পিছনে হাত রয়েছে এই স্বৈরাচারী সরকারের।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোদাররেছ আলী, ঢাকা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, ফরিদপুর বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার মাশুকুর রহমান, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির গণ শিক্ষা বিষয়ক সাবেক সহসম্পাদক মাহবুবুররহমান, সাবেক সাংসদ খন্দকার নাসিরুল ইসলাম, সাবেক সংরক্ষিত সাংসদ ইয়াসমিন আরা হক, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রশিদুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি শহীদ পারভেজ প্রমুখ।

বিএনপিকে জনসভা করতে না দেওয়ার ব্যাপারে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল পাশার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, জনসভা করতে হলে জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু পরে আমরা জানতে পারি বিএনপি নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে জনসভা করার জন্য কোন অনুমতি নেয়নি। একারনে তাদের সমাবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

ইয়াকুব আলী তুহিন/ফরিদপুর